ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার কেনার আগে যে ৭টি বিষয় মনে রাখা জরুরি চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চীনা নাগরিকের ২.৫ কেজি সোনা উদ্ধার, আনসারের বিচক্ষণতায় পাচারচেষ্টা নস্যাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিতর্কিত নেক্সাস বই ফেরত নেয়ায় ধন্যবাদ দায়ি ব্যক্তিদের শনাক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে: ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ

কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত গোরখোদক মনু মিয়া ইন্তেকাল 

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • ১২৮ বার

ইটনা কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধী ইউনিয়নের ভাইরাল বিখ্যাত গোর খোদক ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর মনু মিয়া (৬৭) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নিজ বাড়ী আলগা পাড়া গ্রামে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ঐ গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিম মিয়া ছেলে। নিঃসন্তান মনু মিয়া মৃত্যু কালে স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জয়সিদ্ধী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনু মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা, সাবেক এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন মনু মিয়া আমার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার জীবদ্দশায় জয়সিদ্ধী ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও দেশের অনেক জায়গায় মৃত মানুষের কবর খননের কাজ করেছেন। বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক নেননি। জীবনের প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এ মানবিক কাজটি করে যাচ্ছেন। এ মহান কাজ করতে নিজের বাবার রেখে যাওয়া কিছু জমি বিক্রি করে একটি ঘোড়া ও কিনেছিলেন। ঘোড়ায় চড়ে কবর খননের কাজ করতেন। বিগত কিছুদিন পুর্বে নিজে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যান। এ সময় বাড়িতে রেখে যাওয়া ঘোড়াটি কে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার খাটকাল ইউনিয়নের হাসিম পুর গ্রামের পাশে মাঠে ফেলে রাখে। ঘোড়ার মৃত্যুর খবর শুনে অনেকটা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে শারীরিক ভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন।

তার মত এ রকম পরোপকারী মানুষ কে হারিয়ে আমরা উপজেলা বাসী স্তম্ভিত। তার মতো মানুষ পাওয়া আমাদের ভাগ্যের ব্যাপার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল হক বলেছেন তার কথা লোক মুখে শুনেছি। তিনি মৃত্যুর পর ও মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন আজীবন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত গোরখোদক মনু মিয়া ইন্তেকাল 

আপডেট টাইম : ০২:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

ইটনা কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধী ইউনিয়নের ভাইরাল বিখ্যাত গোর খোদক ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর মনু মিয়া (৬৭) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নিজ বাড়ী আলগা পাড়া গ্রামে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ঐ গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিম মিয়া ছেলে। নিঃসন্তান মনু মিয়া মৃত্যু কালে স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জয়সিদ্ধী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনু মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা, সাবেক এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন মনু মিয়া আমার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার জীবদ্দশায় জয়সিদ্ধী ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও দেশের অনেক জায়গায় মৃত মানুষের কবর খননের কাজ করেছেন। বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক নেননি। জীবনের প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এ মানবিক কাজটি করে যাচ্ছেন। এ মহান কাজ করতে নিজের বাবার রেখে যাওয়া কিছু জমি বিক্রি করে একটি ঘোড়া ও কিনেছিলেন। ঘোড়ায় চড়ে কবর খননের কাজ করতেন। বিগত কিছুদিন পুর্বে নিজে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যান। এ সময় বাড়িতে রেখে যাওয়া ঘোড়াটি কে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার খাটকাল ইউনিয়নের হাসিম পুর গ্রামের পাশে মাঠে ফেলে রাখে। ঘোড়ার মৃত্যুর খবর শুনে অনেকটা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে শারীরিক ভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন।

তার মত এ রকম পরোপকারী মানুষ কে হারিয়ে আমরা উপজেলা বাসী স্তম্ভিত। তার মতো মানুষ পাওয়া আমাদের ভাগ্যের ব্যাপার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল হক বলেছেন তার কথা লোক মুখে শুনেছি। তিনি মৃত্যুর পর ও মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন আজীবন।