মদনে ওয়াস প্রোগ্রামের চাদ ঢালাইয়ে অনিয়ম, অভিযোগ করেও অনিয়ম ঠেকানো যাচ্ছে না

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা মদন উপজেলার বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিডিপি ৪ প্রকল্পের আওতায় ওয়াস প্রোগ্রামের দ্বিতীয় তলা চাদ ঢালাই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেন। বুধবার (৩ এপ্রিল ২০২৪) জনস্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ পরিদর্শন করে নিম্নমানের কাজ করায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেন।

জানা যায়, পিডিপি ৪ প্রকল্পের আওতায় ওয়াস প্রোগ্রামের তৃতীয় তলায় পর্যন্ত ল্যাট্রিন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফেব্রুয়ারী মাস থেকে কাজ শুরু করেন। মেসার্স সারুয়ার জাহান নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পান। কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম করায় একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখেন কর্তৃপক্ষ। তবে কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার দ্বিতীয় তলার চাদ ঢালাই কাজ পরিদর্শনে আসেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বরত ম্যাকানিক সুমন দেবনাথ ও মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময়

সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন দ্বিতীয় তলায় ঢালাই কাজ পরিদর্শনে দেখতে পায়, কাচায় ৫ ইঞ্চির দূরত্বের রড বাধাঁর নিয়ম থাকলেও সাড়ে ৬ ইঞ্চিতে রড বাধাঁ হচ্ছে এবং চিকন রড় ব্যবহার হচ্ছে। কোনো টপ দেয়া হয়নি, ভাইব্রেটর ও ঢালাই মেশিন ব্যবহার না করে নিম্নমানের সুরকি, ভিট বালু মিশ্রিত করে ঢালাই দেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় জনস্বাস্থ্য বিভাগের দুই ম্যাকানিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেন। কাজের এলাকায় বরাদ্দের কোন সাইন বোর্ড পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল জলিল অনিয়মের সততা স্বীকার করে বলেন, ঢালাই কাজ বন্ধ করে দিলে আমাদের অনেক টাকা ক্ষতি হবে।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ডালিম মিয়া জানান, এই কাজটি শুরু থেকেই অনিয়ম হয়ে আসছে। অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ম্যাকানিক সুমন দেবনাথ ও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস প্রোগ্রাম কাজে অনিয়ম পাওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সিডিউল মোতাবেক কাচা ও মিকচার তৈরি করে তাদেরকে অবগত করে কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মদন উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমান আরা জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। তারা ঢালাই দেবে বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে জেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী স্যার আমাকে বিষয়টি বলেছেন। আগামীকাল সাইট পরিদর্শন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর