এর আগে এই স্থান থেকে ছাত্রদল পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ পর্যন্ত যায়। ‘গুপ্ত সংগঠন কর্তৃক মব সৃষ্টির অপচেষ্টা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ’ শীর্ষক এই কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।
দলটির নীতিনির্ধারকরা বলেন, বিএনপি আগ বাড়িয়ে কোনো ধরনের বিতর্কে জড়াতে চায় না।
একই দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় ঠিক করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লন্ডন বৈঠকে তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টা যখন নিশ্চিন্ত করে বলেছেন, এবার নির্বাচন হবে, তখন থেকে তাদের মাথা বিগড়ে গেছে। যারা তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা গণতন্ত্রের শত্রু, দেশের শত্রু।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘অনুরোধ করব, ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন। এমন কিছু হতে দেবেন না যাতে আমাদের গণতন্ত্রের শত্রুরা সুযোগ পেয়ে যায়। যারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলে, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু, তারা এই দেশের মানুষের শত্রু। আমি ধিক্কার জানাতে চাই সেই সব তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের, যাঁরা তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথা বলছেন। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় কথা বলব না, এটা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের নেতাকে অশ্লীল কথা বললে তাঁর মান ছোট হয় না। ছোট হয় তাঁরা যাঁরা অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন।’
এক ইসলামী সংগঠন ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে : রিজভী
একই দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘কোনো এক ইসলামী সংগঠন বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন হিন্দু মেয়ে ধর্ষিত হলেন। বলা হলো এতে যুবদল দায়ী। কিন্তু ধর্ষিতার স্বামী বলছেন, এখানে বিএনপির কেউ জড়িত নয়। এখানে ওই এলাকার যে উপদেষ্টা তাঁর লোকজন জড়িত। অথচ বিএনপির নামে শুরু থেকে অপপ্রচার চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন চুরির দায়ে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, ছাত্রদলের সাম্যকে হত্যা করা হলো। এগুলো কিসের আলামত? যখনই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেব ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনে বৈঠক হলো, তার পর থেকেই দেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি শুরু হলো। এইটা ছাড়া আমরা নির্বাচন করব না, নির্বাচনে যাব না! এটার উদ্দেশ্য আমরা বুঝতে পারি।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো উসকানির মুখে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের দালালরা গভীর চক্রান্ত করছে। তাদের পাতানো ষড়যন্ত্রের জালে আমাদের নেতাকর্মী, সমর্থক, পেশাজীবী কারো পা দেওয়া যাবে না। আমাদের চেয়ারম্যান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সব অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র আমরা সামাল দিতে পারব। কারণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। ওরা ভয় পাচ্ছে, জনগণ যদি তাদের সঙ্গে থাকত, তাহলে ওরা কোনো দিনই নির্বাচন পেছানোর কথা বলত না। পিআরের কথা বলত না। একটা ধোঁয়াশা তৈরি করে পানি ঘোলা করে তারা মাছ শিকারের প্রচেষ্টায় কাজ করছে।’
ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হাজার হাজার উপস্থিতি
নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘দেশে মবতন্ত্র কায়েমের প্রচেষ্টা করা হলে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং এসব চলতে থাকলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে দেশে গুপ্ত রাজনীতি চলমান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন সারা দেশে হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের দায় রয়েছে। কিন্তু রাতের আঁধারে গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা যে মিছিল করেছে, সেখানে তারা সরকারের ব্যর্থতা দেখে না! তারা এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে লজ্জাজনক অপপ্রচার চালিয়েছে, সেটি দ্বারা প্রমাণিত হয়, এই নির্দলীয় সরকার তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।’
এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের সামনে থেকে প্রতিবাদী মিছিল শুরু করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মিছিলের আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শিবিরের গুপ্ত কর্মীরা মব সৃষ্টি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। গত এক সপ্তাহে আরো কয়েকটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড হলেও এগুলো নিয়ে গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করছে না। শুধু মিটফোর্ডের ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। এমনকি তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামেও বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’ এ সময় ‘গুপ্ত’ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে অবিলম্বে নোংরা অপপ্রচার ও গোপন ষড়যন্ত্র থেকে ফিরে আসার আহবান জানান তিনি।
ছাত্রদল নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে কাকরাইল, পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, কার্জন হল, দোয়েল চত্বর ও টিএসসি হয়ে শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। মিছিলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’, ‘দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।
ছাত্রদলের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের মিছিলের অগ্রভাগের অংশ দিয়ে যখন শাহবাগ চত্বর পূর্ণ হয়ে যায়, তখনো মিছিলের শেষ ভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে শাহবাগের আশপাশের এলাকায় তখন গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ পথচারীরা।
Reporter Name 

























