ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপায় নতুন মোড়: আনিসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বহিষ্কৃতদের পুনর্বহাল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৫ বার

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার সুযোগে দলের ভেতর নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জিএম কাদের-বিরোধী অংশ গতকাল মঙ্গলবার এক সভায় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছে। একই সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জিএম কাদের যাদের বহিষ্কার করেছিলেন, তাঁদের সবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তকে জিএম কাদের অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, আদালতের আদেশে শুধু জিএম কাদের ও দপ্তর সম্পাদকের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

গত ৩০ জুলাই ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম এক আদেশে জিএম কাদের এবং দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও তাঁর অনুসারীরা গুলশানে এক সভায় মিলিত হন।

সভা শেষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জিএম কাদের কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করতে পারছেন না। ফলে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, জি এম কাদেরের বহিষ্কারাদেশও আদালতের আদেশে অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা।

জিএম কাদের অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইনগতভাবে শুধু চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই প্রেসিডিয়ামের সভা ডাকতে পারেন। অন্য কারও পক্ষে এটি সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশে বহিষ্কারাদেশ পুনর্বহালের কোনো কথা বলা হয়নি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জন নেতা গত ১০ জুলাই জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, জিএম কাদের অবৈধভাবে দলের চেয়ারম্যান হন এবং গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কাজ করেন। আদালত আবেদনকারীদের চারটি দাবির মধ্যে জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেন। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার যে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল, তা আদালত মঞ্জুর করেননি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার মধ্য দিয়ে জাপার অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিল হলো। এখন জিএম কাদের এবং তাঁর অনুসারীরা কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই সবার দৃষ্টি। দলের এই সংকট দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপায় নতুন মোড়: আনিসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বহিষ্কৃতদের পুনর্বহাল

আপডেট টাইম : ১১:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার সুযোগে দলের ভেতর নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জিএম কাদের-বিরোধী অংশ গতকাল মঙ্গলবার এক সভায় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছে। একই সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জিএম কাদের যাদের বহিষ্কার করেছিলেন, তাঁদের সবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তকে জিএম কাদের অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, আদালতের আদেশে শুধু জিএম কাদের ও দপ্তর সম্পাদকের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

গত ৩০ জুলাই ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম এক আদেশে জিএম কাদের এবং দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও তাঁর অনুসারীরা গুলশানে এক সভায় মিলিত হন।

সভা শেষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জিএম কাদের কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করতে পারছেন না। ফলে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, জি এম কাদেরের বহিষ্কারাদেশও আদালতের আদেশে অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা।

জিএম কাদের অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইনগতভাবে শুধু চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই প্রেসিডিয়ামের সভা ডাকতে পারেন। অন্য কারও পক্ষে এটি সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশে বহিষ্কারাদেশ পুনর্বহালের কোনো কথা বলা হয়নি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জন নেতা গত ১০ জুলাই জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, জিএম কাদের অবৈধভাবে দলের চেয়ারম্যান হন এবং গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কাজ করেন। আদালত আবেদনকারীদের চারটি দাবির মধ্যে জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেন। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার যে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল, তা আদালত মঞ্জুর করেননি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার মধ্য দিয়ে জাপার অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিল হলো। এখন জিএম কাদের এবং তাঁর অনুসারীরা কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই সবার দৃষ্টি। দলের এই সংকট দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।