ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ধর্মচিন্তা সব পেয়েছির দেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৬৬ বার

মুস্তাফা জামান আব্বাসী,,, বইমেলায় ঢুকলাম। উদ্দেশ্য পছন্দমতো দু-একটি বই কেনা। ফিরে আসি ব্যর্থ মনোরথ হয়ে। সব বই তুর্কি ভাষায়। একটি বইও ইংরেজিতে নয়, বাংলায় তো নয়ই। বিশ্বে যে সাড়ে ছয়শ’ কোটি লোক, তাদের মধ্যে আমার অবস্থান কোথায়? নিজকে লেখক অথবা গায়ক বলে দাবি করছি তার কতটুকু বিশ্ব সভায় গিয়ে জোর গলায় বলতে পারব? যে বইটির খোঁজে তুরস্কের বইমেলায় তা ইন্টারনেটে পেলাম। লেখক ঘুরে এসেছেন বেহেশত থেকে। এতে বেহেশতের বর্ণনা নেই। আছে তার মনের অবস্থা। বেহেশত মনের অবস্থার নাম। সেটা এখনই হতে পারে, অর্থাৎ আপনি এখনই বেহেশতে প্রবেশ করতে পারেন। কোরআন শরিফ তন্ন তন্ন করে খুঁজে পাওয়া গেছে যে, আল্লাহ তাঁর নূর ফুঁকে দিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। যে নূর অক্ষুণ্ন রাখবে সে বেহেশতে আছে। ‘সব পেয়েছির দেশ’ সেটাই। সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলো দেখে এলাম, এদের সৌন্দর্য বেহেশত থেকে কম হবে না। আল্লাহ তাঁর বেহেশতের বর্ণনা লুকিয়ে রেখেছেন আমাদের দৃষ্টি থেকে। বলছেন, নদীর কথা, সে তো আমাদের দেশেই আছে। বলেছেন, ঝরনার কথা, দার্জিলিং গেলেই পেয়ে যাব কয়েকটি ঝরনা, যার পানিতে গোসল করেছি। বলেছেন, মেঘপুঞ্জের কথা, বৃষ্টির কথা, আমাদের দেশেই বর্তমান। আরব দেশে নেই। শেষ কথা বলেছেন আল্লাহ : ‘তোমাকে এমন কিছু দেব, যা তোমার কল্পনায় ধরে না।’ অর্থাৎ মনের অবস্থা। যা আমার সবচেয়ে ভালো লাগবে তাই আমি পাব। এ পৃথিবীতেও তাই। যদি নূরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হই, তা হলে যা চাইব, পাব এখানেই। বত্রিশ বছর আগে যখন হজে যাই এখনকার মতো পথ-ঘাট ভালো ছিল না। খিদে লাগলে বসে যেতাম পথ-ঘাটের দোকানে। পেট পুরে খেয়ে অল্প কিছু পয়সা দিতে হতো। চারদিক গ্রামের মতো, এখন সবটাই শহর, ক্রেডিট কার্ডে সব কেনা যায়, মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলা যায়। টাকা পকেটে থাকলে সবই আছে। অথচ আমার মনে হচ্ছে, আগের কষ্টটাই যেন ভালো ছিল। এখন আমার মন চায় আগের কা’বা, আগের মানুষ, আগের পথ-ঘাট। আমার মনের অবস্থাটাই হলো আসল। নবীর পায়ের চিহ্ন খোঁজার জন্য মদিনার পথে-ঘাটে ছোটাছুটি করেছি যেমনটি করেছিলেন কবি কাজী নজরুল, তার কত গানে গেয়েছিলেন আমার পিতা। সারাক্ষণ নবীর জন্য ক্রন্দন করেছি। বার কয়েক আরব ভূমিতে যাওয়ার পর মনের সেই অবস্থা এখন আর নেই। কঠিন হয়ে পড়েছি, চোখে পানি নেই। নবীকে দেখতে পাচ্ছি না। নাত পড়ার সময় চোখে আর পানি নেই। তা হলে মনের অবস্থাটাই আসল। মনের অবস্থাই দোজখ অথবা বেহেশত। যখন আল্লাহর কাছে উপস্থিত, বেহেশতি। যখন আল্লাহ থেকে দূরে, তখন বেহেশতও আমা থেকে দূরে। মসজিদে ঢুকলেই যে, বেহেশতি হব, তা নয়। প্রয়োজন আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকা। যারা পাশে বসে নামাজ পড়েন তাদের স্পর্শ করলে পবিত্র হই। ওদের দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। তখন বেহেশতি। এটাই উপলব্ধি। যতক্ষণ কোরআন পড়ি, ততক্ষণ বেহেশতি। কোরআন ছেড়ে যতক্ষণ বাজে তর্ক, বাজে আলাপ, বাজে অনুষ্ঠান, বাজে টিভি, বাজে রেডিও এবং বাজে সংবাদ পাঠ করি, ততক্ষণ আল্লাহ থেকে দূরে। সা’ল তুশতারি বলছেন ‘ওয়াসওয়াসা’ মানে আল্লাহ থেকে দূরে থাকা। যা কিছু আল্লাহ-বহির্ভূত তাই ‘ওয়াসওয়াসা’। সুফিদের কবিতা পাঠ করেছি। সবচেয়ে সুন্দর জিনিস আহরণ করেছি। তা হলো পবিত্র, সুন্দর ও ছন্দময় জীবনের আহ্বান। যেখানে পবিত্রতা নেই, সেখান থেকে দূরে থাকেন আল্লাহ। আল্লাহ সুন্দরের প্রতিমূর্তি, সারা দিন সুন্দরের প্রতীক্ষায়। যে খায়নি তার পবিত্র মুখে অল্প একটু খাবার পৌঁছে দি’, যার পরনে কিছু নেই, তাকে অল্প একটু বস্ত্র পৌঁছে দি’। রিকশাওয়ালাকে দি’ সুন্দর হাসি, জড়িয়ে ধরে। আল্লাহর সান্নিধ্য পাই, কারণ সেই আল্লাহর সবচেয়ে কাছের। পবিত্র দিনে পবিত্রের অন্বেষণ করি। হাসি-ঠাট্টা গান নয়, ওগুলো অনেক করেছি, সময়ের মূল্য বুঝেছি। আল্লাহকে কাছে চাইলে উনি মুহূর্তে হাজির। উনি বলেন, এই তো আমি কাছে। আমাকে উপলব্ধি কর, আমি তোমার সবচেয়ে কাছের। তাই যে গানগুলো গেয়েছি না বুঝে সেগুলো আবার গাই। মনটাকে ফুরফুরে করি, যেন হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি। রসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য অনেক আনন্দের। দরুদে থাকি, যতক্ষণ পারি। জল বিনে প্রাণ নেই, তেমনি লাইলাহা বিনে আত্মা নেই। আত্মাতে সেই নূরের খোঁজ করুন, বেহেশত ধরা দেবে। সেই বইটির কথা, যা দিয়ে শুরু করেছিলাম। লেখক যা লিখেছেন তা কোরআনের নির্যাস। কোরআনকে যে স্পষ্ট জ্যোতি বলে জানতে শিখেছে, তার চোখেই বিভাষিত ‘সব পেয়েছির দেশে’। কীভাবে সেই দেশকে দেখি, তা জানাই। চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকায় যে সমস্ত সুন্দর জায়গায় গিয়েছি, তার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পৃথিবীর যত নির্যাতিত মানুষ, যারা জীবনে কিছু পায়নি, তাদের দেখতে পাই চোখের সামনে, তারাই বেহেশতে যাবে। আল্লাহ নূরের দীপাধারে আরেক নূর। ‘নূর মিহিন নূরুল্লাহ’। সেটি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করি। হৃদয় দ্রবীভূত, হৃদয় নুয়ে পড়েছে সেই দীপাধারের সামনে। এর চেয়ে আনন্দের আর কোনো অনুভব নেই। লেখক : সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব। mabbasi@dhaka.net

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

ধর্মচিন্তা সব পেয়েছির দেশ

আপডেট টাইম : ১২:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৬

মুস্তাফা জামান আব্বাসী,,, বইমেলায় ঢুকলাম। উদ্দেশ্য পছন্দমতো দু-একটি বই কেনা। ফিরে আসি ব্যর্থ মনোরথ হয়ে। সব বই তুর্কি ভাষায়। একটি বইও ইংরেজিতে নয়, বাংলায় তো নয়ই। বিশ্বে যে সাড়ে ছয়শ’ কোটি লোক, তাদের মধ্যে আমার অবস্থান কোথায়? নিজকে লেখক অথবা গায়ক বলে দাবি করছি তার কতটুকু বিশ্ব সভায় গিয়ে জোর গলায় বলতে পারব? যে বইটির খোঁজে তুরস্কের বইমেলায় তা ইন্টারনেটে পেলাম। লেখক ঘুরে এসেছেন বেহেশত থেকে। এতে বেহেশতের বর্ণনা নেই। আছে তার মনের অবস্থা। বেহেশত মনের অবস্থার নাম। সেটা এখনই হতে পারে, অর্থাৎ আপনি এখনই বেহেশতে প্রবেশ করতে পারেন। কোরআন শরিফ তন্ন তন্ন করে খুঁজে পাওয়া গেছে যে, আল্লাহ তাঁর নূর ফুঁকে দিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। যে নূর অক্ষুণ্ন রাখবে সে বেহেশতে আছে। ‘সব পেয়েছির দেশ’ সেটাই। সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলো দেখে এলাম, এদের সৌন্দর্য বেহেশত থেকে কম হবে না। আল্লাহ তাঁর বেহেশতের বর্ণনা লুকিয়ে রেখেছেন আমাদের দৃষ্টি থেকে। বলছেন, নদীর কথা, সে তো আমাদের দেশেই আছে। বলেছেন, ঝরনার কথা, দার্জিলিং গেলেই পেয়ে যাব কয়েকটি ঝরনা, যার পানিতে গোসল করেছি। বলেছেন, মেঘপুঞ্জের কথা, বৃষ্টির কথা, আমাদের দেশেই বর্তমান। আরব দেশে নেই। শেষ কথা বলেছেন আল্লাহ : ‘তোমাকে এমন কিছু দেব, যা তোমার কল্পনায় ধরে না।’ অর্থাৎ মনের অবস্থা। যা আমার সবচেয়ে ভালো লাগবে তাই আমি পাব। এ পৃথিবীতেও তাই। যদি নূরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হই, তা হলে যা চাইব, পাব এখানেই। বত্রিশ বছর আগে যখন হজে যাই এখনকার মতো পথ-ঘাট ভালো ছিল না। খিদে লাগলে বসে যেতাম পথ-ঘাটের দোকানে। পেট পুরে খেয়ে অল্প কিছু পয়সা দিতে হতো। চারদিক গ্রামের মতো, এখন সবটাই শহর, ক্রেডিট কার্ডে সব কেনা যায়, মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলা যায়। টাকা পকেটে থাকলে সবই আছে। অথচ আমার মনে হচ্ছে, আগের কষ্টটাই যেন ভালো ছিল। এখন আমার মন চায় আগের কা’বা, আগের মানুষ, আগের পথ-ঘাট। আমার মনের অবস্থাটাই হলো আসল। নবীর পায়ের চিহ্ন খোঁজার জন্য মদিনার পথে-ঘাটে ছোটাছুটি করেছি যেমনটি করেছিলেন কবি কাজী নজরুল, তার কত গানে গেয়েছিলেন আমার পিতা। সারাক্ষণ নবীর জন্য ক্রন্দন করেছি। বার কয়েক আরব ভূমিতে যাওয়ার পর মনের সেই অবস্থা এখন আর নেই। কঠিন হয়ে পড়েছি, চোখে পানি নেই। নবীকে দেখতে পাচ্ছি না। নাত পড়ার সময় চোখে আর পানি নেই। তা হলে মনের অবস্থাটাই আসল। মনের অবস্থাই দোজখ অথবা বেহেশত। যখন আল্লাহর কাছে উপস্থিত, বেহেশতি। যখন আল্লাহ থেকে দূরে, তখন বেহেশতও আমা থেকে দূরে। মসজিদে ঢুকলেই যে, বেহেশতি হব, তা নয়। প্রয়োজন আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকা। যারা পাশে বসে নামাজ পড়েন তাদের স্পর্শ করলে পবিত্র হই। ওদের দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। তখন বেহেশতি। এটাই উপলব্ধি। যতক্ষণ কোরআন পড়ি, ততক্ষণ বেহেশতি। কোরআন ছেড়ে যতক্ষণ বাজে তর্ক, বাজে আলাপ, বাজে অনুষ্ঠান, বাজে টিভি, বাজে রেডিও এবং বাজে সংবাদ পাঠ করি, ততক্ষণ আল্লাহ থেকে দূরে। সা’ল তুশতারি বলছেন ‘ওয়াসওয়াসা’ মানে আল্লাহ থেকে দূরে থাকা। যা কিছু আল্লাহ-বহির্ভূত তাই ‘ওয়াসওয়াসা’। সুফিদের কবিতা পাঠ করেছি। সবচেয়ে সুন্দর জিনিস আহরণ করেছি। তা হলো পবিত্র, সুন্দর ও ছন্দময় জীবনের আহ্বান। যেখানে পবিত্রতা নেই, সেখান থেকে দূরে থাকেন আল্লাহ। আল্লাহ সুন্দরের প্রতিমূর্তি, সারা দিন সুন্দরের প্রতীক্ষায়। যে খায়নি তার পবিত্র মুখে অল্প একটু খাবার পৌঁছে দি’, যার পরনে কিছু নেই, তাকে অল্প একটু বস্ত্র পৌঁছে দি’। রিকশাওয়ালাকে দি’ সুন্দর হাসি, জড়িয়ে ধরে। আল্লাহর সান্নিধ্য পাই, কারণ সেই আল্লাহর সবচেয়ে কাছের। পবিত্র দিনে পবিত্রের অন্বেষণ করি। হাসি-ঠাট্টা গান নয়, ওগুলো অনেক করেছি, সময়ের মূল্য বুঝেছি। আল্লাহকে কাছে চাইলে উনি মুহূর্তে হাজির। উনি বলেন, এই তো আমি কাছে। আমাকে উপলব্ধি কর, আমি তোমার সবচেয়ে কাছের। তাই যে গানগুলো গেয়েছি না বুঝে সেগুলো আবার গাই। মনটাকে ফুরফুরে করি, যেন হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি। রসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য অনেক আনন্দের। দরুদে থাকি, যতক্ষণ পারি। জল বিনে প্রাণ নেই, তেমনি লাইলাহা বিনে আত্মা নেই। আত্মাতে সেই নূরের খোঁজ করুন, বেহেশত ধরা দেবে। সেই বইটির কথা, যা দিয়ে শুরু করেছিলাম। লেখক যা লিখেছেন তা কোরআনের নির্যাস। কোরআনকে যে স্পষ্ট জ্যোতি বলে জানতে শিখেছে, তার চোখেই বিভাষিত ‘সব পেয়েছির দেশে’। কীভাবে সেই দেশকে দেখি, তা জানাই। চীন, জাপান, রাশিয়া, আমেরিকায় যে সমস্ত সুন্দর জায়গায় গিয়েছি, তার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পৃথিবীর যত নির্যাতিত মানুষ, যারা জীবনে কিছু পায়নি, তাদের দেখতে পাই চোখের সামনে, তারাই বেহেশতে যাবে। আল্লাহ নূরের দীপাধারে আরেক নূর। ‘নূর মিহিন নূরুল্লাহ’। সেটি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করি। হৃদয় দ্রবীভূত, হৃদয় নুয়ে পড়েছে সেই দীপাধারের সামনে। এর চেয়ে আনন্দের আর কোনো অনুভব নেই। লেখক : সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব। mabbasi@dhaka.net