খুব ছোটবেলাতেই নাচ ও গান বাবা-মায়ের ইচ্ছাতেই শিখেছিলেন। সুন্দরী ছিলেন। স্কুল জীবনে অভিনয় করেন মঞ্চে। এরপর বান্ধবীরা চেপে ধরলে তার ভেতরেও শখ জাগে অভিনয় জগতে পা রাখার।
পরিচিতজনদের নিজেরে ইচ্ছার কথা জানিয়ে রাখেন। দুই, একটা কাজেরও অফার পান। মুখোপাধ্যায়। ‘ইয়ে হ্যায় মহাব্বতে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। তার নাম, কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়। পরে ‘শুভ সগুন’ ডেইলি সোপে কাজ করেন। বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়ে যান রাতারাতি। এতোটুকু ঠিক ছিল।
কিন্তু মিডিয়া পাড়ার সবাই তো আর এক রকম না। ভালো ও আছে। মন্দও আছে। ‘শুভ সগুন’ ডেইলি সোপে কাজ করার সময়ও তার জীবনে এমন কিছু বিভৎস ঘটনা ঘটেছে যা আজও তাকে আতঙ্কগ্রস্ত করে। এখন একজন সাইকোলজিস্টের কাছে থেরাপি নিচ্ছেন। তবু অজানা ভয় পান। রাতে ঘুমাতে পান না। চিকিৎসক বলেছেন মনের কথা লেখতে। তাই ইন্সট্রাগ্রামে লেখেছেন। সেসব ভয়াবহ দিনের।
ইন্ডিয়া টিভি এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করেছে । এইসময় রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
তিনি পোস্টে লেখেন, মেকআপ রুমে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছিল। পাঁচ মাসের বেতন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক এখনো বাকি। প্রযোজকের পক্ষ থেকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সে জন্যই এত দিন মুখ বুঝে ছিলেন। ভাবতেন, আবার যদি তাঁর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে। নতুন কাজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতেও ভয় পান কৃষ্ণা। একা একাই ঘরে কেঁদেছেন।
এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণা আরও লিখেছেন, ‘আমি আগে মনের ভেতর জমে থাকা কথাগুলো বলার জন্য সাহস পাইনি। কিন্তু আজ সব বলব। আমি একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গত এক থেকে দেড় বছর জীবনে অনেক কিছু সহ্য করেছি। যেগুলো আমার জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। ভেঙে পড়েছি। যখন একা থাকি, তখন প্রচণ্ড কান্না পায়। এসব কিছুর সূত্রপাত আমার শেষ শো “শুভ সগুনের” সেট থেকে। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভুল পদক্ষেপ। ’
কৃষ্ণা লিখেছেন, ‘আমি এই শো করতে চাইনি। কিন্তু সবার কথা শুনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছি। প্রযোজনা সংস্থা ও প্রযোজক কুন্দন সিং আমাকে একাধিকবার সমস্যায় ফেলেছেন। এমনকি আমাকে একটা দিন মেকআপ রুমে আটকে রাখা হয়েছিল। সেদিন আমার শরীর ভালো ছিল না। বলেছিলাম, শুটিং করতে পারব না। তা ছাড়া সেই সময় আমার অনেকগুলো বকেয়া টাকাও ছিল। মেকআপ রুমে এত জোরে ধাক্কা মেরেছিল যেন মনে হচ্ছিল ভেঙে যাবে। সেই মুহূর্তে আমি পোশাক বদলাচ্ছিলাম। ’
কৃষ্ণা লিখেছেন, সম্ভবত আর অভিনয় জগতে ফেরা হবে না। এখন সুস্থ হয়ে উঠি এই চাই
Reporter Name 

























