ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শরিয়তে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ছবি নির্মাণ অনৈসলামিক: সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ২১৫ বার

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে নির্মিত ইরানি চলচ্চিত্রকে অনৈসলামিক বলে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল-আশেখ। শরিয়তে এ ছবি নির্মাণের অনুমতি নেই এবং এটা ইসলামবিরোধী কাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার আল হায়াত সংবাদপত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট।
এতে বলা হয়, বুধবার ছবিটি প্রসঙ্গে কথা বলেন আল-আশেখ। ছবিটি প্রদর্শন এবং প্রচারণা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলে, এটা নবীর (সা.) মর্যাদাহানী করেছে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহর (সা.) বিশেষ শারীরিক ও নৈতিক গুণাবলী রয়েছে, যা কখনও চলচিত্রে তুলে ধরা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ছবিটির নির্মাতারা বাস্তবতা তুলে ধরছেন না। এটা অশোভন কাজ, যার কোন ধর্ম নেই। এটা ইসলামের পুরোদস্তুর অবমাননা। যারা নবী (সা.)কে মহিমান্বিত করতে চান তাদের উচিত তাঁর সুন্নাহ প্রচার করা, তার ছবি দেখানো নয়।
আল-আশেখ বলেন, ছবি নির্মাতারা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এদিকে, ‘মুহম্মদ: দ্য মেসেঞ্জার অব গড’ নামের চলচ্চিত্রটির নির্মাতারা বলছেন, এতে নবীর (সা.) জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছেন, ইরানের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটা এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এতে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ডলার। গত সপ্তাহে ইরানের ১৪০টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত করা শুরু হয়। এর পরিচালক মাজিদ মাজিদি বলেন, ১৭১ মিনিট দীর্ঘ এ ছবিটির লক্ষ্য হলো ইসলামের একতা আরও শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, মিশরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ও ছবিটির নিন্দা জানিয়েছে। অবিলম্বে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের (এমডব্লিউএল) মহাসচিব আবদুল্লাহ আল-তুর্কি। সম্প্রতি ছবিটি মন্ট্রিয়াল চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
এদিকে ইরান এই চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদির নির্মিত মহানবীর জীবনআলেখ্যভিত্তিক ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা,)’ বিশ্বের দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। প্রদর্শনী শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ছবিটি ১০ এর মধ্যে ৮.৯ রেটিং অর্জন করেছে। চলচ্চিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো এ হিসাব দিয়েছে।
রেডিও তেহরান জানায়, গত ২৭ আগস্ট ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ১১ শহরের ১৪৩টি প্রেক্ষাগ্রহে এই ছায়াছবির প্রথম পর্বের প্রদর্শন শুরু হয়। একই সময়ে কানাডার মন্ট্রিল চলচ্চিত্র উৎসবের আওতায় সেখানকার দু’টি সিনেমা হলে দেখানো হয়েছে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ছায়াছবি। ইরানে প্রদর্শনীর টিকিট বিক্রি থেকে প্রথম রাতেই উঠে এসেছে ২০০ কোটি রিয়াল।
তেহরানে সিনেমা হলে দর্শকদের ভিড়
তেহরান রেডিও আরো জানায়, চলচ্চিত্র ও টিভি অনুষ্ঠান সংক্রান্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য উৎস ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজ বা আইএমডিবি’র, এক দর্শক লিখেছেন, ‘আর্ট ফিল্মের জগতের রাজাধিরাজ হলেন মাজিদ মাজিদি। ইরানের অনেক বড়মাপের এ সিনেমা প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। এ ছবি দর্শককে বিচিত্র রঙের লহরীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আর মহিমান্বিত সুর লহরী নির্মাণই মাজিদ মাজিদির বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তেরিও স্তোরারোর কুশলী তৎপরতা। তবে কোথাও কোথাও তার কাজ মাত্রা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে যে চিত্রকল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন তা নান্দনিকভাবেই শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছেন মাজিদ মাজিদি।’
এ ছবিটি নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিচালক মাজিদ মাজিদি দাবি করেছেন, ইসলামের সঠিক ভাবমর্যাদা বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ (সা,)’। ইসলাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামের ভাবমর্যাদা পুণরুদ্ধার করাও ছবিটির উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
মহানবী (সা.) কে নিয়ে নির্মিত ট্রিলজি বা তিনখণ্ডের ছায়াছবির এই প্রথম খণ্ডে তাঁর মক্কার জীবনআলেখ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৭১ মিনিটের এ ছায়াছবি নির্মাণে সাত বছর সময় লেগেছে। ইরানের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ ছবি নির্মাণে তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। মোহাম্মদ মাহদি হায়দারিয়ান প্রযোজিত এ ছবির চিত্র ধারণ করা হয়েছে ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শহর বেলা-বেলা’তে।
ছবিটি নির্মাণে চলচ্চিত্র জগতের আন্তর্জাতিক পরিম-লে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা সহযোগিতা করেছেন। এতে কাজ করেছেন ইতালির তিনবারের অস্কারজয়ী সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তোরিও স্তোরারো, ইতালির ফিল্ম এডিটর রোবাতো পেরপিগানি, মার্কিন স্পেশাল এফেক্ট শিল্পী স্কট ই অ্যান্ডারসন, ইতালির মেকআপ আর্টিস্ট গিয়ানেত্তো ডি রোসি এবং ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার আল্লা রাখা রহমান

