ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য, টিসিবির কার্যক্রমটি সম্প্রসারিত করতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১
  • ৩৪৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যে চার পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এই পণ্যগুলো হলো- চিনি, মসুর, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ।

রমজান ও রমজানপূর্ব সময়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। জানা গেছে, সারা দেশে ৪০০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বুধবার থেকে চলা এ কার্যক্রম চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

টিসিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, এ বিক্রি কার্যক্রম শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে পরিচালিত হবে; তবে রমজান উপলক্ষ্যে ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৫০০টি ট্রাকে এ চার পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এসব ট্রাকের প্রতিটিতে চিনি বরাদ্দ দেওয়া হবে ৫০০-৬০০ কেজি, মসুর ৩০০-৫০০ কেজি, পেঁয়াজ ৩০০-১০০০ কেজি এবং সয়াবিন বরাদ্দ দেওয়া হবে ৫০০-১০০০ লিটার। একজন ভোক্তা প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা দরে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৪ কেজি কিনতে পারবেন, মসুর ৫৫ টাকা দরে সর্বোচ্চ ২ কেজি, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে এবং সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন প্রতি লিটার ৯০ টাকা দরে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কেজি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে চার পণ্য বিক্রির যে আয়োজন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বস্তুত বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম হাঁকা হচ্ছে, তা স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিসিবির আলোচ্য কার্যক্রমে এই শ্রেণির মানুষের দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হবে নিশ্চয়ই। তবে আমরা মনে করি, শুধু চার পণ্য নয়, রমজানে আরও যেসব পণ্যের প্রয়োজন পড়ে, সেসব পণ্যও এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

দ্বিতীয় কথা, এ কার্যক্রম শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, গ্রাম পর্যায়েও তা বিস্তৃত করতে হবে। এজন্য পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে, তা-ও বাড়াতে হবে। মোট কথা, অধিকসংখ্যক ভোক্তার কাছে পণ্যগুলো পৌঁছানোর জন্য সেগুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ থাকতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, যেসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, সেসব পণ্যের মান যাতে ভালো হয়, সেদিকটাতেও নজর দেওয়া দরকার।

রমজান মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশেষ মাস। এ মাসে ইফতার ও সেহরি দুটি অতিরিক্ত খাদ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত হয় রোজাদারদের ক্ষেত্রে। আর তাই প্রয়োজন পড়ে কতগুলো বিশেষ খাদ্যপণ্যের।

অথচ আমরা দেখি একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি রোজায় কৃত্রিমভাবে এই বিশেষ পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থার বিপরীতে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির যে ব্যবস্থা করেছে, তাকে সাধুবাদ জানাতে হয়। এ কার্যক্রম সফল হোক- এটাই প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য, টিসিবির কার্যক্রমটি সম্প্রসারিত করতে হবে

আপডেট টাইম : ০৩:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যে চার পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এই পণ্যগুলো হলো- চিনি, মসুর, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ।

রমজান ও রমজানপূর্ব সময়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। জানা গেছে, সারা দেশে ৪০০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বুধবার থেকে চলা এ কার্যক্রম চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

টিসিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, এ বিক্রি কার্যক্রম শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে পরিচালিত হবে; তবে রমজান উপলক্ষ্যে ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৫০০টি ট্রাকে এ চার পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এসব ট্রাকের প্রতিটিতে চিনি বরাদ্দ দেওয়া হবে ৫০০-৬০০ কেজি, মসুর ৩০০-৫০০ কেজি, পেঁয়াজ ৩০০-১০০০ কেজি এবং সয়াবিন বরাদ্দ দেওয়া হবে ৫০০-১০০০ লিটার। একজন ভোক্তা প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা দরে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৪ কেজি কিনতে পারবেন, মসুর ৫৫ টাকা দরে সর্বোচ্চ ২ কেজি, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে এবং সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন প্রতি লিটার ৯০ টাকা দরে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কেজি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে চার পণ্য বিক্রির যে আয়োজন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বস্তুত বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম হাঁকা হচ্ছে, তা স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিসিবির আলোচ্য কার্যক্রমে এই শ্রেণির মানুষের দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হবে নিশ্চয়ই। তবে আমরা মনে করি, শুধু চার পণ্য নয়, রমজানে আরও যেসব পণ্যের প্রয়োজন পড়ে, সেসব পণ্যও এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

দ্বিতীয় কথা, এ কার্যক্রম শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, গ্রাম পর্যায়েও তা বিস্তৃত করতে হবে। এজন্য পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে, তা-ও বাড়াতে হবে। মোট কথা, অধিকসংখ্যক ভোক্তার কাছে পণ্যগুলো পৌঁছানোর জন্য সেগুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ থাকতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, যেসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, সেসব পণ্যের মান যাতে ভালো হয়, সেদিকটাতেও নজর দেওয়া দরকার।

রমজান মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশেষ মাস। এ মাসে ইফতার ও সেহরি দুটি অতিরিক্ত খাদ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত হয় রোজাদারদের ক্ষেত্রে। আর তাই প্রয়োজন পড়ে কতগুলো বিশেষ খাদ্যপণ্যের।

অথচ আমরা দেখি একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি রোজায় কৃত্রিমভাবে এই বিশেষ পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থার বিপরীতে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির যে ব্যবস্থা করেছে, তাকে সাধুবাদ জানাতে হয়। এ কার্যক্রম সফল হোক- এটাই প্রত্যাশা।