ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

আবারও কেজিতে ৬০ টাকা বাড়লো কাঁচা মরিচের দাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
  • ১৭৫ বার

রবরাহ কমার অজুহাতে আবারো দিনাজপুরের হিলিতে ঊর্ধ্বমুখী দেশীয় কাঁচা মরিচের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। তিন দিন আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কমের কারণেই দাম বাড়তি বলে দাবি বিক্রেতাদের। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষজন। এদিকে বাড়তি খরচের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। হিলি বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা সুনিল বসাক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই কাঁচামরিচের দাম কমতির দিকে ছিল। এতে আমাদের মতো মানুষরা কাঁচা মরিচ কিনে খেতে পারছিল। কিন্তু আবারো কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তিন দিন আগে যে দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনেছি আজ (গতকাল) তা কিনতে এসে দেখি কেজিতে ৬০ টাকা বেড়েছে।’ অপর ক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বাজারে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না একদিন দাম কমে তো পরের দিন দাম বাড়ে। তিন দিন আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আবারও দাম বেড়ে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আবারও ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।’ হিলি বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা মমতাজ হোসেন বলেন, আমাদের বাজারে আমদানিকৃত ভারতীয় কাঁচা মরিচের কোনো সরবরাহ নেই। সম্পূর্ন দেশীয় কাঁচা মরিচ দিয়েই স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানো হয়। আর আমাদের হিলিতে কোনো কাঁচা মরিচ আবাদ হয় না। এগুলো পাঁচবিবি থেকে কিনে এনে বিক্রি করি। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায় দেশীয় কাঁচা মরিচের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় মোকামে দাম কমে গিয়েছিল। আমরা তিন দিন আগে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে কিনে হিলিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু আজকে হাট থেকে আমাদের ২২০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনতে হয়েছে। পরিবহন খরচ ও লাভ ধরে বাজারে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। হাটেই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই আমদানিকারকরা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন। যার কারণে ইতোমধ্যে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে এসেছে। সেই সঙ্গে ভারতের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে এসেছে। দুদিন আগে যে কাঁচা মরিচ ১৩৫ রুপিতে লোডিং করতে হয়েছিল সেই কাঁচা মরিচ এখন দাম কমে ৯৫ রুপিতে লোডিং করা যাচ্ছে। যার কারণে দেশের বাজারেও কাঁচা মরিচের দাম কমে আসছে। ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। তবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। এর কারণ হলো অন্যান্য স্থলবন্দরে কাঁচা মরিচ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় খরচ কম লাগছে। সেই তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ হচ্ছে। বাড়তি এই খরচের কারণে তেমন একটা লাভবান হতে পারছেন না আমদানিকারকরা। যার কারণে এই বন্দর বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা।’ হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর ২৬ জুন থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারো কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকেই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত ছিল কিন্তু বর্তমানে আমদানি অনিয়মিত হচ্ছে। বন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ১২ জুলাই দুটি ট্রাকে ১৮ হাজার ৫৭৭ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকেই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন কমেছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় কমেছে।’ দেশে কাঁচা মরিচের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে গত ২৫ জুন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এর ফলে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর ২৬ জুন ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। হিলি স্থলবন্দরের কয়েকজন আমদানিকারক প্রায় পাঁচ হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আবারও কেজিতে ৬০ টাকা বাড়লো কাঁচা মরিচের দাম

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩

রবরাহ কমার অজুহাতে আবারো দিনাজপুরের হিলিতে ঊর্ধ্বমুখী দেশীয় কাঁচা মরিচের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। তিন দিন আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কমের কারণেই দাম বাড়তি বলে দাবি বিক্রেতাদের। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষজন। এদিকে বাড়তি খরচের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। হিলি বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা সুনিল বসাক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই কাঁচামরিচের দাম কমতির দিকে ছিল। এতে আমাদের মতো মানুষরা কাঁচা মরিচ কিনে খেতে পারছিল। কিন্তু আবারো কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তিন দিন আগে যে দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনেছি আজ (গতকাল) তা কিনতে এসে দেখি কেজিতে ৬০ টাকা বেড়েছে।’ অপর ক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বাজারে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না একদিন দাম কমে তো পরের দিন দাম বাড়ে। তিন দিন আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আবারও দাম বেড়ে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আবারও ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।’ হিলি বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা মমতাজ হোসেন বলেন, আমাদের বাজারে আমদানিকৃত ভারতীয় কাঁচা মরিচের কোনো সরবরাহ নেই। সম্পূর্ন দেশীয় কাঁচা মরিচ দিয়েই স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানো হয়। আর আমাদের হিলিতে কোনো কাঁচা মরিচ আবাদ হয় না। এগুলো পাঁচবিবি থেকে কিনে এনে বিক্রি করি। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায় দেশীয় কাঁচা মরিচের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় মোকামে দাম কমে গিয়েছিল। আমরা তিন দিন আগে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে কিনে হিলিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু আজকে হাট থেকে আমাদের ২২০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনতে হয়েছে। পরিবহন খরচ ও লাভ ধরে বাজারে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। হাটেই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই আমদানিকারকরা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন। যার কারণে ইতোমধ্যে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে এসেছে। সেই সঙ্গে ভারতের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে এসেছে। দুদিন আগে যে কাঁচা মরিচ ১৩৫ রুপিতে লোডিং করতে হয়েছিল সেই কাঁচা মরিচ এখন দাম কমে ৯৫ রুপিতে লোডিং করা যাচ্ছে। যার কারণে দেশের বাজারেও কাঁচা মরিচের দাম কমে আসছে। ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। তবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। এর কারণ হলো অন্যান্য স্থলবন্দরে কাঁচা মরিচ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় খরচ কম লাগছে। সেই তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ হচ্ছে। বাড়তি এই খরচের কারণে তেমন একটা লাভবান হতে পারছেন না আমদানিকারকরা। যার কারণে এই বন্দর বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা।’ হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর ২৬ জুন থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারো কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকেই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত ছিল কিন্তু বর্তমানে আমদানি অনিয়মিত হচ্ছে। বন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ১২ জুলাই দুটি ট্রাকে ১৮ হাজার ৫৭৭ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকেই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন কমেছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় কমেছে।’ দেশে কাঁচা মরিচের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে গত ২৫ জুন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এর ফলে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর ২৬ জুন ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। হিলি স্থলবন্দরের কয়েকজন আমদানিকারক প্রায় পাঁচ হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পান।