ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

৩ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে ১৩০০ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৯
  • ৩৮০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এ বছরের শুরু থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে কমপক্ষে ১৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। ভারত তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে এমন আতঙ্কে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছে। এমন কথা বলেছেন ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) মুখপাত্র নয়না বোস। এ সংস্থাটি জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো ও অন্যান্য বিদেশী মানবিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে। নয়না বলেছেন, এ বছর ৩রা জানুয়ারি থেকে এভাবে নতুন আসা রোহিঙ্গার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর জন্য সেদেশের সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়। সেই নৃশংসতা বা নির্যাতন এখনো হচ্ছে না তা নয়। মাঝে মাঝেই খবর পাওয়া যায়, সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এমন অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতিত এই সম্প্রদায়ের বেশ কিছু সংখ্যক সদস্যকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। এ জন্য তাদের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। জাতিসংঘ থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ও অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো ভারতকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অসম্মান করার অভিযোগ উত্থাপন করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ভারত। তারা ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার করেছে ২৩০ জন রোহিঙ্গাকে। রোহিঙ্গাদেরকে এভাবে গ্রেপ্তার ও তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। তারা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে। এএফপিকে নয়না বোস বলেছেন, ৩০০ পরিবারের প্রায় ১৩০০ সদস্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তাদেরকে জাতিসংঘের ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিরাস আল খতিব বলেছেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত জাতিসংঘের এ এজেন্সি। সম্প্রতি যেসব রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে আটক করেছে পুলিশ এবং পাঠিয়ে দিয়েছে কক্সবাজারে শরণার্থীদের শিবিরে।

উল্লেখ্য, ভারতে বসবাস করছেন প্রায় ৪০০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম। দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী ভয়াবহ নির্যাতন ও অবহেলার শিকার। তাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই দেশে। মিয়ানমার তাদেরকে দেখে থাকে বাঙালি হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চায় যে, রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী। তাদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে যে নৃশংসতা শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাকে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

এমন নৃশংসতার কারণে বাধ্য হয়ে তাদের কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আগে থেকেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা একই রকম নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এখন কমপক্ষে ১০ লাখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

৩ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে ১৩০০ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশে

আপডেট টাইম : ১২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এ বছরের শুরু থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে কমপক্ষে ১৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। ভারত তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে এমন আতঙ্কে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছে। এমন কথা বলেছেন ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) মুখপাত্র নয়না বোস। এ সংস্থাটি জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো ও অন্যান্য বিদেশী মানবিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে। নয়না বলেছেন, এ বছর ৩রা জানুয়ারি থেকে এভাবে নতুন আসা রোহিঙ্গার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর জন্য সেদেশের সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়। সেই নৃশংসতা বা নির্যাতন এখনো হচ্ছে না তা নয়। মাঝে মাঝেই খবর পাওয়া যায়, সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এমন অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতিত এই সম্প্রদায়ের বেশ কিছু সংখ্যক সদস্যকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। এ জন্য তাদের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। জাতিসংঘ থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ও অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো ভারতকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অসম্মান করার অভিযোগ উত্থাপন করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ভারত। তারা ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার করেছে ২৩০ জন রোহিঙ্গাকে। রোহিঙ্গাদেরকে এভাবে গ্রেপ্তার ও তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। তারা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে। এএফপিকে নয়না বোস বলেছেন, ৩০০ পরিবারের প্রায় ১৩০০ সদস্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তাদেরকে জাতিসংঘের ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিরাস আল খতিব বলেছেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত জাতিসংঘের এ এজেন্সি। সম্প্রতি যেসব রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে আটক করেছে পুলিশ এবং পাঠিয়ে দিয়েছে কক্সবাজারে শরণার্থীদের শিবিরে।

উল্লেখ্য, ভারতে বসবাস করছেন প্রায় ৪০০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম। দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী ভয়াবহ নির্যাতন ও অবহেলার শিকার। তাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই দেশে। মিয়ানমার তাদেরকে দেখে থাকে বাঙালি হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চায় যে, রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী। তাদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে যে নৃশংসতা শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাকে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

এমন নৃশংসতার কারণে বাধ্য হয়ে তাদের কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আগে থেকেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা একই রকম নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এখন কমপক্ষে ১০ লাখ।