ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৩ বার

যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) প্রভাব পড়েছে আকাশপথে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হয়েছে। কারণ, নতুন সরকারি নির্দেশনায় এয়ারলাইনগুলোকে ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে বাধ্য করা হয়েছে।

শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই জরুরি আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইট ৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।

এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বেতনহীন অবস্থায় কর্মরত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারসহ অপরিহার্য সরকারি কর্মীদের ওপর চাপ কমানো। শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা জীবিকা নির্বাহে অন্য কাজ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই শাটডাউন দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম। এতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের মতো অপরিহার্য কর্মীরা বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেকে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক ড্যানিয়েলস বলেন, আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা নিজের পকেটের টাকা ঢালতে পারি না—সরকার চালু করাই একমাত্র সমাধান।

পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনো তেমন প্রভাবিত হয়নি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট রুট বজায় রাখতে বাধ্য। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে ফ্লাইট কর্তন ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিমানবন্দরে ভোগান্তি

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, বিলম্ব বার্তা আর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে।

ডেল্টা, ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য বিনা ফিতে টিকিট পরিবর্তন বা রিফান্ডের সুযোগ দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে আটলান্টা যাচ্ছিলেন যাত্রী জো সুলিভান। তিনি জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই ফ্লাইট বাতিলের খবর পাই। নতুন ফ্লাইট পাওয়া গেছে ১২ ঘণ্টা পর পরের দিন সকালে। বিয়েতে যেতে পারব হয়তো, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আগেভাগে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।

এক যাত্রী জানান, সম্ভাব্য বাতিল ঠেকাতে তিনি ৩০০ ডলারের ট্রেন টিকিট কিনেছেন—যা দিয়ে সাত ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যেখানে ফ্লাইটটি মাত্র এক ঘণ্টার ছিল।

ফেডারেল কর্মী আরিয়ানা জাকোভলজেভিচ বলেন, আমি সদ্য কলেজ শেষ করে প্রথম চাকরি শুরু করেছি। এখন শাটডাউনের কারণে বেতন বন্ধ। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

৩৮ দিন ধরে চলা শাটডাউনের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চিত। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি কিছু আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।

শুক্রবার ডেমোক্র্যাটরা একটি নতুন তহবিল বিল প্রস্তাব করেছেন, তবে রিপাবলিকান সমর্থন না থাকায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন সিনেটে কোনো বিল পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিবাস্টার নিয়ম বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিল পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ প্রস্তাবে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট, কারণ উভয় দলের বেশিরভাগ সিনেটরই নিয়ম পরিবর্তনের বিপক্ষে।

এ ঘটনায় ট্রাম্প শুক্রবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, ডেমোক্র্যাটদের শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেটের কাজ থামানো উচিত নয়। যদি চুক্তি না হয়, তবে রিপাবলিকানদের উচিত অবিলম্বে ফিলিবাস্টার বাতিল করা এবং আমেরিকার পরিশ্রমী জনগণের পাশে দাঁড়ানো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

আপডেট টাইম : ১০:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) প্রভাব পড়েছে আকাশপথে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হয়েছে। কারণ, নতুন সরকারি নির্দেশনায় এয়ারলাইনগুলোকে ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে বাধ্য করা হয়েছে।

শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই জরুরি আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইট ৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।

এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বেতনহীন অবস্থায় কর্মরত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারসহ অপরিহার্য সরকারি কর্মীদের ওপর চাপ কমানো। শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা জীবিকা নির্বাহে অন্য কাজ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই শাটডাউন দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম। এতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের মতো অপরিহার্য কর্মীরা বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেকে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক ড্যানিয়েলস বলেন, আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা নিজের পকেটের টাকা ঢালতে পারি না—সরকার চালু করাই একমাত্র সমাধান।

পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনো তেমন প্রভাবিত হয়নি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট রুট বজায় রাখতে বাধ্য। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে ফ্লাইট কর্তন ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিমানবন্দরে ভোগান্তি

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, বিলম্ব বার্তা আর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে।

ডেল্টা, ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য বিনা ফিতে টিকিট পরিবর্তন বা রিফান্ডের সুযোগ দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে আটলান্টা যাচ্ছিলেন যাত্রী জো সুলিভান। তিনি জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই ফ্লাইট বাতিলের খবর পাই। নতুন ফ্লাইট পাওয়া গেছে ১২ ঘণ্টা পর পরের দিন সকালে। বিয়েতে যেতে পারব হয়তো, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আগেভাগে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।

এক যাত্রী জানান, সম্ভাব্য বাতিল ঠেকাতে তিনি ৩০০ ডলারের ট্রেন টিকিট কিনেছেন—যা দিয়ে সাত ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যেখানে ফ্লাইটটি মাত্র এক ঘণ্টার ছিল।

ফেডারেল কর্মী আরিয়ানা জাকোভলজেভিচ বলেন, আমি সদ্য কলেজ শেষ করে প্রথম চাকরি শুরু করেছি। এখন শাটডাউনের কারণে বেতন বন্ধ। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

৩৮ দিন ধরে চলা শাটডাউনের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চিত। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি কিছু আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।

শুক্রবার ডেমোক্র্যাটরা একটি নতুন তহবিল বিল প্রস্তাব করেছেন, তবে রিপাবলিকান সমর্থন না থাকায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন সিনেটে কোনো বিল পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিবাস্টার নিয়ম বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিল পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ প্রস্তাবে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট, কারণ উভয় দলের বেশিরভাগ সিনেটরই নিয়ম পরিবর্তনের বিপক্ষে।

এ ঘটনায় ট্রাম্প শুক্রবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, ডেমোক্র্যাটদের শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেটের কাজ থামানো উচিত নয়। যদি চুক্তি না হয়, তবে রিপাবলিকানদের উচিত অবিলম্বে ফিলিবাস্টার বাতিল করা এবং আমেরিকার পরিশ্রমী জনগণের পাশে দাঁড়ানো।