,

10

দু’একদিন হাসপাতালেই চিকিৎসা হবে খালেদা জিয়ার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার রাতে নেয়া হয় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থতি এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তার চেস্টের সিটি স্ক্যান, হৃদযন্ত্রের ইসিজি, ইকো কার্ডিওগ্রাম করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফলাফলগুলো পর্যালোচনা করা পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তার মেডিকেল টিমের প্রধান প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমরা উনার অন্যান্য যেসব পরীক্ষা গত এক বছর করতে পারিনি সেগুলো করাবো। আমরা রিপোর্টগুলো পেলে তা রিভিউ করবো। একে অস্থির হয়ে উনাকে ভর্তি করালাম। রিপোর্ট ঠিকমতো না দেখে আবার নিয়ে গেলাম, আবার একটা দুইটা পরীক্ষার জন্য আবার উনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলাম-এটা ভালো দেখায় না। সেজন্য বিভিন্ন পরীক্ষাগুলো সারতে আমরা উনাকে কেবিনে ভর্তি করিয়েছি।
খালেদা জিয়াকে কতদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে প্রশ্ন করা হলে এফএম সিদ্দিকী বলেন, এক-দুইদিন, ম্যাক্সিমাম। রিপোর্টগুলো পাওয়ার পর তার রিভিউ করবো। তারপর উনাকে বাসায় নিয়ে আসবো।
খালেদা জিয়ার অবস্থা কেমন জানতে চাইলে ডা. সিদ্দিকী বলেন, উনার অবস্থা স্থিতিশীল। কোভিডের কোনো উপসর্গ উনার নেই। উনি ভালো আছেন। আমরা উনার চেস্টের সিটি স্ক্যান করিয়েছি। প্রথম যে সিটি স্ক্যান করিয়েছিলাম, তার চেয়ে রিপোর্ট অনেক ভালো। সেই দিক দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ উনি সার্বিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কোভিডের অন্যান্য প্যারামিটারগুলো ঠিক আছে।
এদিকে গতকাল রাত ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। উনার (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা বাসায় চলছিলো সেই চিকিৎসাসহ সেখানে আরো কিছু নতুন ঔষধ যুক্ত করা হয়েছে এবং যোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে আলহামদুল্লিলাহ উনি (খালেদা জিয়া) এখন স্টেবল।
তিনি বলেন, বুধবার একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। এভার কেয়ার হাসপাতালের ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। আর এই বোর্ডে ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিকী, প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং প্রফেসর মো. আল মামুনও আজকে ছিলেন। এই বোর্ড উনার এই পর্যন্ত যেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তার রিভিউ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আরও কিছু পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন। বোর্ডের সুপারিশ মোতাবেক পরীক্ষাগুলো আজকে (গতকাল) অথবা কালকে (আজ) হবে। সেসব পরীক্ষাগুলো রিভিউ করে ম্যাডামের সার্বিক চিকিৎসার প্ল্যানিংটা সম্পন্ন হবে।
ডা. জাহিদ বলেন, দেশবাসীসহ দলের নেতা-কর্মীদের কাছে আমি উনার জন্য দোয়া করার কথা বলছি। আমরা খুবই আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ ম্যাডাম খুব শিগগিরই উনার বাসায় ফিরে যাবেন। এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিতসাধীন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত এই মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার।
করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জাহিদ হোসেন বলেন, আলহামদুলিল্লাহ গত ১৫ এপ্রিল ম্যাডামের সিটি স্ক্যান করা হয়েছিলো সেখানে আমরা রিপোর্ট দেখে বলেছিলাম ফুসফুসে উনার ‘মিনিমাম ইনভোলবমেন্ট’ আছে। মঙ্গলবারে যে চেস্টে সিটি স্ক্যান হয়েছে সেখানে বিন্দুমাত্র ‘ইনভোলবমেন্ট’ নেই। কাজেই আল্লাহ‘র কাছে শুকরিয়া এটা ভালো দিক। উনার হৃদযন্ত্রেরও মধ্যে কোনো ধরনের কার্ডিও সমস্যা নেই। কালকে ডাক্তার সাহেবরা যে পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়েছেন সেই রিপোর্টে নেই।
খালেদা জিয়া নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন: প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডাম করোনা আক্রান্ত হলেও এখন উনার কোনো করোনা উপসর্গ নেই। উনি এখন নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসার নিয়মই আছেই দুই সপ্তাহের পরে রোগীর কোনো সিমটম না থাকে তাহলে করোনা টেস্ট আর করানোরই প্রয়োজন নেই। তখন ধরে নিতে হবে উনার কাছ থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।
খালেদা জিয়া কবে বাসায় ফিরবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাসায় ফেরার বিষয়টা প্রেডিক্ট করাটা খুব টাফ। উনার পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলে বোর্ড রিভিউ করবেন। তারপরে আমরা আশা করতে পারি খুব সহসাই উনার বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত আর্থাটাইটিজ, ডায়াবেটিক, চোখের সমস্যায় ভুগছেন।
জাহিদ বলেন, আপনারা তো জানেন যে, উনার অন্যসমস্ত অসুখ রয়েছে অর্থাত রেউমেটেড আর্থারাইটিস, অ্যাপিলেট ডিভিশনের যে সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেডিকেল বোর্ডের যে সুপারিশ ছিলো- সিভিয়ার এসিটেন্স। সেই অসুখ তো উনার আছেই। সেই রোগের চিকিৎসার জন্য তার আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন, আধুনিক কেন্দ্রের প্রয়োজন। অর্থ্যাৎ সি নিডস মর্ডার টিট্রমেন্ট ইন এ ডেভেলপ সেন্টার। এই সুপারিশটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বোর্ড করেছিলেন। সেটা যদি আমাদের করতে হয়- পরিবারের সদস্যরা অনেক দিন আগে সরকারের কাছে দরখাস্ত করেছেন- উনাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া উচিত সুচিকিৎসার জন্য। সেই তো ওই সময়ে করোনা পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলন ডা. মোহাম্মদ আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।#

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর