ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ “ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন

ও ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া…

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০১৫
  • ৯৭৩ বার

এক সময় সকালে ঘুম ভাঙ্গত যে ঢেঁকির ধুমধাম শব্দে, তা আজ আর শোনা যায় না। গ্রামবাংলার বধুরা এক সময় ঢেঁকি পারের তালে তালে গান গাইতো। আর তা শুনে মনের দুঃখ-কষ্ট দুর করতো বাড়িতে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ। ঢেঁকি পারের শব্দে মনের ক্লান্তি দুর করে আবার কাজে মন দিত কৃষক।

গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী ঢেঁকি নিয়ে অনেক কবি লেখক কবিতা আর গান লিখেছেন। যেমন- ঢেঁকির তালে হেলে দুলে ধান যে ভানতে পারে তেমনি বউ চাই গ্রামের সাধারণ কৃষকের। কিন্তু সেই ঢেঁকির আজ আর কোনো কদন নেই। আজ মানুষ যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকে পড়ে আগের দিনের গ্রামের ঐতিহ্যকে একেবারেই ভুলে যেতে বসেছে।

গ্রামের বধুরা এক সময় ঢেঁকির তালে তালে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, ঘেটু গানের সুর তুলতো। তারা মনের আনন্দে ‘ও ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া/আমি নাচি ঢেঁকি নাচে হেলিয়া-দুলিয়া, ও ধান ভানোরে’ গানটি গাইতেন।

বিয়ের কনেকে গাঁয়ে গলুদ মাখাতে পাড়ার মহিলারা একত্রে হয়ে বিয়ের গীত গাইতো। সেই দিনের সেই সময়গুলো আজ শুধুই স্বপ্ন। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বাড়ির উঠানে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে যখন সারাদেশে মাতোয়ারা ঠিক তখন গ্রামের মহিলারা নতুন ধানে পিঠা তৈরিতে মনোনিবেশ করতো। আর পিঠা তৈরির জন্য চাউলের গুড়া করতে ঢেঁকির কোনো বিকল্প ছিল না।

ঢেঁকি ছাটা চাউলের ভাত গ্রামের কৃষকের প্রাণের চাওয়া ছিল। আর আজ দেশে যান্ত্রিক মেশিনে ছাটা চাউল আগের দিনের মতো হয় না। ঢেঁকিতে করা চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরি হয়েছে মন মাতানো সব পিঠা। যার মধ্যে পুলি, ভাপাপুলি, চিতাই, পাটিসাপটা, কুশলি, ভাজাপিঠাসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।

এখন গ্রাম থেকে সেই ঢেঁকি উঠে গেছে। এলাকার দু‘একটি বাড়িতে ঢেঁকি দেখা গেলেও তার প্রচলন আর আগের মতো নেই। বলা চলে, ঢেঁকি শিল্পটি প্রায়ই বিলুপ্তির পথে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা

ও ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া…

আপডেট টাইম : ১০:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০১৫

এক সময় সকালে ঘুম ভাঙ্গত যে ঢেঁকির ধুমধাম শব্দে, তা আজ আর শোনা যায় না। গ্রামবাংলার বধুরা এক সময় ঢেঁকি পারের তালে তালে গান গাইতো। আর তা শুনে মনের দুঃখ-কষ্ট দুর করতো বাড়িতে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ। ঢেঁকি পারের শব্দে মনের ক্লান্তি দুর করে আবার কাজে মন দিত কৃষক।

গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী ঢেঁকি নিয়ে অনেক কবি লেখক কবিতা আর গান লিখেছেন। যেমন- ঢেঁকির তালে হেলে দুলে ধান যে ভানতে পারে তেমনি বউ চাই গ্রামের সাধারণ কৃষকের। কিন্তু সেই ঢেঁকির আজ আর কোনো কদন নেই। আজ মানুষ যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকে পড়ে আগের দিনের গ্রামের ঐতিহ্যকে একেবারেই ভুলে যেতে বসেছে।

গ্রামের বধুরা এক সময় ঢেঁকির তালে তালে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, ঘেটু গানের সুর তুলতো। তারা মনের আনন্দে ‘ও ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া/আমি নাচি ঢেঁকি নাচে হেলিয়া-দুলিয়া, ও ধান ভানোরে’ গানটি গাইতেন।

বিয়ের কনেকে গাঁয়ে গলুদ মাখাতে পাড়ার মহিলারা একত্রে হয়ে বিয়ের গীত গাইতো। সেই দিনের সেই সময়গুলো আজ শুধুই স্বপ্ন। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বাড়ির উঠানে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে যখন সারাদেশে মাতোয়ারা ঠিক তখন গ্রামের মহিলারা নতুন ধানে পিঠা তৈরিতে মনোনিবেশ করতো। আর পিঠা তৈরির জন্য চাউলের গুড়া করতে ঢেঁকির কোনো বিকল্প ছিল না।

ঢেঁকি ছাটা চাউলের ভাত গ্রামের কৃষকের প্রাণের চাওয়া ছিল। আর আজ দেশে যান্ত্রিক মেশিনে ছাটা চাউল আগের দিনের মতো হয় না। ঢেঁকিতে করা চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরি হয়েছে মন মাতানো সব পিঠা। যার মধ্যে পুলি, ভাপাপুলি, চিতাই, পাটিসাপটা, কুশলি, ভাজাপিঠাসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।

এখন গ্রাম থেকে সেই ঢেঁকি উঠে গেছে। এলাকার দু‘একটি বাড়িতে ঢেঁকি দেখা গেলেও তার প্রচলন আর আগের মতো নেই। বলা চলে, ঢেঁকি শিল্পটি প্রায়ই বিলুপ্তির পথে।