ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বশেষ মৌসুম ছিল ফিক্সিংয়ের সন্দেহে জেরবার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলা একাধিক ক্রিকেটার এর সঙ্গে যুক্ত বলে কানাঘুষা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটিও গঠন করে দেয় ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। সেই কমিটির জেরা চলাকালীন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) ফিক্সিংয়ের সন্দেহ প্রকাশ্য হয়ে যায় একটি ম্যাচে দুটি স্টাম্পিংয়ের ঘটনায়, যা এতটাই দৃষ্টিকটু ছিল যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতিবিরোধী বিভাগকে (আকু) তা নিয়ে তদন্তে নামার নির্দেশও দেয়।
মিনহাজুলের মোবাইল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আটটি অ্যাকাউন্টে তিন হাজার ২১৮ বার কথোপকথনের তথ্য পেয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। যেখানে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক রায়ান রাফসান এবং ‘ইমন ভাই’ নামে সেভ করা একটি নম্বরে বহুবার কথা হয়েছে মিনহাজুলের। তবে কিছু বার্তা মুছে ফেলেন দুজনই। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ২২৮টি লেনদেনের মাধ্যমে বেশ কিছু টাকার লেনদেনের তথ্যও মিলেছে। অবশ্য এর কোনোটিই ফিক্সিংয়ের সন্দেহকে জোরালো করার মতো নয়। সর্বোচ্চ লেনদেন ২০ হাজার ২৫৯ টাকার।
রহিমের মোবাইল থেকেও তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাননি তদন্তকারীরা। এই ক্রিকেটারও রায়ান রাফসান এবং ‘ইমন’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন বলে জানা যায়। তবে সন্দেহ ছিল একই নম্বরে ৩৮৯ বার কথা বলা নিয়ে। তা ছাড়া ইমনের সঙ্গে বার্তা-চালাচালির কৌশল নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব বার্তা ফিক্সিং কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেই নিশ্চিত করেছে ফরেনসিক বিভাগ। রহিমের মোবাইল ব্যাংকিংয়েও অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেন লক্ষ করা যায়নি। সর্বোচ্চ লেনদেন দুই হাজার ৬৪১ টাকা।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড় আলিফ হাসান ইমনের মোবাইলটি লক করা থাকলেও ফরেনসিকে সব তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানেও দেখা যায় ১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত রায়ান রাফসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। সর্বশেষ ছয় মাসে একটি নম্বরে সর্বাধিক ২৪৫ বার কথা হয়েছে এই ক্রিকেটারের। মোবাইল ব্যাংকিংয়েও অতিমাত্রার কোনো লেনদেন নেই। সর্বোচ্চ লেনদেন মাত্র তিন হাজার টাকার। অর্থাৎ তাঁদের দোষী প্রমাণ করার মতো কোনো উপাদানই পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 

























