ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ক্যাম্পাসের পরিচিত ক্যারেক্টার বদরুল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১৬
  • ২৯৬ বার

কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাকারী বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে নিজের চরিত্রের জন্য ক্যাম্পাসের পরিচিত ক্যারেক্টার। এমনই মনে করেন বদরুলের সহপাঠীরা। সম্প্রতি বদরুলকে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া তার এক সহপাঠীর স্ট্যাটাসে এ কথা জানা গেছে।

পূর্বপশ্চিম পাঠকদের জন্য বদরুলের সহপাঠী কাওসার আলমের ৪ অক্টোবর দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো-

“গতকাল (৪ অক্টোবর) এমসিতে ছাত্রীর উপর হামলাকারী বদরুল আমাদের ব্যাচের স্টুডেন্ট। সে ক্যাম্পাসের একটা পরিচিত ক্যারেক্টার। তার বিভাগের স্টুডেন্টরা ছাড়াও অন্য অনেক ছেলেমেয়েই তাকে চিনে। চেনার কারণ জানতে চাইলে আমাদের যেতে হবে বেশ কয়েকবছর পেছনে। ২০১১/২০১২ তে। ক্যাম্পাস সংলগ্ন হাউশা গ্রামে বদরুল নার্গিসদের বাড়িতে লজিং থাকতো, নার্গিস তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। সেখান থেকেই নার্গিসের সাথে তার পরিচয়, অত:পর “ঝামেলা!” একপর্যায়ে নার্গিসের অভিভাবকরা তাকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়!

এরপর সে বিভিন্ন সময় নার্গিসের আত্মীয় স্বজনদের হুমকি দিতে থাকে। এই নার্গিস সংক্রান্ত ব্যাপারটা বদরুলের প্রায় ক্লাসমেটরাই জানে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে একবার বদরুল নার্গিসের এলাকায় গেলে তার আত্মীয় স্বজনরা তাকে পেটায়। অনেক মার দেয়। সিলেটের সবচেয়ে প্রচারিত পত্রিকা “দৈনিক সিলেটের ডাক” এ এই খবরটি আসে, “তথাকথিত প্রেমের জের ধরে হামলার শিকার শাবিছাত্র……..এরকম নিউজ হয়”! যদিও জাতীয় পত্রিকাগুলোতে এসেছিলো, “ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের উপর হামলা করেছে শিবির……” (উল্লেখ্য বদরুল মার খাওয়ার দু তিনদিন আগে ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ হয়)
.
প্রেমের জের সংক্রান্ত বিষয়টা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হয়। এমনকি জাফর ইকবাল স্যারও যথারীতি এক চিমটি আবেগ, দুই চামচ মুক্তিযুদ্ধ মিশিয়ে এই বদরুলের প্রতি দরদ দেখিয়ে কলাম লিখেন! “শিবির ছেলেটির রগ কেটে দিয়েছে….আর কোনোদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে না…..ব্লা…ব্লা….”
(হাউশা গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং বদরুলের ক্লাসমেটরা ঘটনার এ টু জেড জানেন)
.
বদরুল কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয় উঠে। তারপর কেটে গেলো প্রায় চার বছর। বর্তমানে সে শাবি ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক। শুনেছি সে মেয়েটিকে মাঝে মাঝেই ডিস্টার্ব করতো।
তারপর গতকাল সে পাশব কায়দায় রামদা দিয়ে নার্গিসের উপর যে হামলাটা চালিয়েছে, সেটা জঘন্য ইতর প্রাণীকেও হার মানাবে। অনেক পত্রিকায় আসছে “বখাটের হামলা!” তার পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা যাক, এবার কেউ কলাম লিখে কী না!”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপে ‘গেস্ট চ্যাটস’ ফিচার, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই করা যাবে মেসেজ

ক্যাম্পাসের পরিচিত ক্যারেক্টার বদরুল

আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১৬

কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাকারী বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে নিজের চরিত্রের জন্য ক্যাম্পাসের পরিচিত ক্যারেক্টার। এমনই মনে করেন বদরুলের সহপাঠীরা। সম্প্রতি বদরুলকে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া তার এক সহপাঠীর স্ট্যাটাসে এ কথা জানা গেছে।

পূর্বপশ্চিম পাঠকদের জন্য বদরুলের সহপাঠী কাওসার আলমের ৪ অক্টোবর দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো-

“গতকাল (৪ অক্টোবর) এমসিতে ছাত্রীর উপর হামলাকারী বদরুল আমাদের ব্যাচের স্টুডেন্ট। সে ক্যাম্পাসের একটা পরিচিত ক্যারেক্টার। তার বিভাগের স্টুডেন্টরা ছাড়াও অন্য অনেক ছেলেমেয়েই তাকে চিনে। চেনার কারণ জানতে চাইলে আমাদের যেতে হবে বেশ কয়েকবছর পেছনে। ২০১১/২০১২ তে। ক্যাম্পাস সংলগ্ন হাউশা গ্রামে বদরুল নার্গিসদের বাড়িতে লজিং থাকতো, নার্গিস তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। সেখান থেকেই নার্গিসের সাথে তার পরিচয়, অত:পর “ঝামেলা!” একপর্যায়ে নার্গিসের অভিভাবকরা তাকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়!

এরপর সে বিভিন্ন সময় নার্গিসের আত্মীয় স্বজনদের হুমকি দিতে থাকে। এই নার্গিস সংক্রান্ত ব্যাপারটা বদরুলের প্রায় ক্লাসমেটরাই জানে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে একবার বদরুল নার্গিসের এলাকায় গেলে তার আত্মীয় স্বজনরা তাকে পেটায়। অনেক মার দেয়। সিলেটের সবচেয়ে প্রচারিত পত্রিকা “দৈনিক সিলেটের ডাক” এ এই খবরটি আসে, “তথাকথিত প্রেমের জের ধরে হামলার শিকার শাবিছাত্র……..এরকম নিউজ হয়”! যদিও জাতীয় পত্রিকাগুলোতে এসেছিলো, “ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের উপর হামলা করেছে শিবির……” (উল্লেখ্য বদরুল মার খাওয়ার দু তিনদিন আগে ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ হয়)
.
প্রেমের জের সংক্রান্ত বিষয়টা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হয়। এমনকি জাফর ইকবাল স্যারও যথারীতি এক চিমটি আবেগ, দুই চামচ মুক্তিযুদ্ধ মিশিয়ে এই বদরুলের প্রতি দরদ দেখিয়ে কলাম লিখেন! “শিবির ছেলেটির রগ কেটে দিয়েছে….আর কোনোদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে না…..ব্লা…ব্লা….”
(হাউশা গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং বদরুলের ক্লাসমেটরা ঘটনার এ টু জেড জানেন)
.
বদরুল কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয় উঠে। তারপর কেটে গেলো প্রায় চার বছর। বর্তমানে সে শাবি ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক। শুনেছি সে মেয়েটিকে মাঝে মাঝেই ডিস্টার্ব করতো।
তারপর গতকাল সে পাশব কায়দায় রামদা দিয়ে নার্গিসের উপর যে হামলাটা চালিয়েছে, সেটা জঘন্য ইতর প্রাণীকেও হার মানাবে। অনেক পত্রিকায় আসছে “বখাটের হামলা!” তার পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা যাক, এবার কেউ কলাম লিখে কী না!”