ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ ২৪৮২ অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, আ.লীগ পুনর্বাসনের কারিগর কে এই ফিরোজ জেনে নিন বিনাখরচে কিভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া যাবে নেপালে শুটিংয়ে গিয়ে তাণ্ডবের মুখোমুখি অপু, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা ৪২ কি.মি. যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকা শত শত গাড়ি ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ এনসিপির সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আইরিন খান ১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ

লোকাল ট্রেন অবহেলিত কেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৫৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা মহামারির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছুদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমে এলে দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়; তবে লোকাল ট্রেনগুলো এখনো চালু হয়নি। অথচ দেশে ট্রেনযাত্রীর ৭৫ শতাংশই লোকাল ট্রেনের।

স্বভাবতই লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় এসব যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ ট্রেন বন্ধ থাকায় সিংহভাগ রেলস্টেশনে নেই যাত্রীদের ভিড়।

ফলে এ স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভর করে যেসব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো, তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, করোনার কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অনেক আসন ফাঁকা থাকায় কমছে রেলওয়ের আয়ও। বোঝা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

আমরা মনে করি, স্বল্প দূরত্বের ট্রেনযাত্রীদের অবহেলার চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে কর্মজীবী মানুষ ট্রেনযোগে বড় বড় শহরের কর্মস্থলে আসে এবং কাজ শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে যায়। অথচ এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের রেলব্যবস্থা এখনো অনেক পিছিয়ে। লোকাল রেলব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে আমরাও কর্মজীবীদের জন্য এমন সুবিধা করে দিতে পারি। দেশে গণপরিবহণ ব্যবস্থা ভালো নয়।

অধিকাংশ মানুষ বাসে চলাচল করে। বাসের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং বাসের সেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, দেশে সড়কপথে দুর্ঘটনার হার অত্যন্ত বেশি। এ পরিপ্রেক্ষিতে লোকাল ট্রেন হতে পারে যথার্থ বিকল্প। কারণ ট্রেনভ্রমণ অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।

লোকাল ট্রেনব্যবস্থার উন্নতি হলে ঢাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষ সহজেই রাজধানীতে এসে কাজ শেষে বাসস্থানে ফিরে যেতে পারবে। এতে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে। কাজেই সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত লোকাল ট্রেনের ওপর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া।

বস্তুত দেশে লোকাল ট্রেনের প্রতি কর্তৃপক্ষের অবহেলা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে ট্রেন থামে না; নেই কোনো স্টেশন মাস্টার।

এসব কারণে দেশের রেলব্যবস্থা এখনো যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। এতে আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলওয়ে। তাই আমরা মনে করি, এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

এ লক্ষ্যে দেশে অধিকসংখ্যক ইঞ্জিন ও কোচ আমদানি করা প্রয়োজন। রেললাইনের সংস্কার হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। মোট কথা, লোকাল ট্রেনের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধিসহ দেশের সার্বিক রেলব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে

লোকাল ট্রেন অবহেলিত কেন

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা মহামারির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছুদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমে এলে দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়; তবে লোকাল ট্রেনগুলো এখনো চালু হয়নি। অথচ দেশে ট্রেনযাত্রীর ৭৫ শতাংশই লোকাল ট্রেনের।

স্বভাবতই লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় এসব যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ ট্রেন বন্ধ থাকায় সিংহভাগ রেলস্টেশনে নেই যাত্রীদের ভিড়।

ফলে এ স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভর করে যেসব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো, তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, করোনার কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অনেক আসন ফাঁকা থাকায় কমছে রেলওয়ের আয়ও। বোঝা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

আমরা মনে করি, স্বল্প দূরত্বের ট্রেনযাত্রীদের অবহেলার চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে কর্মজীবী মানুষ ট্রেনযোগে বড় বড় শহরের কর্মস্থলে আসে এবং কাজ শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে যায়। অথচ এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের রেলব্যবস্থা এখনো অনেক পিছিয়ে। লোকাল রেলব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে আমরাও কর্মজীবীদের জন্য এমন সুবিধা করে দিতে পারি। দেশে গণপরিবহণ ব্যবস্থা ভালো নয়।

অধিকাংশ মানুষ বাসে চলাচল করে। বাসের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং বাসের সেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, দেশে সড়কপথে দুর্ঘটনার হার অত্যন্ত বেশি। এ পরিপ্রেক্ষিতে লোকাল ট্রেন হতে পারে যথার্থ বিকল্প। কারণ ট্রেনভ্রমণ অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।

লোকাল ট্রেনব্যবস্থার উন্নতি হলে ঢাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষ সহজেই রাজধানীতে এসে কাজ শেষে বাসস্থানে ফিরে যেতে পারবে। এতে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে। কাজেই সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত লোকাল ট্রেনের ওপর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া।

বস্তুত দেশে লোকাল ট্রেনের প্রতি কর্তৃপক্ষের অবহেলা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে ট্রেন থামে না; নেই কোনো স্টেশন মাস্টার।

এসব কারণে দেশের রেলব্যবস্থা এখনো যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। এতে আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলওয়ে। তাই আমরা মনে করি, এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

এ লক্ষ্যে দেশে অধিকসংখ্যক ইঞ্জিন ও কোচ আমদানি করা প্রয়োজন। রেললাইনের সংস্কার হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। মোট কথা, লোকাল ট্রেনের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধিসহ দেশের সার্বিক রেলব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে।