ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

২৬ বছর পর স্বপ্ন হলো পূরণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ৩৬৭ বার

২৬ বছর পর স্বপ্ন হলো পূরণ ময়মনসিংহ বিভাগ অনুমোদন। বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আদিভূমি, প্রাচীন ইতিহাসের ধারক ও বাহক উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জেলা ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা দেয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিভাগ ঘোষণার খবর শুনে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারও ছিলো ময়মনসিংহ আনন্দ ও উৎসবের শহর। জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এক সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ এমপির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে এক আনন্দ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

১৯৮৯ ময়মনসিংহ বিভাগ আন্দোলনের সূচনা করে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দালন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জেলা নাগরিক আন্দালন সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, আন্দোলনের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম।

বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্থপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা-সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জেলাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ময়মনসিংহকে বিভাগ বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীকে নয়া বিভাগের প্রায় সোয়া কোটি মানুষের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সেই সাথে বিভাগ বাস্তবায়ের অন্যতম নেতা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদস সদস্য বেগম রওশন এরশাদকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ইকরামূল হক টিটু বিভাগ বাস্তবান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী বিভাগ ঘোষণা করায় দলমত নির্বিশেষ চার জেলার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। বিভাগ করায় শেখ হাসিনার প্রতি এ অঞ্চলের মানুষ আরো ঋণী হয়ে থাকলো। এই ঋণসময় মতো পরিশোধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র টিটু সকলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। ইকরামূল হক টিটু দ্রুত বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে পূণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ দ্রুত ময়মনসিংহকে সিটি কর্পোরেশনসহ্ এ অঞ্চলের আরো গণদাবীগুলো পূরণ করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বলেন দীর্ঘ ২৬ বছর যাবত ধারাবাহিকভাবে বিভাগ আন্দোলন চলছে। অবশেষ জাতির জনকের কণ্যাই আমাদের দাবীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বিভাগ বাস্তবায়ন করেছেন এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে বিভাগ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে আনার জন্য ক্লান্তিহীন লড়াকু জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদস সদস্য বেগম রওশন এরশাদকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই বিভাগ বাস্তবায়নের আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা জেলার বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বলেন, বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে নিয়মতান্ত্রকভাবে, সভা, সমাবেশ, মানববন্ধণ, সংবাদ সম্মেলন, গণসংযোগ, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ, মাইকিং, গণসাক্ষর অভিযান, মোটর কার র্যাালী, রিকশা মিছিল, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কোতুয়ালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ বলেন বিভাগের দাবী কোনো দলীয় বিষয় নয়। এটি দলমত নির্বিশেষ সকলের দাবী। বিভাগ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সকলকে ধস্যবাদ জানান।

ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে নতুন এই বিভাগ গঠনে সোমবার নিকারের বৈবছকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় । নতুন এই বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার প্রায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

২৬ বছর পর স্বপ্ন হলো পূরণ

আপডেট টাইম : ১০:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

২৬ বছর পর স্বপ্ন হলো পূরণ ময়মনসিংহ বিভাগ অনুমোদন। বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আদিভূমি, প্রাচীন ইতিহাসের ধারক ও বাহক উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জেলা ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা দেয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিভাগ ঘোষণার খবর শুনে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারও ছিলো ময়মনসিংহ আনন্দ ও উৎসবের শহর। জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এক সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ এমপির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে এক আনন্দ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

১৯৮৯ ময়মনসিংহ বিভাগ আন্দোলনের সূচনা করে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দালন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জেলা নাগরিক আন্দালন সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, আন্দোলনের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম।

বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্থপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা-সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জেলাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ময়মনসিংহকে বিভাগ বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীকে নয়া বিভাগের প্রায় সোয়া কোটি মানুষের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সেই সাথে বিভাগ বাস্তবায়ের অন্যতম নেতা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদস সদস্য বেগম রওশন এরশাদকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ইকরামূল হক টিটু বিভাগ বাস্তবান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী বিভাগ ঘোষণা করায় দলমত নির্বিশেষ চার জেলার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। বিভাগ করায় শেখ হাসিনার প্রতি এ অঞ্চলের মানুষ আরো ঋণী হয়ে থাকলো। এই ঋণসময় মতো পরিশোধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র টিটু সকলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। ইকরামূল হক টিটু দ্রুত বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে পূণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ দ্রুত ময়মনসিংহকে সিটি কর্পোরেশনসহ্ এ অঞ্চলের আরো গণদাবীগুলো পূরণ করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বলেন দীর্ঘ ২৬ বছর যাবত ধারাবাহিকভাবে বিভাগ আন্দোলন চলছে। অবশেষ জাতির জনকের কণ্যাই আমাদের দাবীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বিভাগ বাস্তবায়ন করেছেন এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে বিভাগ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে আনার জন্য ক্লান্তিহীন লড়াকু জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদস সদস্য বেগম রওশন এরশাদকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই বিভাগ বাস্তবায়নের আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা জেলার বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বলেন, বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে নিয়মতান্ত্রকভাবে, সভা, সমাবেশ, মানববন্ধণ, সংবাদ সম্মেলন, গণসংযোগ, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ, মাইকিং, গণসাক্ষর অভিযান, মোটর কার র্যাালী, রিকশা মিছিল, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কোতুয়ালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ বলেন বিভাগের দাবী কোনো দলীয় বিষয় নয়। এটি দলমত নির্বিশেষ সকলের দাবী। বিভাগ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সকলকে ধস্যবাদ জানান।

ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে নতুন এই বিভাগ গঠনে সোমবার নিকারের বৈবছকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় । নতুন এই বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার প্রায়।