ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মানহানির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড নয়, জরিমানা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ : আইনমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩
  • ১৭০ বার

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ পরিবর্তন করে নতুন যে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ করা হচ্ছে সেখানে মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে না। তবে থাকছে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অনাদায়ে ৩ বা ৬ মাসের কারাদণ্ড। এ সাজা কেবল জরিমানা না দিতে পারলেই ভোগ করতে হবে।

সোমবার (৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ আইনের বহু ধারা সাইবার নিরাপত্তা আইনে যুক্ত করা হবে। কিছু ধারায় বড় সংশোধনী আনা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২৯ ধারায় সাজা ছিল কারাদণ্ড। সেটাকে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এখানে শুধু শাস্তি হবে জরিমানা। অনাদায়ে হয় ৩ মাস না হয় ৬ মাসের কারাদণ্ড থাকবে।’

জরিমানার পরিমাণ কত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ২৫ লাখ টাকা।

এটা কি সাধারণ মানুষের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব? তাহলে তো এ আইন আগের মতোই থেকে গেল? এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আগে কারাদণ্ড ছিল এ ধারায়। কারাদণ্ড উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সাজা রাখা হয়েছে। দেওয়ানি আইনে যদি মানুষ ক্ষতিপূরণ চায় তাহলে আমাদের যে আইন রয়েছে তাতে ক্ষতিপূরণের লিমিট নেই। আমি প্রশ্নের জবাবটা দিয়ে দিচ্ছি। ১০০ কোটি টাকাও ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। সেসব ক্যালকুলেশন করে অনধিক ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১ টাকাও জরিমানা হতে পারে, ২৫ লাখও হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন কোনো কারাদণ্ড নেই (খসড়া আইনে)। আপনাদের (সাংবাদিকদের) অ্যারেস্ট করবে কেন? অ্যারেস্ট তো করার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকল না।’

তার মানে অ্যারেস্ট হচ্ছে না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, অ্যারেস্ট হবে না।’

তাহলে মানহানির মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি অ্যারেস্ট করা যাবে না- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, এটা তো আর কারাদণ্ডই না।’

এ ধারায় জরিমানা আগে ছিল ৫ লাখ, এখন কেন ২৫ লাখ করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অনধিক ২৫ লাখ করা হয়েছে। এটা বিজ্ঞ আদালতের ডিসক্রিশনের (আদালতের নিজের বিচক্ষণতা) ওপর ছাড়া হয়েছে। ডিসক্রিশনটা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, আমি আইনজীবী হিসেবে যতটুকু জানি, অপরাধের পরিধি এবং তাতে যে ব্যক্তি মামলা করেছেন তার যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিধি বিবেচনায় তিনি জরিমানাটা করতে পারবেন। সেটা এক টাকা থেকে শুরু করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করতে পারবেন। এখানে আমার মনে হয় না এটা অযৌক্তিক কিছু হচ্ছে।’

জরিমানার পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ধারায় সাধারণ মানুষই বেশি অ্যারেস্ট হচ্ছে- এ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের মতামত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে আপনার সঙ্গে আমি একমত হতে পারলাম না। তার কারণ হচ্ছে এখানে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা হচ্ছে অনধিক ২৫ লাখ। এটা ক্যাপ করে দেওয়া হয়েছে যে, ২৫ লাখের ওপরে যেতে পারবে না।’

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বদলে সরকার এখন ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় মানহানির বিচার করা হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেন, তার জন্য তিনি অনধিক তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন আইনে কারাদণ্ড বাদ দিয়ে জরিমানার সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

মানহানির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড নয়, জরিমানা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ : আইনমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:১২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ পরিবর্তন করে নতুন যে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ করা হচ্ছে সেখানে মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে না। তবে থাকছে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অনাদায়ে ৩ বা ৬ মাসের কারাদণ্ড। এ সাজা কেবল জরিমানা না দিতে পারলেই ভোগ করতে হবে।

সোমবার (৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ আইনের বহু ধারা সাইবার নিরাপত্তা আইনে যুক্ত করা হবে। কিছু ধারায় বড় সংশোধনী আনা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২৯ ধারায় সাজা ছিল কারাদণ্ড। সেটাকে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এখানে শুধু শাস্তি হবে জরিমানা। অনাদায়ে হয় ৩ মাস না হয় ৬ মাসের কারাদণ্ড থাকবে।’

জরিমানার পরিমাণ কত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ২৫ লাখ টাকা।

এটা কি সাধারণ মানুষের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব? তাহলে তো এ আইন আগের মতোই থেকে গেল? এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আগে কারাদণ্ড ছিল এ ধারায়। কারাদণ্ড উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সাজা রাখা হয়েছে। দেওয়ানি আইনে যদি মানুষ ক্ষতিপূরণ চায় তাহলে আমাদের যে আইন রয়েছে তাতে ক্ষতিপূরণের লিমিট নেই। আমি প্রশ্নের জবাবটা দিয়ে দিচ্ছি। ১০০ কোটি টাকাও ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। সেসব ক্যালকুলেশন করে অনধিক ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১ টাকাও জরিমানা হতে পারে, ২৫ লাখও হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন কোনো কারাদণ্ড নেই (খসড়া আইনে)। আপনাদের (সাংবাদিকদের) অ্যারেস্ট করবে কেন? অ্যারেস্ট তো করার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকল না।’

তার মানে অ্যারেস্ট হচ্ছে না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, অ্যারেস্ট হবে না।’

তাহলে মানহানির মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি অ্যারেস্ট করা যাবে না- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, এটা তো আর কারাদণ্ডই না।’

এ ধারায় জরিমানা আগে ছিল ৫ লাখ, এখন কেন ২৫ লাখ করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অনধিক ২৫ লাখ করা হয়েছে। এটা বিজ্ঞ আদালতের ডিসক্রিশনের (আদালতের নিজের বিচক্ষণতা) ওপর ছাড়া হয়েছে। ডিসক্রিশনটা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, আমি আইনজীবী হিসেবে যতটুকু জানি, অপরাধের পরিধি এবং তাতে যে ব্যক্তি মামলা করেছেন তার যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিধি বিবেচনায় তিনি জরিমানাটা করতে পারবেন। সেটা এক টাকা থেকে শুরু করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করতে পারবেন। এখানে আমার মনে হয় না এটা অযৌক্তিক কিছু হচ্ছে।’

জরিমানার পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ধারায় সাধারণ মানুষই বেশি অ্যারেস্ট হচ্ছে- এ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের মতামত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে আপনার সঙ্গে আমি একমত হতে পারলাম না। তার কারণ হচ্ছে এখানে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা হচ্ছে অনধিক ২৫ লাখ। এটা ক্যাপ করে দেওয়া হয়েছে যে, ২৫ লাখের ওপরে যেতে পারবে না।’

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বদলে সরকার এখন ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় মানহানির বিচার করা হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেন, তার জন্য তিনি অনধিক তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন আইনে কারাদণ্ড বাদ দিয়ে জরিমানার সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।