শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনৈতিক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জাল এমপিওভুক্তি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও প্রভাব খাটানোসহ মোট ছয়টি অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২)-কে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন যুগ্মসচিব সাইদুর রহমান এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন যুগ্মসচিব আহমেদ শিবলী।
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আহমেদ শিবলী সাংবাদিকদের বলেন, “কমিটি গঠন করা হয়েছে, তবে এখনো তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
”দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অনুপস্থিতির অভিযোগ:
অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—
নিজের লেখা বই প্রকাশের নামে অর্থ লেনদেন, জালিয়াতি ও চাঁদাবাজি, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং ছয়জন শিক্ষককে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত করা।
এছাড়া, অনুমতি ছাড়া নিজ উদ্যোগে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পটুয়াখালী সরকারি কলেজে অধ্যাপনার সময় ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত টানা ৯০ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ শিরোনামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
জামালপুরে ভুয়া নিয়োগ ও এমপিও কেলেঙ্কারি:
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি এসেছে জামালপুরের সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মুহাম্মদ ২০২৩ সালে ছয়জনকে ব্যাকডেট দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগ দেন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও মার্চে এমপিওভুক্ত করান। এদের কেউই শিক্ষক নিবন্ধনধারী নন এবং বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও অডিট রিপোর্টে তাদের নাম নেই।
তদন্তে উঠে এসেছে, এসব শিক্ষক কখনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেননি। এমনকি শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে এমপিও ফাইল পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগে জানান, “ভুয়া শিক্ষকদের বেতন আমি ছাড় করিনি। তবু পরিচালক অধ্যাপক কাইয়ুম আমার অনুমতি ছাড়াই ইএমআইএস সেলের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ইএফটির মাধ্যমে তাদের বেতন প্রেরণ করেন।”
তিনি আরও জানান, ১৮ জুন পরিচালক শিশির ফোনে তাকে হুমকি দেন এবং একদিনের আল্টিমেটাম দেন বেতন ছাড়ের জন্য। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে মাউশিতে জানান।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয় মাউশিতে। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়টি দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের পথে। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রচার করছে—“মাউশির এক পরিচালককে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে।”
নিজেকে নির্দোষ দাবি অধ্যাপক শিশিরের:
অভিযোগ অস্বীকার করে মাউশি পরিচালক অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশির বলেন,
“মাউশির ডিজি হওয়ার দৌড়ে আমি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছি। এজন্যই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমার শাখায় বদলি, এমপিওভুক্তি বা এ ধরনের কোনো কাজ হয় না। ইএফটির বেতন কাজ করে ইএমআইএস সেল, আমি তাদের সঙ্গে যুক্ত নই। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তদন্তে মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থানে:
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কারণে শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা বলেন, “দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন অত্যন্ত জরুরি।”
Reporter Name 

























