ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে সবার আগে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ২৬১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রণয়ন করছে সরকার। শিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি তাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত পাঠ শেখানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমে।

২০২৩ সাল থেকে বদলে যাবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা। যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমের খসড়া রূপরেখার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে সবার আগে।

এ ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও যাতে বাদ না পড়েন। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা যাতে সার্বজনীন থাকে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো-ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত ও যুক্তি, জীবন ও জীবিকা, সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। এসব বিষয়ে আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পারদর্শী হতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হবে না।

বর্তমান শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষার মাধ্যমে। অপরদিকে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়মে শিক্ষকদের হাতেই বেশিরভাগ নম্বর রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকরা শুধু ক্লাসে পড়িয়ে গেলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝল কিনা সেটিও নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষককেই। নতুন শিক্ষাক্রমে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। তা না হলে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার পাঠ্যসূচিতে নানামুখী পরিবর্তন আনছে-এটা খুবই ভালো পদক্ষেপ। সমাজের অবহেলিত হিজড়াদেরও জন্যও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং তা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাক্রমে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

এতে করে যে কোনো লিঙ্গ পরিচয়বহনকারী শিক্ষার্থীরা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাদের লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশও নিশ্চিত করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা খুবই আশাব্যঞ্জক। শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ে হিজড়াদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক পরিবর্তনের বিষয় সংযুক্ত করা হবে, যা সময়োপযোগী। আশা করছি, পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বদরুল হাসান : অধ্যক্ষ, এমবি গ্রামার স্কুল, চট্টগ্রাম

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে সবার আগে

আপডেট টাইম : ১১:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রণয়ন করছে সরকার। শিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি তাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত পাঠ শেখানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমে।

২০২৩ সাল থেকে বদলে যাবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা। যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমের খসড়া রূপরেখার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে সবার আগে।

এ ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও যাতে বাদ না পড়েন। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা যাতে সার্বজনীন থাকে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো-ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত ও যুক্তি, জীবন ও জীবিকা, সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। এসব বিষয়ে আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পারদর্শী হতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হবে না।

বর্তমান শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষার মাধ্যমে। অপরদিকে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়মে শিক্ষকদের হাতেই বেশিরভাগ নম্বর রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকরা শুধু ক্লাসে পড়িয়ে গেলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝল কিনা সেটিও নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষককেই। নতুন শিক্ষাক্রমে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। তা না হলে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার পাঠ্যসূচিতে নানামুখী পরিবর্তন আনছে-এটা খুবই ভালো পদক্ষেপ। সমাজের অবহেলিত হিজড়াদেরও জন্যও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং তা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাক্রমে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

এতে করে যে কোনো লিঙ্গ পরিচয়বহনকারী শিক্ষার্থীরা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাদের লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশও নিশ্চিত করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা খুবই আশাব্যঞ্জক। শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ে হিজড়াদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক পরিবর্তনের বিষয় সংযুক্ত করা হবে, যা সময়োপযোগী। আশা করছি, পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বদরুল হাসান : অধ্যক্ষ, এমবি গ্রামার স্কুল, চট্টগ্রাম