ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮
  • ৪৮০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা নিরাপত্তা ও তাদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে এ প্রকল্প। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই খাতে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার সবটাই কি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাজে আসে? রাজশাহীর কথাই ধরা যাক। গত এক দশকে এ জেলায় মানবিক সহায়তা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগে ক্ষতির পুনর্বাসন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসৃজনসহ জনহিতকর বিভিন্ন খাতে সাড়ে আটশ’ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অথচ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনে এই টাকার তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পড়ার কথাও নয়। কারণ বরাদ্দ দেয়া টাকার বেশিরভাগই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হয়েছে।

বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে এক দশকে জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা পড়েছে কয়েকশ’ অভিযোগ। বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, অথবা কাদের মাধ্যমে তা বণ্টন করা হয়েছে, এসবেরও কোনো তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

অর্থাৎ টাকা নিয়ে এক ধরনের হরিলুট হয়েছে। এই লুটে কারা অংশ নিয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট। এমপির আস্থাভাজন নেতাকর্মী অথবা তার আত্মীয়স্বজন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার- এরা মিলেই আত্মসাৎ করেছেন টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা নিঃসন্দেহে সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। অথচ শুধু রাজশাহী নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না?

সরকারের উপর মহলের কোনো তদারকিই কি নেই এ প্রকল্পের ওপর? রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্রকল্প নিয়ে যখনই অভিযোগ উঠেছে, তখনই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কী সেই আইনগত ব্যবস্থা? খোয়া যাওয়া টাকা কি উদ্ধার হয়েছে?

অথবা কারও বিরুদ্ধে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? তিনি একটি স্ববিরোধী কথাও বলেছেন। তার মতে, জনবল কম থাকায় তার দফতর সব প্রকল্পের তদারকি করতে পারেনি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, এই প্রকল্পে কোনো নজরদারি নেই। যে যার মতো করে সরকারের টাকায় ভাগ বসাচ্ছে।

এই অবস্থা চলতে পারে না। যার জন্য টাকা, তার জন্যই খরচ করতে হবে তা। আমরা মনে করি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে নজরদারি প্রয়োজন। সারা দেশেই এই প্রকল্পের চিত্র অভিন্ন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দের টাকা নিয়ে হরিলুট কোনোভাবেই কাম্য নয়।

যুগান্তর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

আপডেট টাইম : ১১:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা নিরাপত্তা ও তাদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে এ প্রকল্প। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই খাতে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার সবটাই কি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাজে আসে? রাজশাহীর কথাই ধরা যাক। গত এক দশকে এ জেলায় মানবিক সহায়তা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগে ক্ষতির পুনর্বাসন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসৃজনসহ জনহিতকর বিভিন্ন খাতে সাড়ে আটশ’ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অথচ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনে এই টাকার তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পড়ার কথাও নয়। কারণ বরাদ্দ দেয়া টাকার বেশিরভাগই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হয়েছে।

বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে এক দশকে জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা পড়েছে কয়েকশ’ অভিযোগ। বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, অথবা কাদের মাধ্যমে তা বণ্টন করা হয়েছে, এসবেরও কোনো তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

অর্থাৎ টাকা নিয়ে এক ধরনের হরিলুট হয়েছে। এই লুটে কারা অংশ নিয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট। এমপির আস্থাভাজন নেতাকর্মী অথবা তার আত্মীয়স্বজন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার- এরা মিলেই আত্মসাৎ করেছেন টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষা নিঃসন্দেহে সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। অথচ শুধু রাজশাহী নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না?

সরকারের উপর মহলের কোনো তদারকিই কি নেই এ প্রকল্পের ওপর? রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্রকল্প নিয়ে যখনই অভিযোগ উঠেছে, তখনই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কী সেই আইনগত ব্যবস্থা? খোয়া যাওয়া টাকা কি উদ্ধার হয়েছে?

অথবা কারও বিরুদ্ধে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? তিনি একটি স্ববিরোধী কথাও বলেছেন। তার মতে, জনবল কম থাকায় তার দফতর সব প্রকল্পের তদারকি করতে পারেনি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, এই প্রকল্পে কোনো নজরদারি নেই। যে যার মতো করে সরকারের টাকায় ভাগ বসাচ্ছে।

এই অবস্থা চলতে পারে না। যার জন্য টাকা, তার জন্যই খরচ করতে হবে তা। আমরা মনে করি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে নজরদারি প্রয়োজন। সারা দেশেই এই প্রকল্পের চিত্র অভিন্ন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দের টাকা নিয়ে হরিলুট কোনোভাবেই কাম্য নয়।

যুগান্তর