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শরিয়তে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ছবি নির্মাণ অনৈসলামিক: সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি

আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে নির্মিত ইরানি চলচ্চিত্রকে অনৈসলামিক বলে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল-আশেখ। শরিয়তে এ ছবি নির্মাণের অনুমতি নেই এবং এটা ইসলামবিরোধী কাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার আল হায়াত সংবাদপত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট।
এতে বলা হয়, বুধবার ছবিটি প্রসঙ্গে কথা বলেন আল-আশেখ। ছবিটি প্রদর্শন এবং প্রচারণা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলে, এটা নবীর (সা.) মর্যাদাহানী করেছে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহর (সা.) বিশেষ শারীরিক ও নৈতিক গুণাবলী রয়েছে, যা কখনও চলচিত্রে তুলে ধরা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ছবিটির নির্মাতারা বাস্তবতা তুলে ধরছেন না। এটা অশোভন কাজ, যার কোন ধর্ম নেই। এটা ইসলামের পুরোদস্তুর অবমাননা। যারা নবী (সা.)কে মহিমান্বিত করতে চান তাদের উচিত তাঁর সুন্নাহ প্রচার করা, তার ছবি দেখানো নয়।
আল-আশেখ বলেন, ছবি নির্মাতারা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এদিকে, ‘মুহম্মদ: দ্য মেসেঞ্জার অব গড’ নামের চলচ্চিত্রটির নির্মাতারা বলছেন, এতে নবীর (সা.) জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছেন, ইরানের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটা এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এতে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ডলার। গত সপ্তাহে ইরানের ১৪০টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত করা শুরু হয়। এর পরিচালক মাজিদ মাজিদি বলেন, ১৭১ মিনিট দীর্ঘ এ ছবিটির লক্ষ্য হলো ইসলামের একতা আরও শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, মিশরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ও ছবিটির নিন্দা জানিয়েছে। অবিলম্বে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের (এমডব্লিউএল) মহাসচিব আবদুল্লাহ আল-তুর্কি। সম্প্রতি ছবিটি মন্ট্রিয়াল চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
এদিকে ইরান এই চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদির নির্মিত মহানবীর জীবনআলেখ্যভিত্তিক ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা,)’ বিশ্বের দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। প্রদর্শনী শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ছবিটি ১০ এর মধ্যে ৮.৯ রেটিং অর্জন করেছে। চলচ্চিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো এ হিসাব দিয়েছে।
রেডিও তেহরান জানায়, গত ২৭ আগস্ট ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ১১ শহরের ১৪৩টি প্রেক্ষাগ্রহে এই ছায়াছবির প্রথম পর্বের প্রদর্শন শুরু হয়। একই সময়ে কানাডার মন্ট্রিল চলচ্চিত্র উৎসবের আওতায় সেখানকার দু’টি সিনেমা হলে দেখানো হয়েছে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ছায়াছবি। ইরানে প্রদর্শনীর টিকিট বিক্রি থেকে প্রথম রাতেই উঠে এসেছে ২০০ কোটি রিয়াল।
তেহরানে সিনেমা হলে দর্শকদের ভিড়
তেহরান রেডিও আরো জানায়, চলচ্চিত্র ও টিভি অনুষ্ঠান সংক্রান্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য উৎস ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজ বা আইএমডিবি’র, এক দর্শক লিখেছেন, ‘আর্ট ফিল্মের জগতের রাজাধিরাজ হলেন মাজিদ মাজিদি। ইরানের অনেক বড়মাপের এ সিনেমা প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। এ ছবি দর্শককে বিচিত্র রঙের লহরীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আর মহিমান্বিত সুর লহরী নির্মাণই মাজিদ মাজিদির বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তেরিও স্তোরারোর কুশলী তৎপরতা। তবে কোথাও কোথাও তার কাজ মাত্রা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে যে চিত্রকল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন তা নান্দনিকভাবেই শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছেন মাজিদ মাজিদি।’
এ ছবিটি নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিচালক মাজিদ মাজিদি দাবি করেছেন, ইসলামের সঠিক ভাবমর্যাদা বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ (সা,)’। ইসলাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামের ভাবমর্যাদা পুণরুদ্ধার করাও ছবিটির উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
মহানবী (সা.) কে নিয়ে নির্মিত ট্রিলজি বা তিনখণ্ডের ছায়াছবির এই প্রথম খণ্ডে তাঁর মক্কার জীবনআলেখ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৭১ মিনিটের এ ছায়াছবি নির্মাণে সাত বছর সময় লেগেছে। ইরানের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ ছবি নির্মাণে তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। মোহাম্মদ মাহদি হায়দারিয়ান প্রযোজিত এ ছবির চিত্র ধারণ করা হয়েছে ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শহর বেলা-বেলা’তে।
ছবিটি নির্মাণে চলচ্চিত্র জগতের আন্তর্জাতিক পরিম-লে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা সহযোগিতা করেছেন। এতে কাজ করেছেন ইতালির তিনবারের অস্কারজয়ী সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তোরিও স্তোরারো, ইতালির ফিল্ম এডিটর রোবাতো পেরপিগানি, মার্কিন স্পেশাল এফেক্ট শিল্পী স্কট ই অ্যান্ডারসন, ইতালির মেকআপ আর্টিস্ট গিয়ানেত্তো ডি রোসি এবং ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার আল্লা রাখা রহমান