ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

পাইকড়ের এক গাছে ৬০টি চাক বেঁধেছে মৌচাক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২
  • ২৪৯ বার

বিলের রাস্তার ধারে যেতেই চোখে পড়ে পাইকড়ের গাছ। আর এই এক গাছেই প্রায় ৬০টি চাক বেঁধেছে মৌমাছিরা। এক সঙ্গে এতগুলো মৌচাক দেখার জন্য প্রতিদিনই এই গাছটির কাছে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এমন দৃশ্যের দেখা মেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কানসাট-ভোলাহাট সড়কের সোনাজল এলাকায়। এই পাইকড়ের গাছটি দেখভাল করেন গাছ সংলগ্ন ওই এলাকারই সেভেন স্টার নামের একটি ইট ভাটার মালিক ও কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রত্যেক বছরের ৫-৬ মাস এখানে মৌমাছিদের বিচরণ থাকে।

জানা যায়, বিলে এখন সরিষা চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। ওই সরিষার ক্ষেত থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করে নিয়ে আসে। ফলে মৌমাছির গুন গুন ধ্বনিতে গাছতলা ও আশপাশ মুখরিত হয় সব সময়। রাস্তার ধারের পাইকোড়ের গাছটিতে রয়েছে প্রায় ৬০টি মৌচাক রয়েছে। সাধারণত মৌমাছিরা ৫-৬ মাসের জন্য গাছটিতে বাসা বাঁধে। আবার আম গাছে মুকুল ফোটার সময় অন্য এলাকায় গিয়ে চাক গড়ে তোলে।

সেভেন স্টার নামক ইট ভাটার মালিক রাফিকুল হক ডুবলু বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমরা দেখছি এই গাছটিতে মৌমাছিরা চাক তৈরি করছে। বড়ই ফুল আসার সময় মৌমাছিরা এখানে আসে। তার আগে আমরা গাছের ডাল পালাগুলো পরিষ্কার করে থাকি। ৩-৪ বার মধু সংগ্রহ করার পর মৌচাকগুলো আরও তিন-চার মাস থাকে। যখন আম গাছে মুকুল আসার সময় হয় তখন মৌমাছিরা চলে যায়।

স্থানীয় কৃষক শামসুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গাছটিতে মৌচাক বসতে দেখি। গাছের প্রায় সব বড় ডালেই চাক বাঁধে মৌমাছিরা। একটি গাছে এতগুলো মৌচাক সাধারণত দেখা যায় না। অনেকেই এই গাছে অপরিপক্ক থাকা অবস্থায় মধু সংগ্রহ করতে আসলেও, ভাটা মালিকদের তদারকির কারণে পারে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা নেচারের প্রধান সমন্বয়ক রবিউল হাসান ডলার বলেন, এক গাছে এত মৌচাক সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় মৌমাছিদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই মৌমাছিরা যাতে নির্ভয়ে মৌচাক তৈরি ও মধু সংগ্রহ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতাল আলী জানান, রাস্তার ধারের পাইকোড়ের গাছটিতে ৫০-৬০টি মৌচাক রয়েছে। যতটুক জেনেছি ১০-১৫ বছর ধরে এই গাছে মৌমাছিরা বাসা বাঁধে। এই দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের ফসল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছিরা এখানে আসে। এতে ফসলের পরাগায়নে মৌমাছির ভূমিকা রয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে উপজেলায় এবার মাঠে ৯০০ মৌ বক্স বসিয়েছে মৌয়ালরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

পাইকড়ের এক গাছে ৬০টি চাক বেঁধেছে মৌচাক

আপডেট টাইম : ১২:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

বিলের রাস্তার ধারে যেতেই চোখে পড়ে পাইকড়ের গাছ। আর এই এক গাছেই প্রায় ৬০টি চাক বেঁধেছে মৌমাছিরা। এক সঙ্গে এতগুলো মৌচাক দেখার জন্য প্রতিদিনই এই গাছটির কাছে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এমন দৃশ্যের দেখা মেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কানসাট-ভোলাহাট সড়কের সোনাজল এলাকায়। এই পাইকড়ের গাছটি দেখভাল করেন গাছ সংলগ্ন ওই এলাকারই সেভেন স্টার নামের একটি ইট ভাটার মালিক ও কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রত্যেক বছরের ৫-৬ মাস এখানে মৌমাছিদের বিচরণ থাকে।

জানা যায়, বিলে এখন সরিষা চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। ওই সরিষার ক্ষেত থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করে নিয়ে আসে। ফলে মৌমাছির গুন গুন ধ্বনিতে গাছতলা ও আশপাশ মুখরিত হয় সব সময়। রাস্তার ধারের পাইকোড়ের গাছটিতে রয়েছে প্রায় ৬০টি মৌচাক রয়েছে। সাধারণত মৌমাছিরা ৫-৬ মাসের জন্য গাছটিতে বাসা বাঁধে। আবার আম গাছে মুকুল ফোটার সময় অন্য এলাকায় গিয়ে চাক গড়ে তোলে।

সেভেন স্টার নামক ইট ভাটার মালিক রাফিকুল হক ডুবলু বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমরা দেখছি এই গাছটিতে মৌমাছিরা চাক তৈরি করছে। বড়ই ফুল আসার সময় মৌমাছিরা এখানে আসে। তার আগে আমরা গাছের ডাল পালাগুলো পরিষ্কার করে থাকি। ৩-৪ বার মধু সংগ্রহ করার পর মৌচাকগুলো আরও তিন-চার মাস থাকে। যখন আম গাছে মুকুল আসার সময় হয় তখন মৌমাছিরা চলে যায়।

স্থানীয় কৃষক শামসুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গাছটিতে মৌচাক বসতে দেখি। গাছের প্রায় সব বড় ডালেই চাক বাঁধে মৌমাছিরা। একটি গাছে এতগুলো মৌচাক সাধারণত দেখা যায় না। অনেকেই এই গাছে অপরিপক্ক থাকা অবস্থায় মধু সংগ্রহ করতে আসলেও, ভাটা মালিকদের তদারকির কারণে পারে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা নেচারের প্রধান সমন্বয়ক রবিউল হাসান ডলার বলেন, এক গাছে এত মৌচাক সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় মৌমাছিদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই মৌমাছিরা যাতে নির্ভয়ে মৌচাক তৈরি ও মধু সংগ্রহ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতাল আলী জানান, রাস্তার ধারের পাইকোড়ের গাছটিতে ৫০-৬০টি মৌচাক রয়েছে। যতটুক জেনেছি ১০-১৫ বছর ধরে এই গাছে মৌমাছিরা বাসা বাঁধে। এই দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের ফসল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছিরা এখানে আসে। এতে ফসলের পরাগায়নে মৌমাছির ভূমিকা রয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে উপজেলায় এবার মাঠে ৯০০ মৌ বক্স বসিয়েছে মৌয়ালরা।