ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ ২৪৮২ অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, আ.লীগ পুনর্বাসনের কারিগর কে এই ফিরোজ জেনে নিন বিনাখরচে কিভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া যাবে নেপালে শুটিংয়ে গিয়ে তাণ্ডবের মুখোমুখি অপু, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা ৪২ কি.মি. যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকা শত শত গাড়ি ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ এনসিপির সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আইরিন খান ১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ

সরকারি চিনিকলে দুর্নীতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১
  • ২৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সরকারি চিনিকলগুলোকে বছরের পর বছর ভর্তুকি প্রদান করা হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে এসব প্রতিষ্ঠান।

অব্যাহত লোকসানের কারণে প্রতিযোগিতায় বেসরকারি কোম্পানির তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে এসব কোম্পানি।

সরকারের ১৫টি চিনিকলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি চিনিকলগুলোর লোকসানের পরিমাণ কমাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক্ষেত্রে কেন কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি, তা চিহ্নিত করা দরকার।

বস্তুত, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও ডিলারদের জামানত তছরুপ করার সাহস পেত না দুর্নীতিবাজরা।

ভুয়া শ্রমিকের নামে চার গুণের বেশি মজুরি উত্তোলন, প্রকৃত লোকসানের চেয়ে অতিরিক্ত দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া-এসব অনিয়ম কি দেখার কেউ নেই? বছরের পর বছর এসব দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সরকারি চিনিকলে উৎপাদিত প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ৩০০ টাকা, যা বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ২০০ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়। বাজারে এ চিনির চাহিদা ব্যাপক।

কিন্তু বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের কারণে তা ঠিকমতো সরবরাহ না করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এ খাতের বাজার এক রকম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চিনিকলগুলোর কোনটি সম্ভাবনাময় আর কোনটির উৎপাদন স্থগিত রাখা উচিত, তা চিহ্নিত করার কাজটি কি খুব জটিল?

অধিক লোকসানি মিলগুলো বন্ধ করা বা বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না কেন? কী কী কারণে চিনিকলগুলো লোকসান গুনছে, তা চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। চিনিকলের কর্মচারীরা বছরে মাত্র কয়েক মাস কাজে থাকেন। মাসের পর মাস তারা অলস সময় কাটান। এর অবসান জরুরি। বিভিন্ন বাইপ্রোডাক্ট উৎপাদনের মাধ্যমে লোকসান ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া যায়।

চিনিকলগুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এগুলোকে যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে না, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার বিষয়টি বহুল আলোচিত। মোটকথা, ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় আমূল সংস্কারসহ যা যা করা দরকার, দ্রুত সেসব পদক্ষেপ নিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে

সরকারি চিনিকলে দুর্নীতি

আপডেট টাইম : ০৯:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সরকারি চিনিকলগুলোকে বছরের পর বছর ভর্তুকি প্রদান করা হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে এসব প্রতিষ্ঠান।

অব্যাহত লোকসানের কারণে প্রতিযোগিতায় বেসরকারি কোম্পানির তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে এসব কোম্পানি।

সরকারের ১৫টি চিনিকলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি চিনিকলগুলোর লোকসানের পরিমাণ কমাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক্ষেত্রে কেন কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি, তা চিহ্নিত করা দরকার।

বস্তুত, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও ডিলারদের জামানত তছরুপ করার সাহস পেত না দুর্নীতিবাজরা।

ভুয়া শ্রমিকের নামে চার গুণের বেশি মজুরি উত্তোলন, প্রকৃত লোকসানের চেয়ে অতিরিক্ত দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া-এসব অনিয়ম কি দেখার কেউ নেই? বছরের পর বছর এসব দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সরকারি চিনিকলে উৎপাদিত প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ৩০০ টাকা, যা বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ২০০ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়। বাজারে এ চিনির চাহিদা ব্যাপক।

কিন্তু বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের কারণে তা ঠিকমতো সরবরাহ না করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এ খাতের বাজার এক রকম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চিনিকলগুলোর কোনটি সম্ভাবনাময় আর কোনটির উৎপাদন স্থগিত রাখা উচিত, তা চিহ্নিত করার কাজটি কি খুব জটিল?

অধিক লোকসানি মিলগুলো বন্ধ করা বা বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না কেন? কী কী কারণে চিনিকলগুলো লোকসান গুনছে, তা চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। চিনিকলের কর্মচারীরা বছরে মাত্র কয়েক মাস কাজে থাকেন। মাসের পর মাস তারা অলস সময় কাটান। এর অবসান জরুরি। বিভিন্ন বাইপ্রোডাক্ট উৎপাদনের মাধ্যমে লোকসান ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া যায়।

চিনিকলগুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এগুলোকে যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে না, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার বিষয়টি বহুল আলোচিত। মোটকথা, ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় আমূল সংস্কারসহ যা যা করা দরকার, দ্রুত সেসব পদক্ষেপ নিতে হবে।