ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইঁদুর-পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক, কৃষকের মাথায় হাত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৪ বার
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আমন ক্ষেতে ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানগাছে এখন শীষ ধরার সময়। কিন্তু ক্ষেতে হঠাৎ ইঁদুর ও পোকার উপদ্রব বেড়ে গেছে।

রাতের অন্ধকারে ইঁদুর দলবেঁধে গাছ কেটে ফেলছে। আবার পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণে অনেক গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।সরেজমিনে রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার কান্দিউড়া ও গণ্ডা ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ওয়াশেরপুর, কমলপুর, চন্দগাতীসহ কয়েকটি গ্রামের হাওরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেতের ধানগাছে শীষ বের হওয়া শুরু হয়েছে। ধান গাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপুষ্ট।

কিন্তু অনেক ক্ষেতে ধানগাছ মরা দেখা গেছে। ইঁদুর ধান গাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় গাছগুলো মরে শুকিয়ে গেছে।কৃষকরা জানান, তারা ইঁদুর তাড়াতে নানা শব্দ করেন, ক্ষেতে বাঁশেরকঞ্চিতে রঙিন কাগজ টানিয়ে চেষ্টা করেন ইঁদুর তাড়ানোর। কিন্তু তা কাজে আসছে না।

কৃষি অফিসের লোকেরা বলেন ক্ষেতে ইঁদুর মারার বিষ দেওয়ার জন্য, কিন্তু বিষও মানতে চায় না।কান্দিউড়া গ্রামের হাদিছ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ফারুক মিয়া, মাসুম ভূঁইয়া, আবুল মিয়া; চন্দগাতী গ্রামের আজিজুল হক, কমলপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়া; ওয়াশেরপুর গ্রামের আরশ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিন খান প্রমুখের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধান গাছে মাত্র থোর (ধান) ধরতে শুরু করেছে। এসময় ইঁদুরের দল ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে।

ফলে গাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মরে যাচ্ছে। এখনই ইঁদুর দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না।উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের কাওড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মাহমুদ ও গণ্ডা গ্রামের সাইদুর মিয়া বলেন, ‘আমন ধান আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলনের জন্য সব পরিশ্রম এই ফসলে দিয়েছি। কিন্তু ইঁদুর আর পোকার আক্রমণে জমি প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছি। এখন যদি কৃষি বিভাগ সাহায্য না করে, তাহলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চলছে এবং কৃষকদের দ্রুত কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে ইঁদুর দমন অভিযানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগ নির্ণয় করে উঠান বৈঠক করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

হুমায়ুন দিলদার আরো বলেন, ‘হাওরে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষেতে ইঁদুরের ফাঁদ, বাঁশের চুঙি ও ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তার পরও কৃষকরা যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। আমরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ইঁদুর-পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক, কৃষকের মাথায় হাত

আপডেট টাইম : ১১:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আমন ক্ষেতে ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানগাছে এখন শীষ ধরার সময়। কিন্তু ক্ষেতে হঠাৎ ইঁদুর ও পোকার উপদ্রব বেড়ে গেছে।

রাতের অন্ধকারে ইঁদুর দলবেঁধে গাছ কেটে ফেলছে। আবার পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণে অনেক গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।সরেজমিনে রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার কান্দিউড়া ও গণ্ডা ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ওয়াশেরপুর, কমলপুর, চন্দগাতীসহ কয়েকটি গ্রামের হাওরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেতের ধানগাছে শীষ বের হওয়া শুরু হয়েছে। ধান গাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপুষ্ট।

কিন্তু অনেক ক্ষেতে ধানগাছ মরা দেখা গেছে। ইঁদুর ধান গাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় গাছগুলো মরে শুকিয়ে গেছে।কৃষকরা জানান, তারা ইঁদুর তাড়াতে নানা শব্দ করেন, ক্ষেতে বাঁশেরকঞ্চিতে রঙিন কাগজ টানিয়ে চেষ্টা করেন ইঁদুর তাড়ানোর। কিন্তু তা কাজে আসছে না।

কৃষি অফিসের লোকেরা বলেন ক্ষেতে ইঁদুর মারার বিষ দেওয়ার জন্য, কিন্তু বিষও মানতে চায় না।কান্দিউড়া গ্রামের হাদিছ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ফারুক মিয়া, মাসুম ভূঁইয়া, আবুল মিয়া; চন্দগাতী গ্রামের আজিজুল হক, কমলপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়া; ওয়াশেরপুর গ্রামের আরশ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিন খান প্রমুখের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধান গাছে মাত্র থোর (ধান) ধরতে শুরু করেছে। এসময় ইঁদুরের দল ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে।

ফলে গাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মরে যাচ্ছে। এখনই ইঁদুর দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না।উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের কাওড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মাহমুদ ও গণ্ডা গ্রামের সাইদুর মিয়া বলেন, ‘আমন ধান আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলনের জন্য সব পরিশ্রম এই ফসলে দিয়েছি। কিন্তু ইঁদুর আর পোকার আক্রমণে জমি প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছি। এখন যদি কৃষি বিভাগ সাহায্য না করে, তাহলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চলছে এবং কৃষকদের দ্রুত কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে ইঁদুর দমন অভিযানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগ নির্ণয় করে উঠান বৈঠক করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

হুমায়ুন দিলদার আরো বলেন, ‘হাওরে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষেতে ইঁদুরের ফাঁদ, বাঁশের চুঙি ও ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তার পরও কৃষকরা যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। আমরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।’