ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভূমি অফিসে আইপি ক্যামেরা: দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে কঠোর মনিটরিংই কাম্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৫৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভূমিসংক্রান্ত যে কোনো সেবা পেতে মানুষকে নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এর অবসানে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও সেসব কার্যত তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ই-নামজারি। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও রেকর্ড অব রাইটস (আরওআর) কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় কোনো ভালো পদক্ষেপ নিলে ভূমি অফিসের দালাল ও দুর্নীতিবাজ চক্র বিকল্প পথ বের করে ফেলে।

এ কারণে বন্ধ হয়নি ভূমি নিয়ে দুর্নীতি ও জনহয়রানি। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রতিটি এসি ল্যান্ড অফিসে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে লাইভ মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও মনিটরিং ছাড়াও অডিও রেকর্ড করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অ্যাপে প্রবেশ করে গোপনেও ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম মনিটর করা সম্ভব হবে।

পদক্ষেপটি ভালো সন্দেহ নেই; তবে দালাল ও দুর্নীতিবাজরা এক্ষেত্রে যাতে বিকল্প পথ বের করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দেখতে হবে শর্ষের মধ্যে যেন কোনো ভূত না থাকে; অর্থাৎ মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা যেন কোনোভাবেই দুর্নীতিপরায়ণ না হন।

ভূমির সঙ্গে মানুষের আমৃত্যু সম্পর্ক। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভূমির গুরুত্ব। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে জমিসংক্রান্ত মালিকানা নিয়ে বিরোধ বেড়েই চলেছে। সবাই ভূমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছেন। একইসঙ্গে বাড়ছে এ বিষয়ক প্রতারণাও। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মামলার মোট ৮৭ শতাংশের মূল কারণ ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ। এর ফলে আদালতে মামলাজট তৈরি হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি রোধ করা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন।

এক জরিপে ভূমি খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই ভূমি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। আশার কথা, মন্ত্রণালয় এদিকে দৃষ্টি দিয়েছে। সরকার এ খাতে হয়রানি ও অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আমরা আশা করব, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে দেশের মানুষ ভূমিসংক্রান্ত দুর্নীতি ও হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে-এটাই কাম্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি অফিসে আইপি ক্যামেরা: দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে কঠোর মনিটরিংই কাম্য

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভূমিসংক্রান্ত যে কোনো সেবা পেতে মানুষকে নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এর অবসানে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও সেসব কার্যত তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ই-নামজারি। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও রেকর্ড অব রাইটস (আরওআর) কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় কোনো ভালো পদক্ষেপ নিলে ভূমি অফিসের দালাল ও দুর্নীতিবাজ চক্র বিকল্প পথ বের করে ফেলে।

এ কারণে বন্ধ হয়নি ভূমি নিয়ে দুর্নীতি ও জনহয়রানি। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রতিটি এসি ল্যান্ড অফিসে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে লাইভ মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও মনিটরিং ছাড়াও অডিও রেকর্ড করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অ্যাপে প্রবেশ করে গোপনেও ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম মনিটর করা সম্ভব হবে।

পদক্ষেপটি ভালো সন্দেহ নেই; তবে দালাল ও দুর্নীতিবাজরা এক্ষেত্রে যাতে বিকল্প পথ বের করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দেখতে হবে শর্ষের মধ্যে যেন কোনো ভূত না থাকে; অর্থাৎ মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা যেন কোনোভাবেই দুর্নীতিপরায়ণ না হন।

ভূমির সঙ্গে মানুষের আমৃত্যু সম্পর্ক। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভূমির গুরুত্ব। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে জমিসংক্রান্ত মালিকানা নিয়ে বিরোধ বেড়েই চলেছে। সবাই ভূমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছেন। একইসঙ্গে বাড়ছে এ বিষয়ক প্রতারণাও। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মামলার মোট ৮৭ শতাংশের মূল কারণ ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ। এর ফলে আদালতে মামলাজট তৈরি হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি রোধ করা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন।

এক জরিপে ভূমি খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই ভূমি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। আশার কথা, মন্ত্রণালয় এদিকে দৃষ্টি দিয়েছে। সরকার এ খাতে হয়রানি ও অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আমরা আশা করব, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে দেশের মানুষ ভূমিসংক্রান্ত দুর্নীতি ও হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে-এটাই কাম্য।