ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারিবারিক নিষ্ঠুরতা বাড়ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩১৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সমাজের অবক্ষয় দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। বাড়ছে অনাচার, অনৈতিকতা, অপরাধ ও সহিংসতা। তার একটি বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় বাবা-মেয়ে ও মা-ছেলে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে জবাই করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ড্রেন থেকে। এ রকম আরো অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনাই ঘটেছে এ কয়েক দিনে। সমাজ থেকে দয়া, মায়া, মানবিকতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে; তার স্থান করে নিচ্ছে অসহিষ্ণুতা, অসভ্যতা, সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতা। সামান্য চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা কিংবা পেটে বাতাস ঢুকিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে ভাবা যায় কি? অথচ আমরা যেন উদাসীন। এমন উদাসীনতাও সমাজের অবক্ষয়কে উসকে দেয়।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা সামাজিক অবক্ষয় দ্রুততর হওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণকে দায়ী করছেন।

তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, নৈতিকতার স্খলন ও পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙে পড়া, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতা ও সততার অভাব, অপরাধীদের দ্রুত ও সঠিক শাস্তি না হওয়া, সামাজিক প্রতিরোধ না থাকা ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা ও বিনোদনের অভাব, আকাশসংস্কৃতির কুপ্রভাব, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, অপরিমিত ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ইত্যাদি। আবার মাদকের সহজলভ্যতাও তরুণসমাজকে দ্রুত ধ্বংসের পথে টেনে নিচ্ছে। শুধু তরুণ নয়, কিশোররাও ক্রমে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদকাসক্ত এসব তরুণ-কিশোররা মাদক কেনার অর্থ জোগানোর জন্য পারে না হেন কাজ নেই। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধে জড়িয়ে যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে দুর্নীতি প্রায় সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হয়, তখন তার ভেতরে থাকা নৈতিকতাবোধ ক্রমে হারিয়ে যেতে থাকে। তখন ক্রমেই সে নানা রকম অন্যায় কাজে নিজেকে জড়াতে থাকে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থও তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিপথে টানতে থাকে। আমাদের চারপাশে তাকালে এ রকম বহু দৃষ্টান্তই আমাদের চোখে পড়বে।

দ্রুত বর্ধমান এই অবক্ষয় থেকে মুক্তির উপায় কী? সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সব স্তরেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে তাদের নিজ নিজ দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সন্তান মাদকাসক্ত হচ্ছে কি না, অসৎ সংসর্গে যাচ্ছে কি না, সেসব লক্ষ করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা দূর করতে হবে। অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতি, অবৈধ আয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অন্যায় প্রতিরোধে সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পারিবারিক নিষ্ঠুরতা বাড়ছে

আপডেট টাইম : ০২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সমাজের অবক্ষয় দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। বাড়ছে অনাচার, অনৈতিকতা, অপরাধ ও সহিংসতা। তার একটি বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় বাবা-মেয়ে ও মা-ছেলে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে জবাই করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ড্রেন থেকে। এ রকম আরো অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনাই ঘটেছে এ কয়েক দিনে। সমাজ থেকে দয়া, মায়া, মানবিকতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে; তার স্থান করে নিচ্ছে অসহিষ্ণুতা, অসভ্যতা, সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতা। সামান্য চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা কিংবা পেটে বাতাস ঢুকিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে ভাবা যায় কি? অথচ আমরা যেন উদাসীন। এমন উদাসীনতাও সমাজের অবক্ষয়কে উসকে দেয়।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা সামাজিক অবক্ষয় দ্রুততর হওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণকে দায়ী করছেন।

তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, নৈতিকতার স্খলন ও পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙে পড়া, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতা ও সততার অভাব, অপরাধীদের দ্রুত ও সঠিক শাস্তি না হওয়া, সামাজিক প্রতিরোধ না থাকা ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা ও বিনোদনের অভাব, আকাশসংস্কৃতির কুপ্রভাব, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, অপরিমিত ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ইত্যাদি। আবার মাদকের সহজলভ্যতাও তরুণসমাজকে দ্রুত ধ্বংসের পথে টেনে নিচ্ছে। শুধু তরুণ নয়, কিশোররাও ক্রমে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদকাসক্ত এসব তরুণ-কিশোররা মাদক কেনার অর্থ জোগানোর জন্য পারে না হেন কাজ নেই। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধে জড়িয়ে যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে দুর্নীতি প্রায় সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হয়, তখন তার ভেতরে থাকা নৈতিকতাবোধ ক্রমে হারিয়ে যেতে থাকে। তখন ক্রমেই সে নানা রকম অন্যায় কাজে নিজেকে জড়াতে থাকে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থও তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিপথে টানতে থাকে। আমাদের চারপাশে তাকালে এ রকম বহু দৃষ্টান্তই আমাদের চোখে পড়বে।

দ্রুত বর্ধমান এই অবক্ষয় থেকে মুক্তির উপায় কী? সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সব স্তরেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে তাদের নিজ নিজ দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সন্তান মাদকাসক্ত হচ্ছে কি না, অসৎ সংসর্গে যাচ্ছে কি না, সেসব লক্ষ করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা দূর করতে হবে। অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতি, অবৈধ আয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অন্যায় প্রতিরোধে সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।