,

image-440378-1625697163

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল স্বপ্নের ফাইনাল

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আলিঙ্গনে বেঁধে সবার আগে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুনিয়ার তাবৎ ফুটবলপ্রেমীর কাছ থেকে আসলে ধন্যবাদ প্রাপ্য আর্জেন্টিনার ‘টাইব্রেকার-বীর’ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের।

তার নৈপুণ্যেই যে কোপা আমেরিকার মঞ্চে ১৪ বছর পর দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল স্বপ্নের ফাইনাল। আগের দিন প্রথম সেমিফাইনালে পেরুকে ১-০ গোলে হারানোর পর ফাইনালে বন্ধু মেসির আর্জেন্টিনাকে পাওয়ার ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছিল ব্রাজিলের স্বপ্নসারথি নেইমারের কণ্ঠে।

বুধবার সকালে তার ইচ্ছা পূরণ করেছেন মার্তিনেজ। ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকায় টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে কলম্বিয়ার তিনটি শট ঠেকিয়ে অ্যাস্টন ভিলা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ফাইনালে তুলেছেন আর্জেন্টিনাকে।

বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৬টায় ব্রাজিলের ফুটবল তীর্থ মারাকানায় শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই লাতিন পরাশক্তি। দেশের জার্সিতে ফাইনালের মঞ্চে প্রথমবারের মতো দেখা হবে দুই লাতিন জাদুকর মেসি ও নেইমারের।

জাতীয় দলের হয়ে শিরোপার হাহাকার ঘোচাতে আর একটি জয় দরকার মেসির। এর আগে কোপা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে চারবার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে প্রতিবারই স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় পুড়তে হয়েছে তাকে। শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ কোপার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হার দিয়ে।

১৪ বছর পর আবারও মেসির স্বপ্ন পূরণের পথে শেষবাধা সেই ব্রাজিল। সেমিতে নেইমারের সমর্থন পেলেও ফাইনালে প্রিয় বন্ধু তার স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারেন। ফাইনালে দুই দলেরই সমান সুযোগ দেখছেন মেসি, ‘আমরা দুজন খুব ভালো বন্ধু।

এ কারণেই নেইমার চেয়েছে আমিও যেন ফাইনালে উঠি। আমরা দুজনই এখন ফাইনালে। শেষ লড়াইটা হবে সমানে সমান। দুই দলের জন্যই ম্যাচটা কঠিন হবে। ফাইনালে ওঠার প্রথম লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় আমরা সবাই খুব রোমাঞ্চিত। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শিরোপা জিততে এবার বেশি উন্মুখ আমরা।’

মার্তিনেজ-বীরত্বে দল কলম্বিয়া-বাধা পেরোলেও মেসির অবদান তাতে কম নয়। কলম্বিয়ার শরীরনির্ভর ফুটবলে রক্তাক্ত হয়েও দমে যাননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। গোড়ালি থেকে রক্ত ঝরলেও টাইব্রেকারে দলের প্রথম শটে লক্ষ্যভেদ করে সতীর্থদের সাহস জোগান মেসি।

এর আগে মূল ম্যাচেও তার পাস থেকেই ৭ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। ৬১ মিনিটে কলম্বিয়াকে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান লুইস দিয়াজ। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আসা কলম্বিয়া এবার আর পারেনি। মেসির মতো হুয়ান কুয়াদরাদোও কলম্বিয়ার প্রথম শটে গোল করেছিলেন।

এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব মাত্র গত মাসেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষিক্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। একে একে তিনি আটকে দেন সানচেজ ও ইয়েরি মিনার দুটি পেনালটি।

ওদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে পেনালটি মিস করেন দি পল। কিন্তু লাওতারো ও পারেদেস গোল করে দলকে চিন্তামুক্ত করেন। কলম্বিয়ার হয়ে বোরহা চতুর্থ শটে গোল করলেও কার্দোনার শেষ শট রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মার্তিনেজ।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর