,

আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৮

বগুড়ার নবাব পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ আলী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তার দাদা সৈয়দ আবদুস সোবহান চৌধুরী হলেন বগুড়া নবাববাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী ও সৈয়দ হামদে আলী। হাম্মাদ আলী পাকিস্তান সরকারের এমএলএ ছিলেন। তার মেয়ে হামিদা আলী বৃটেনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে লন্ডনের ব্রো ক্রোয়াইডন অঞ্চলের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। মোহাম্মদ আলীর ছোট ছেলে হামদে আলী এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। মোহাম্মদ আলীর ফুফা হলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির জমিদার ও অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। তার ছেলে সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী ও পরে জিয়া সরকারের এমপি। নওয়াব আলীর নাতনি সৈয়দা আশিকা আকবর সাবেক এমপি। তার ছেলে আফিফ আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার নবাব আবদুস সোবহান চৌধুরীর আদিবাড়ি হলো দেলদুয়ার, জমিদার (গজনবী) পরিবার। গজনবী পরিবারের বউ করিমুন্নেসা খানম চৌধুরী ছিলেন রংপুর পায়রাবন্দের জমিদার কন্যা এবং বেগম রোকেয়ার বড় বোন। সে হিসেবে টাঙ্গাইলের গজনবী পরিবার, বগুড়া ও ধনবাড়ির জমিদার পরিবারের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন।
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট জাতীয় চার নেতার অন্যতম প্রয়াত সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে হলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী। সৈয়দ নজরুলের ছোট ভাই সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তার ছেলে সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের আহ্বায়ক। আবার সৈয়দ নজরুলের শ্যালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান মিয়া ছিলেন পিডিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কটিয়াদি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তার ছেলে সৈয়দ মইনুজ্জামান অপু আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার সৈয়দ আশরাফ হলেন হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজানের সম্পর্কে ভায়রা। অন্যদিকে হবিগঞ্জের বিখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সন্তান সৈয়দ সৈয়দুদ্দিনের দুই ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল বিএনপি জেলা সভাপতি ও তার ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার জাতীয় পার্টির নেতা ও এরশাদ সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাভোগ করছেন। সৈয়দ কায়সারের ছোট ভাই মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান। সৈয়দ ফয়সালের ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ হুমায়ুনের স্ত্রীর বড় ভাই হলেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত। সৈয়দ ফয়সালের ফুফাতো ভাই হলেন মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের বিখ্যাত সংগঠক ও রাজনীতিক কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী। আর মানিক চৌধুরীর মেয়ে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বর্তমান সরকারের এমপি। আবার বরিশালের সৈয়দ পরিবারের সদস্য যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বড় ভাই সৈয়দ দুলাল বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নাট্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং আরেক ভাই প্রয়াত সৈয়দ হেলাল ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা।
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের ছোটভাই অধ্যক্ষ আবদুল হক নুরু হলেন মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। প্রেসিডেন্টের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বর্তমান সরকারের এমপি। আর আবদুল হামিদের খালা শাশুড়ি হলেন চারদলীয় জোট সরকারের (জামায়াত) সাবেক এমপি হাফেজা আসমা খাতুন। তার ছেলে সাইফুল্লাহ মনসুরের শ্বশুর হলেন জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী। নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী হলেন মহিলা জামায়াতের শীর্ষ নেত্রী। আবার আসমা খাতুনের বেয়াই হলেন জামায়াতের সাবেক আমীর মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত অধ্যাপক গোলাম আযম। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের আপন ছোট ভাই হলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি নাজমুল হাসান জাহেদ। তাদের চাচাতো ভাই হলেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন। সাবেক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া-১ আসনের এমপি আবদুল মান্নানের ভায়রা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বগুড়া-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হাবিবুর রহমানের ছেলের শ্বশুর হলেন রাজবাড়ীর আওয়ামী লীগদলীয় এমপি কাজী কেরামত আলী। হাবিব এমপির শ্যালক হলেন ধুনটের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আকতার আলম সেলিম। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি খাদেমুল ইসলামের শ্যালিকা হলেন সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি সেলিনা জাহান লিটা। মাগুরার সংরক্ষিত আসনের এমপি কামরুল লায়লা জলি হলেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শেখরের বোন। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজমের বোনের জামাই হলেন জঙ্গিবাদের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আবদুর রহমান।
চারদলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কুষ্টিয়ার আহসানুল হক মোল্লা (পচা মোল্লা)। তার ছেলে বাচ্চু মোল্লা বিএনপি সরকারের এমপি এবং ভাতিজি জামাই আফাজউদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি ছিলেন। বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের দুই বেয়াই হলেন সিলেটের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শফি আহমেদ চৌধুরী ও চলচ্চিত্র লীগের সভাপতি আবদুল খালেক। শফি চৌধুরী তার মেয়ের শ্বশুর এবং আবদুল খালেক ছেলের শ্বশুর। বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী কুমিল্লার কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন বীরপ্রতীকের মামাতো ভাই হলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দোহারের সাবেক এমপি আবদুল মান্নানের মেয়ের জামাই হলেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম। নরসিংদীর বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই ও ভায়রা। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফার ছোট বোনের জামাই হলেন ওয়ান ইলেভেনের সময় দুদকের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা মে. জে. (অব.) এমএ মতিন। রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের ভাগনি বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলি।
সংশোধনী: ‘আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৫’ পর্বে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আবদুস সালাম তালুকদারের ভাতিজার নাম ফরিদুল আলম তালুকদার ছাপা হয়েছে। তার প্রকৃত নাম হবে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। একই পর্বে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমুর পদবী আওয়ামী লীগের ‘প্রেসিডিয়াম সদস্য’র স্থলে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হবে। ৬ষ্ঠ পর্বে, চট্টগ্রামের প্রয়াত আহমেদ কবির চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন লেখা হলেও তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন না। একই পর্বে ‘বৃহত্তর ফরিদপুরের আরেকটি চৌধুরী পরিবার হলে মঠবাড়িয়ার চরের চৌধুরী পরিবার’-এর স্থলে হবে ‘মাদারীপুরের শিবচর মাদবরের চরের চৌধুরী পরিবার’। ৭ম পর্বে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি রওশন জাহান সাথী হলেন জাসদের প্রয়াত শীর্ষ নেতা কাজী আরেফ আহমেদ’ ছাপা হয়েছে। সঠিক হবে রওশন জাহান সাথী হলেন জাসদের প্রয়াত শীর্ষ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের স্ত্রী। একই পর্বের শেষ লাইনে ‘তারেক আরেক মেয়ে আফরোজা খান রিতা হলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি’ ছাপা হয়েছে। সঠিক হবে ‘হারুনার রশিদ খান মুন্নুর আরেক মেয়ে আফরোজা খান রিতা হলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর