ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

গণপরিবহন আগের তালেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮
  • ৪৯৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর গণপরিবহনে এখনো শৃঙ্খলা ফেরেনি। সব চলছে সেই আগের তালেই। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনারও তোয়াক্কা করছে না মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বাসের ভেতরে চালকের ছবিসহ নাম, মোবাইল নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি কোনো গণপরিবহনের ভেতরে দেখা যায়নি। যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানও বন্ধ হয়নি। বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ার পর কেউ গেট বন্ধ রাখছে না।

সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পরিবহন মালিকরা মুখ খুলছেন না। টেলিফোনে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কেউই। অবশ্য সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা আসেনি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক মাসের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন নগরীর মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, সায়েন্সল্যারেটরি, শাহবাগ, পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনের কোনো বাস বা মিনিবাসের ভেতরে চালকদের সামনে তাদের ছবি, নাম, মোবাইল নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি লাগানো দেখা যায়নি। অনেক বাসচালক বলছেন, তারা নতুন নিয়মের ব্যাপারে জানেন না। আবার অনেকে বলেছেন, মালিকরাও এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানায়নি। মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তানগামী সব পরিবহনকে রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ করে বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করাতে দেখা গেছে।

ফার্মগেট থেকে শিশুপার্কের সামনে পর্যন্ত সড়কেও দেখা গেছে, চালকরা তাদের ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। শাহবাগে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে যাত্রী ওঠানামা করালেও ট্রাফিক পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সবচেয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা ফার্মগেট, পল্টন মোড়, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, গোলাপশাহ মাজার এলাকায়। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার মাঝখানে বাস থামানোসহ গণপরিবহনের সবকিছু আগের মতোই অরাজক অবস্থায় চলছে। একটুও বদলায়নি।

কোনো পরিবহন চালককেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। এমনকি সরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির বাসেও চালকদের ছবি ও লাইসেন্সের ফটোকপি দেখা যায়নি। মোহাম্মদপুর-নতুনবাজার ও উত্তরা-গুলিস্তান রুটের বিআরটিসি বাসের চালকরাও সরকারের নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না। অন্যান্য পাবলিক বাসের মতো বিআরটিসি বাসের গেটও বন্ধ করা হয় না। গেট বন্ধ না থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীরা এখনো ওঠানামা করছেন।

সরকারের নির্দেশনা না মানার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর-গুলিস্তান রুটের এফটিসিএল পরিবহনের চালক কালাম জানান, ঈদের ছুটির আগে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি এখনো কাটেনি। অনেক চালক এখনো ঢাকায় আসেনি। সব বাস চলাচল শুরু হলেই ওই নির্দেশনা মেনেই গাড়ি চালানো হবে। ছুটির কারণে এখন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ফাঁকা থাকে। তাই রাস্তা ফাঁকা থাকায় যাত্রীরা ইশারা করলেই গাড়ি থামিয়ে তুলে নেই, আবার নামতে চাইলে নামিয়ে দেই। কালাম আরো জানান, দৈনিক জমার ভিত্তিতেই এখনো বাস চালাচ্ছেন। দিন শেষে মালিকের হাতে নির্ধারিত চুক্তির টাকা তুলে দেয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

গণপরিবহন আগের তালেই

আপডেট টাইম : ১২:০০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর গণপরিবহনে এখনো শৃঙ্খলা ফেরেনি। সব চলছে সেই আগের তালেই। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনারও তোয়াক্কা করছে না মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বাসের ভেতরে চালকের ছবিসহ নাম, মোবাইল নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি কোনো গণপরিবহনের ভেতরে দেখা যায়নি। যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানও বন্ধ হয়নি। বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ার পর কেউ গেট বন্ধ রাখছে না।

সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পরিবহন মালিকরা মুখ খুলছেন না। টেলিফোনে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কেউই। অবশ্য সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা আসেনি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক মাসের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন নগরীর মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, সায়েন্সল্যারেটরি, শাহবাগ, পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনের কোনো বাস বা মিনিবাসের ভেতরে চালকদের সামনে তাদের ছবি, নাম, মোবাইল নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি লাগানো দেখা যায়নি। অনেক বাসচালক বলছেন, তারা নতুন নিয়মের ব্যাপারে জানেন না। আবার অনেকে বলেছেন, মালিকরাও এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানায়নি। মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তানগামী সব পরিবহনকে রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ করে বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করাতে দেখা গেছে।

ফার্মগেট থেকে শিশুপার্কের সামনে পর্যন্ত সড়কেও দেখা গেছে, চালকরা তাদের ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। শাহবাগে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে যাত্রী ওঠানামা করালেও ট্রাফিক পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সবচেয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা ফার্মগেট, পল্টন মোড়, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, গোলাপশাহ মাজার এলাকায়। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার মাঝখানে বাস থামানোসহ গণপরিবহনের সবকিছু আগের মতোই অরাজক অবস্থায় চলছে। একটুও বদলায়নি।

কোনো পরিবহন চালককেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। এমনকি সরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির বাসেও চালকদের ছবি ও লাইসেন্সের ফটোকপি দেখা যায়নি। মোহাম্মদপুর-নতুনবাজার ও উত্তরা-গুলিস্তান রুটের বিআরটিসি বাসের চালকরাও সরকারের নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না। অন্যান্য পাবলিক বাসের মতো বিআরটিসি বাসের গেটও বন্ধ করা হয় না। গেট বন্ধ না থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীরা এখনো ওঠানামা করছেন।

সরকারের নির্দেশনা না মানার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর-গুলিস্তান রুটের এফটিসিএল পরিবহনের চালক কালাম জানান, ঈদের ছুটির আগে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি এখনো কাটেনি। অনেক চালক এখনো ঢাকায় আসেনি। সব বাস চলাচল শুরু হলেই ওই নির্দেশনা মেনেই গাড়ি চালানো হবে। ছুটির কারণে এখন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ফাঁকা থাকে। তাই রাস্তা ফাঁকা থাকায় যাত্রীরা ইশারা করলেই গাড়ি থামিয়ে তুলে নেই, আবার নামতে চাইলে নামিয়ে দেই। কালাম আরো জানান, দৈনিক জমার ভিত্তিতেই এখনো বাস চালাচ্ছেন। দিন শেষে মালিকের হাতে নির্ধারিত চুক্তির টাকা তুলে দেয়া হয়।