ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার লাভ করছে মেটা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯৪ বার

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি মেটা প্ল্যাটফর্মস। যার অধীনে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সব সামাজিক মাধ্যম। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার মোট বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে ভুয়া ও প্রতারক বিজ্ঞাপন থেকে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ (যা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) এসেছে এই ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে মেটা অবৈধ জুয়া, ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম এবং নিষিদ্ধ ওষুধের প্রচার ঠেকানোর জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব বিজ্ঞাপন সাধারণত এমন পণ্য বা সেবা প্রচার করে, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন, এবং এতে অনেক ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হন।

মেটার একটি স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, তবে কোম্পানি তখনই কোনো বিজ্ঞাপনদাতার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে, যখন তারা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হয় যে বিজ্ঞাপনটি প্রতারণামূলক। এর আগে মেটা সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে, আর বিজ্ঞাপনগুলো চালু রাখে। এর ফলে মেটার আয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, এই প্রতিবেদনটি মেটার নীতির ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তিনি দাবি করেছেন, গত ১৮ মাসে মেটা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত ব্যবহারকারীর অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং ১৩ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া বিজ্ঞাপন সরিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মেটা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিত, তবে তারা বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, মেটার কাছে রাজস্ব আয়ই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এতে ব্যবহারকারীর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রযুক্তিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মেটা এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস হারাতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার লাভ করছে মেটা

আপডেট টাইম : ০৭:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি মেটা প্ল্যাটফর্মস। যার অধীনে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সব সামাজিক মাধ্যম। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার মোট বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে ভুয়া ও প্রতারক বিজ্ঞাপন থেকে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ (যা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) এসেছে এই ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে মেটা অবৈধ জুয়া, ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম এবং নিষিদ্ধ ওষুধের প্রচার ঠেকানোর জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব বিজ্ঞাপন সাধারণত এমন পণ্য বা সেবা প্রচার করে, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন, এবং এতে অনেক ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হন।

মেটার একটি স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, তবে কোম্পানি তখনই কোনো বিজ্ঞাপনদাতার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে, যখন তারা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হয় যে বিজ্ঞাপনটি প্রতারণামূলক। এর আগে মেটা সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে, আর বিজ্ঞাপনগুলো চালু রাখে। এর ফলে মেটার আয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, এই প্রতিবেদনটি মেটার নীতির ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তিনি দাবি করেছেন, গত ১৮ মাসে মেটা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত ব্যবহারকারীর অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং ১৩ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া বিজ্ঞাপন সরিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মেটা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিত, তবে তারা বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, মেটার কাছে রাজস্ব আয়ই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এতে ব্যবহারকারীর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রযুক্তিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মেটা এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস হারাতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।