ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মিঠামইনে ‘তাজুল’ ইস্যুতে প্রবাসীর স্ট্যাটাস ভাইরাল, এলাকায় তোলপাড় ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান পুলিশে বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন ইহুদিদের জীবনে কিয়ামতের প্রলয়! তেল আবিব-জেরুজালেম জ্বালিয়ে দেওয়ার শপথ হিজবুল্লাহর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ মাসে দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম শ্রমিক নিয়োগে ‘জিরো কস্ট’ নীতি, মালয়েশিয়ার বাজারে ফিরছে বাংলাদেশ

সমতলে কাজুবাদাম চাষ, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩
  • ১৮১ বার

কৃষিতে সম্ভাবনার ফসল কাজুবাদাম। আর তাই সমতল ভূমিতে কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। কাজুবাদামের পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে যশোরের চৌগাছায়। এ চাষ ইতোমধ্যে সফলও হয়েছে। সমতল ভূমিতে কাজুবাদামের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়ায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাজুবাদাম পাহাড়ি ফল হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল,পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক। কাজুবাদামের ২টি অংশ খাওয়ার উপযোগী। কাজু আপেল অত্যন্ত রসালো এবং বাদাম পুষ্টিকর খাবার। পাকা কাজু আপেল সাধারণ আপেলের মতো খাওয়া যায়। কিন্তু বাদাম কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী নয়। প্রক্রিয়াজাত করার পর বাদাম খাওয়া হয়। বীজ থেকে পাওয়া বাদাম সুস্বাদু, মুখরোচক ও পুষ্টিকর এবং বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

যশোর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজুবাদাম ও কফি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের চাষি মাহাবুবুর রহমান লিটন দুই জমির পেয়ারা ক্ষেতে সাথী সফল হিসেবে কাজুবাদাম চাষ করেছেন। দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের সরবরাহ করা ত্রিশটি কাজুবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন। সেই গাছে এবার ফল এসেছে। পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফল পাওয়ায় খুশি চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষক মাহাবুবুর রহমান লিটন বলেন, আমি পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের চাষ করি। দুই বছর আগে কৃষি অফিস আমাকে কাজুবাদাম চাষের প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর ত্রিশটি কাজুবাদামের চারা প্রদান করে। সেই চারা দুই বিঘার পেয়ারা ক্ষেতের আইল (সীমানা) দিয়ে রোপণ করি। গাছগুলো দ্রুত বাড়ছে। এ বছর গাছে কাজুবাদাম ফল এসেছে। গাছ যত বড় হবে, ফলন তত বাড়বে। পাহাড়ের ফল আমাদের জমিতে ভালো ফলন দিয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি। আমি দুই বিঘা জমিতেই কাজুবাদাম চাষ করতে চাই। এজন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছি।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হোসাইন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজুবাদাম ও কফি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সমতলে কাজুবাদাম চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যশোরের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজুবাদাম চাষ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন চৌগাছার পাতিবিলার কৃষক মাহাবুবুর রহমান লিটন। কাজুবাদাম সাথী ফসল হিসেবে চাষ করায় খরচ কম। আগ্রহী কৃষকদের কাজুবাদাম চাষে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ও বিদেশে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি উচ্চমূল্যের ফসল। কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সমতলে কাজুবাদাম চাষ, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

আপডেট টাইম : ১০:১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩

কৃষিতে সম্ভাবনার ফসল কাজুবাদাম। আর তাই সমতল ভূমিতে কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। কাজুবাদামের পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে যশোরের চৌগাছায়। এ চাষ ইতোমধ্যে সফলও হয়েছে। সমতল ভূমিতে কাজুবাদামের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়ায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাজুবাদাম পাহাড়ি ফল হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল,পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক। কাজুবাদামের ২টি অংশ খাওয়ার উপযোগী। কাজু আপেল অত্যন্ত রসালো এবং বাদাম পুষ্টিকর খাবার। পাকা কাজু আপেল সাধারণ আপেলের মতো খাওয়া যায়। কিন্তু বাদাম কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী নয়। প্রক্রিয়াজাত করার পর বাদাম খাওয়া হয়। বীজ থেকে পাওয়া বাদাম সুস্বাদু, মুখরোচক ও পুষ্টিকর এবং বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

যশোর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজুবাদাম ও কফি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের চাষি মাহাবুবুর রহমান লিটন দুই জমির পেয়ারা ক্ষেতে সাথী সফল হিসেবে কাজুবাদাম চাষ করেছেন। দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের সরবরাহ করা ত্রিশটি কাজুবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন। সেই গাছে এবার ফল এসেছে। পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফল পাওয়ায় খুশি চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষক মাহাবুবুর রহমান লিটন বলেন, আমি পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের চাষ করি। দুই বছর আগে কৃষি অফিস আমাকে কাজুবাদাম চাষের প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর ত্রিশটি কাজুবাদামের চারা প্রদান করে। সেই চারা দুই বিঘার পেয়ারা ক্ষেতের আইল (সীমানা) দিয়ে রোপণ করি। গাছগুলো দ্রুত বাড়ছে। এ বছর গাছে কাজুবাদাম ফল এসেছে। গাছ যত বড় হবে, ফলন তত বাড়বে। পাহাড়ের ফল আমাদের জমিতে ভালো ফলন দিয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি। আমি দুই বিঘা জমিতেই কাজুবাদাম চাষ করতে চাই। এজন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছি।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হোসাইন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজুবাদাম ও কফি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সমতলে কাজুবাদাম চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যশোরের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজুবাদাম চাষ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন চৌগাছার পাতিবিলার কৃষক মাহাবুবুর রহমান লিটন। কাজুবাদাম সাথী ফসল হিসেবে চাষ করায় খরচ কম। আগ্রহী কৃষকদের কাজুবাদাম চাষে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ও বিদেশে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি উচ্চমূল্যের ফসল। কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা আছে।