ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত সেনাপ্রধান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৬ বার
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ সর্বদা দেশে-বিদেশে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। বিদেশের মাটিতে রাস্তা, কালভার্টসহ ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দেশেও এই কোর তাদের কর্মদক্ষতার নিদর্শন রেখে চলেছে। বাংলাদেশের যত বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার হয়েছে, যত বড় বড় কাজ হয়েছে, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ব্রিজ-কালভার্ট—এই কোর সেগুলো নির্মাণ করেছে।

গতকাল রবিবার কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান এবং বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসের ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিএসএমই) কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে নবম কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানকে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের নবম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সেনানীসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করেন। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরেন।সেনাপ্রধান বলেন, ‘কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের অত্যন্ত স্বনামধন্য কোর। এই কোরের অবদান প্রত্যেকে সর্বদা স্বীকার করে এবং সর্বদা স্বীকৃত।

এই কোরে অনেক সৌভাগ্যবান অফিসার কমিশন লাভ করেছেন। আমার আগে যাঁরা এই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ছিলেন তাঁরা অত্যন্ত স্বনামধন্য। সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল এইচ এম এরশাদ থেকে শুরু করে গত দুই সেনাপ্রধানও এই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ছিলেন।’সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা সমগ্র সেনাবাহিনী এই কোরের কাজে অত্যন্ত গর্বিত, এই কোরকে সমগ্র সেনাবাহিনী ভালোবাসে। কাজের মাধ্যমে এই কোর সেনাবাহিনীর মান-মর্যাদা অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে।

এমন একটা কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আমি আজ অভিষিক্ত হয়ে নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি। আমার কাজ হবে সর্বদা এই কোরের জন্য কাজ করে যাওয়া। এই কোরের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কার্যক্রম আমি চালিয়ে যাব। এই কোরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব।’তিনি আরো বলেন, ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আমি আশা করব, এই কোর তাদের শৃঙ্খলা ও কর্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের সর্বদা সচেষ্ট রাখবে। এ ছাড়া এই কোরের যে মান-মর্যাদা অর্জিত হয়েছে, সেটা সমুন্নত রাখবে।’

অনুষ্ঠানে প্যারেডের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একটি সুন্দর ও চমৎকার প্যারেড হয়েছে। প্যারেড পরিদর্শন করার সময় তোমাদের দেখে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে, সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে প্যারেড উপহার দিয়েছে। এ জন্য তোমাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান ইসিএসএমই পৌঁছলে তাঁকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ এবং ইসিএসএমই কমান্ড্যান্ট অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অধিনায়ক ও অন্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, বিআইআইএসএস মহাপরিচালক, চিফ কনসালট্যান্ট জেনারেল, অ্যাডহক কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট, ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়া এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, সেনা সদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, ইসিএসএমই কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের কমান্ডার, ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটসমূহের অধিনায়ক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত সেনাপ্রধান

আপডেট টাইম : ১১:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ সর্বদা দেশে-বিদেশে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। বিদেশের মাটিতে রাস্তা, কালভার্টসহ ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দেশেও এই কোর তাদের কর্মদক্ষতার নিদর্শন রেখে চলেছে। বাংলাদেশের যত বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার হয়েছে, যত বড় বড় কাজ হয়েছে, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ব্রিজ-কালভার্ট—এই কোর সেগুলো নির্মাণ করেছে।

গতকাল রবিবার কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান এবং বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসের ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিএসএমই) কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে নবম কর্নেল কমান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানকে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের নবম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সেনানীসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করেন। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরেন।সেনাপ্রধান বলেন, ‘কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের অত্যন্ত স্বনামধন্য কোর। এই কোরের অবদান প্রত্যেকে সর্বদা স্বীকার করে এবং সর্বদা স্বীকৃত।

এই কোরে অনেক সৌভাগ্যবান অফিসার কমিশন লাভ করেছেন। আমার আগে যাঁরা এই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ছিলেন তাঁরা অত্যন্ত স্বনামধন্য। সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল এইচ এম এরশাদ থেকে শুরু করে গত দুই সেনাপ্রধানও এই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ছিলেন।’সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা সমগ্র সেনাবাহিনী এই কোরের কাজে অত্যন্ত গর্বিত, এই কোরকে সমগ্র সেনাবাহিনী ভালোবাসে। কাজের মাধ্যমে এই কোর সেনাবাহিনীর মান-মর্যাদা অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে।

এমন একটা কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আমি আজ অভিষিক্ত হয়ে নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি। আমার কাজ হবে সর্বদা এই কোরের জন্য কাজ করে যাওয়া। এই কোরের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কার্যক্রম আমি চালিয়ে যাব। এই কোরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব।’তিনি আরো বলেন, ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আমি আশা করব, এই কোর তাদের শৃঙ্খলা ও কর্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের সর্বদা সচেষ্ট রাখবে। এ ছাড়া এই কোরের যে মান-মর্যাদা অর্জিত হয়েছে, সেটা সমুন্নত রাখবে।’

অনুষ্ঠানে প্যারেডের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একটি সুন্দর ও চমৎকার প্যারেড হয়েছে। প্যারেড পরিদর্শন করার সময় তোমাদের দেখে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে, সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে প্যারেড উপহার দিয়েছে। এ জন্য তোমাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান ইসিএসএমই পৌঁছলে তাঁকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ এবং ইসিএসএমই কমান্ড্যান্ট অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অধিনায়ক ও অন্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি, বিআইআইএসএস মহাপরিচালক, চিফ কনসালট্যান্ট জেনারেল, অ্যাডহক কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট, ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়া এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, সেনা সদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, ইসিএসএমই কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের কমান্ডার, ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটসমূহের অধিনায়ক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।