ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণকে এখন আর বোকা বানানো যাবে না: নাহিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • ৫৭ বার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দলীয়করণ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। খুনি ফ্যাসিস্ট বাহিনীর প্রতীক এখনো নির্বাচন কমিশন তালিকায় রেখে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য কিন্তু ভালো নয়। বাংলাদেশের জনগণকে এখন আর বোকা বানানো যাবে না।’

দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে বরিশালের পথসভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘোষণা করেছি। গণঅভুত্থানের পরে আমরা বলেছিলাম ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হবে। নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজ দুর্নীতি বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। আমরা দেখছি নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল। খুনোখুনি করছে, সবার হাতেই রক্ত লেগে আছে। আমরা রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত সংস্কৃতি দেখতে চেয়েছিলাম। চাঁদামুক্ত দুর্নীতিমুক্ত দেশ দেখতে চেয়েছিলাম। কোনো দলের সহিংসতাই আর আমরা মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৩ আগস্ট ঢাকার শহীদ মিনারে আমরা জড়ো হচ্ছি- সারা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির ইশতেহার নিয়ে; জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র এবং সনদ আদায়ের লক্ষে। ইনশাল্লাহ জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজপথে নেমেছে, কোনো হুমকি-ধমকি বাধা বিপত্তি দিয়ে এ গণজোয়ার থামানো যাবে না। প্রতিটি জেলা উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা তরুণদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ জোয়ার রুখবে কারো সাধ্য নাই। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি- ৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল গণভবন, এবার আমাদের লক্ষ্য সংসদ ভবন। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা বিজয় অর্জন করব।’

এর আগে রাত ৯টায় নাগাদ ভোলা থেকে বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড ও আইন মহাবিদ্যালয় এলাকায় এসে পৌঁছান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সেখানে তাদের অপেক্ষায় ছিলেন বরিশাল জেলা ও মহানগর এনসিপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। মিছিলসহ তারা নেতাদের নিয়ে হেঁটে আসেন প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকা পথসভার নির্ধারিত স্থান ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন দলের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় রাস্তার দুপাশে অপেক্ষমান সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও পদযাত্রায় অংশ নেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সরোয়ার নিভা, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিাঞ্চল) হাসানাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাকিব মাহাদী, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু, কেন্দ্রীয় সদস্য সানাউল্লাহ, হাসিব আর রহমান এবং আল আমিন টুটুলসহ অন্যান্য নেতারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণকে এখন আর বোকা বানানো যাবে না: নাহিদ

আপডেট টাইম : ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দলীয়করণ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। খুনি ফ্যাসিস্ট বাহিনীর প্রতীক এখনো নির্বাচন কমিশন তালিকায় রেখে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য কিন্তু ভালো নয়। বাংলাদেশের জনগণকে এখন আর বোকা বানানো যাবে না।’

দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে বরিশালের পথসভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘোষণা করেছি। গণঅভুত্থানের পরে আমরা বলেছিলাম ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হবে। নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজ দুর্নীতি বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। আমরা দেখছি নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল। খুনোখুনি করছে, সবার হাতেই রক্ত লেগে আছে। আমরা রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত সংস্কৃতি দেখতে চেয়েছিলাম। চাঁদামুক্ত দুর্নীতিমুক্ত দেশ দেখতে চেয়েছিলাম। কোনো দলের সহিংসতাই আর আমরা মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৩ আগস্ট ঢাকার শহীদ মিনারে আমরা জড়ো হচ্ছি- সারা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির ইশতেহার নিয়ে; জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র এবং সনদ আদায়ের লক্ষে। ইনশাল্লাহ জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজপথে নেমেছে, কোনো হুমকি-ধমকি বাধা বিপত্তি দিয়ে এ গণজোয়ার থামানো যাবে না। প্রতিটি জেলা উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা তরুণদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ জোয়ার রুখবে কারো সাধ্য নাই। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি- ৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল গণভবন, এবার আমাদের লক্ষ্য সংসদ ভবন। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা বিজয় অর্জন করব।’

এর আগে রাত ৯টায় নাগাদ ভোলা থেকে বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড ও আইন মহাবিদ্যালয় এলাকায় এসে পৌঁছান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সেখানে তাদের অপেক্ষায় ছিলেন বরিশাল জেলা ও মহানগর এনসিপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। মিছিলসহ তারা নেতাদের নিয়ে হেঁটে আসেন প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকা পথসভার নির্ধারিত স্থান ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন দলের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় রাস্তার দুপাশে অপেক্ষমান সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও পদযাত্রায় অংশ নেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সরোয়ার নিভা, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিাঞ্চল) হাসানাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাকিব মাহাদী, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু, কেন্দ্রীয় সদস্য সানাউল্লাহ, হাসিব আর রহমান এবং আল আমিন টুটুলসহ অন্যান্য নেতারা।