ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে বদলা নেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ৬৬ বার

ঢাকায় এখন এশিয়ান ক্রিকেট বোর্ডগুলোর শীর্ষ কর্তাদের মিলনমেলা। ঢাকায় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ভারত-শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা সশরীরে অংশ না নিলেও যুক্ত থাকবে অনলাইনে। আর যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের তালিকাটাও যথেষ্ট ওজনদারই বলতে হয়। এসিসির এই সভা সামনে রেখে ‘এক ঢিলে’ অনেক ‘পাখি’ মারতে এসেছেন মহসিন রাজা নাকভি। তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান আর এসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান। খেলার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও যেন মেলানোর লক্ষ্য তাঁর।

গতকাল ঢাকায় পা রেখেই ব্যস্ত সময় কাটছে নাকভির। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক ফাঁকে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গেও বসেছেন। রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আমন্ত্রণে বিশেষ নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। সেই নৈশভোজে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলই। আজ সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বসে নাকভির দেখার কথা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি। সিরিজে ২-০ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই—টানা হারে বিধ্বস্ত পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ধবলধোলাই করা। আর পাকিস্তান চাইবে, অন্তত একটা সান্ত্বনার জয় নিয়ে তাদের সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করতে। নিজেদের বোর্ডের চেয়ারম্যানের সামনে বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা এড়ানোর সব চেষ্টাই করবেন সালমান-খুশদিলরা। এমনিতে বাংলাদেশের কাছে বাজেভাবে হারের পর পাকিস্তান দলকে ধুয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারেরা। সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেছেন, ‘এই খেলোয়াড়েরা যথেষ্ট দক্ষ নয়। এই ধরনের পিচে তাদের খেলার ধরন একেবারেই কাজে আসে না।’ আজ হারলে তাঁদের সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়বে বৈ কমবে না!

পাকিস্তানি সাবেক খেলোয়াড়েরা মিরপুরের উইকেটের প্রসঙ্গ আনলেও তাঁরা বেশি দুষছেন তাঁদের ব্যাটারদেরই। আর পাকিস্তান দলের অনেক খেলোয়াড় বিপিএল খেলার সুবাদে মিরপুরের উইকেট তাঁদের কাছে অজানাও নয়। পরশু রাতে ম্যাচ শেষে বিসিবি সভাপতি বুলবুল বলছিলেন, ‘উইকেট দুই দলের (বাংলাদেশ-পাকিস্তান) জন্যই সমান আসলে। আমি কৃতিত্ব দেব আমাদের দলকে। উইকেট এখানে বড় একটা ফ্যাক্টর না। আমার কাছে মনে হয়েছে, ক্রিকেটারেরা যেভাবে মানিয়ে নিয়েছে, সেটা অবিশ্বাস্য।’ মিরপুরের উইকেট ব্যাটারদের ‘বধ্যভূমি’ , এ এখন আর অজানা নয়। এটি যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ নয়, এসব কথা বিসিবিও এখন কানে তোলে না। এরকম ‘মাইনফিল্ডে সাফল্য এলেই হলো। মানুষ মনে রাখে জয়, সে যে পিচেই খেলা হোক!

এ সূত্র ধরেই শ্রীলঙ্কা থেকে বয়ে আনা আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ ধরে রেখেছে দেশের মাঠেও। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে টানা চারটি টি-টোয়েন্টি জিতেছে বাংলাদেশ। টানা দুটি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে। দুই সিরিজে বাংলাদেশের স্কোয়াড অপরিবর্তিত রাখা হলেও একাদশে প্রায় প্রতি ম্যাচেই দুই-একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটি বেশির ভাগ সময়েই বিশ্রামনীতি অনুসরণ করে। পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা ম্যাচেও বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বেশি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে হোয়াইটওয়াশের অভিজ্ঞতা থাকলেও বাংলাদেশ ২০ ওভারের ক্রিকেটে কখনো পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করতে পারেনি। পাকিস্তানিদের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাংলাদেশ জিতলই তো সবে। বড় দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ধবলধোলাই করেছে শুধু ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এবার তালিকায় পাকিস্তানের নামটাও যোগ করার সুযোগ। আর সেটা করতে পারলে দুই মাসে পুরোনো ক্ষতেও যেন কিছুটা প্রলেপ পড়বে বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ কম তো আর নাস্তানাবুদ হয়নি। এবার তা কিছুটা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসন: মনোনীত প্রার্থীদের নাম জানাল ১১ দল

পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে বদলা নেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

ঢাকায় এখন এশিয়ান ক্রিকেট বোর্ডগুলোর শীর্ষ কর্তাদের মিলনমেলা। ঢাকায় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ভারত-শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা সশরীরে অংশ না নিলেও যুক্ত থাকবে অনলাইনে। আর যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের তালিকাটাও যথেষ্ট ওজনদারই বলতে হয়। এসিসির এই সভা সামনে রেখে ‘এক ঢিলে’ অনেক ‘পাখি’ মারতে এসেছেন মহসিন রাজা নাকভি। তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান আর এসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান। খেলার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও যেন মেলানোর লক্ষ্য তাঁর।

গতকাল ঢাকায় পা রেখেই ব্যস্ত সময় কাটছে নাকভির। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক ফাঁকে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গেও বসেছেন। রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আমন্ত্রণে বিশেষ নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। সেই নৈশভোজে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলই। আজ সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বসে নাকভির দেখার কথা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি। সিরিজে ২-০ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই—টানা হারে বিধ্বস্ত পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ধবলধোলাই করা। আর পাকিস্তান চাইবে, অন্তত একটা সান্ত্বনার জয় নিয়ে তাদের সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করতে। নিজেদের বোর্ডের চেয়ারম্যানের সামনে বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা এড়ানোর সব চেষ্টাই করবেন সালমান-খুশদিলরা। এমনিতে বাংলাদেশের কাছে বাজেভাবে হারের পর পাকিস্তান দলকে ধুয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারেরা। সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেছেন, ‘এই খেলোয়াড়েরা যথেষ্ট দক্ষ নয়। এই ধরনের পিচে তাদের খেলার ধরন একেবারেই কাজে আসে না।’ আজ হারলে তাঁদের সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়বে বৈ কমবে না!

পাকিস্তানি সাবেক খেলোয়াড়েরা মিরপুরের উইকেটের প্রসঙ্গ আনলেও তাঁরা বেশি দুষছেন তাঁদের ব্যাটারদেরই। আর পাকিস্তান দলের অনেক খেলোয়াড় বিপিএল খেলার সুবাদে মিরপুরের উইকেট তাঁদের কাছে অজানাও নয়। পরশু রাতে ম্যাচ শেষে বিসিবি সভাপতি বুলবুল বলছিলেন, ‘উইকেট দুই দলের (বাংলাদেশ-পাকিস্তান) জন্যই সমান আসলে। আমি কৃতিত্ব দেব আমাদের দলকে। উইকেট এখানে বড় একটা ফ্যাক্টর না। আমার কাছে মনে হয়েছে, ক্রিকেটারেরা যেভাবে মানিয়ে নিয়েছে, সেটা অবিশ্বাস্য।’ মিরপুরের উইকেট ব্যাটারদের ‘বধ্যভূমি’ , এ এখন আর অজানা নয়। এটি যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ নয়, এসব কথা বিসিবিও এখন কানে তোলে না। এরকম ‘মাইনফিল্ডে সাফল্য এলেই হলো। মানুষ মনে রাখে জয়, সে যে পিচেই খেলা হোক!

এ সূত্র ধরেই শ্রীলঙ্কা থেকে বয়ে আনা আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ ধরে রেখেছে দেশের মাঠেও। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে টানা চারটি টি-টোয়েন্টি জিতেছে বাংলাদেশ। টানা দুটি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে। দুই সিরিজে বাংলাদেশের স্কোয়াড অপরিবর্তিত রাখা হলেও একাদশে প্রায় প্রতি ম্যাচেই দুই-একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটি বেশির ভাগ সময়েই বিশ্রামনীতি অনুসরণ করে। পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা ম্যাচেও বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বেশি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে হোয়াইটওয়াশের অভিজ্ঞতা থাকলেও বাংলাদেশ ২০ ওভারের ক্রিকেটে কখনো পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করতে পারেনি। পাকিস্তানিদের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাংলাদেশ জিতলই তো সবে। বড় দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ধবলধোলাই করেছে শুধু ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এবার তালিকায় পাকিস্তানের নামটাও যোগ করার সুযোগ। আর সেটা করতে পারলে দুই মাসে পুরোনো ক্ষতেও যেন কিছুটা প্রলেপ পড়বে বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ কম তো আর নাস্তানাবুদ হয়নি। এবার তা কিছুটা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা!