ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শোধ নেওয়ার অঙ্গীকার রাশিয়ার বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ

আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষি বিভাগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭
  • ৪৭৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দিনাজপুরে সম্প্রতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের রোপনকৃত আমন ক্ষেতে পোকা ও রোগ-বালাই যাতে করে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য কৃষি বিভাগ কাজ শুরু করেছে। ধানক্ষেতে আলোক ফাদ স্থাপন করে পোকা দমনের পাশাপাশি পোকা আক্রমণ হলে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে ব্যাপারে প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছে ওই বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুর অঞ্চলের তথ্যমতে, চলতি বছরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলে ৪ লাখ ৯১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১০ হেক্টর, ঠাকুরগাঁওয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর ও পঞ্চগড়ে ৯৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমি। তিন জেলায় আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০৮ মে.টন চাল।

কৃষকরা বলছেন, এবারে গত ১৩ আগষ্ট থেকে ভয়াবহ বন্যার ফলে তাদের রোপন করা চারার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই অধিকাংশ জমিতে তাদেরকে বাড়তি খরচ করে ২ বার চারা রোপন করতে হয়েছে। এতে করে প্রতি হেক্টরে খরচ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

তাদের মতে, এবারে বন্যার ফলে মাটিতে পলি জমায় জমি উর্বর হয়েছে। তাই বাড়তি খরচ করেও তাদের মনে একটা আশা রয়েছে ভাল ফলন হওয়ায়। তবে আশঙ্কা রয়েছে, যদি নতুন করে পোকা মাকড় কিংবা রোগ-বালাই আক্রমণ করে তাহলে তাদের আশা পুরোটাই ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।

বিরলের ছেতরা গ্রামের কৃষক শ্যামল কুমার রায় জানান, এবারে বন্যার ফলে মাটিতে পলি জমেছে। তাই এখন তার ক্ষেত সবুজের সমারোহ হয়ে উঠেছে। তবে অনেক স্থানেই পোকা ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন তিনি। যদি তার ক্ষেতেও এই ধরনের পোকা কিংবা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয় তাহলে তাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

এদিকে যাতে করে কৃষকদের ফসলে কোন পোকার আক্রমণ না হয় সেজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা আলোক ফাদ করে পোকা দমনের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। একইসাথে ফসলে কোন পোকা কিংবা রোগ বালাই দেখা দিলে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিকার পাওয়া সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকদের ফসল উৎপাদন নিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন জেলাতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও দিনাজপুরে পোকার আক্রমণ অনেক কম। তাই যাতে করে কোনক্রমেই পোকা কিংবা রোগ-বালাই আক্রমণ করতে না পারে এবং কৃষকরা যাতে করে হাসিমুখে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য বিভিন্ন স্থানে আলোক ফাদের সাহায্যে পোকার উপস্থিতি সনাক্ত করে পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একইসাথে পোকা কিংবা রোগ বালাই আক্রমণ হলে কি ধরনের কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে এজন্য প্রচার-প্রচারনা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। কারেন্ট পোকা, বিপিএইচ ও বাদামী গাছ ফরিং ধানের জমিতে আক্রমণ করলে এর জন্য প্লেনাম, মিফসিন ও সফসিন। চুঙ্গি পোকা আক্রমণ করলে এর জন্য ভিরতাকো। ব্লাস্ট  ও খোলা পোচা রোগে জমি আক্রান্ত হলে এর জন্য এমিস্টার টপ, ফিলিয়া, নাটিভো ও ট্রুপার ব্যবহার করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তিনি জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের অবস্থা যেমন এতে করে নতুন কোন পোকা কিংবা রোগ বালাই দেখা না দিলে অনেকটা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে কৃষকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শোধ নেওয়ার অঙ্গীকার রাশিয়ার

আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষি বিভাগ

আপডেট টাইম : ০৬:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দিনাজপুরে সম্প্রতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের রোপনকৃত আমন ক্ষেতে পোকা ও রোগ-বালাই যাতে করে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য কৃষি বিভাগ কাজ শুরু করেছে। ধানক্ষেতে আলোক ফাদ স্থাপন করে পোকা দমনের পাশাপাশি পোকা আক্রমণ হলে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে ব্যাপারে প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছে ওই বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুর অঞ্চলের তথ্যমতে, চলতি বছরে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলে ৪ লাখ ৯১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১০ হেক্টর, ঠাকুরগাঁওয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর ও পঞ্চগড়ে ৯৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমি। তিন জেলায় আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০৮ মে.টন চাল।

কৃষকরা বলছেন, এবারে গত ১৩ আগষ্ট থেকে ভয়াবহ বন্যার ফলে তাদের রোপন করা চারার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই অধিকাংশ জমিতে তাদেরকে বাড়তি খরচ করে ২ বার চারা রোপন করতে হয়েছে। এতে করে প্রতি হেক্টরে খরচ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

তাদের মতে, এবারে বন্যার ফলে মাটিতে পলি জমায় জমি উর্বর হয়েছে। তাই বাড়তি খরচ করেও তাদের মনে একটা আশা রয়েছে ভাল ফলন হওয়ায়। তবে আশঙ্কা রয়েছে, যদি নতুন করে পোকা মাকড় কিংবা রোগ-বালাই আক্রমণ করে তাহলে তাদের আশা পুরোটাই ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।

বিরলের ছেতরা গ্রামের কৃষক শ্যামল কুমার রায় জানান, এবারে বন্যার ফলে মাটিতে পলি জমেছে। তাই এখন তার ক্ষেত সবুজের সমারোহ হয়ে উঠেছে। তবে অনেক স্থানেই পোকা ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন তিনি। যদি তার ক্ষেতেও এই ধরনের পোকা কিংবা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয় তাহলে তাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

এদিকে যাতে করে কৃষকদের ফসলে কোন পোকার আক্রমণ না হয় সেজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা আলোক ফাদ করে পোকা দমনের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। একইসাথে ফসলে কোন পোকা কিংবা রোগ বালাই দেখা দিলে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিকার পাওয়া সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকদের ফসল উৎপাদন নিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন জেলাতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও দিনাজপুরে পোকার আক্রমণ অনেক কম। তাই যাতে করে কোনক্রমেই পোকা কিংবা রোগ-বালাই আক্রমণ করতে না পারে এবং কৃষকরা যাতে করে হাসিমুখে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য বিভিন্ন স্থানে আলোক ফাদের সাহায্যে পোকার উপস্থিতি সনাক্ত করে পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একইসাথে পোকা কিংবা রোগ বালাই আক্রমণ হলে কি ধরনের কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে এজন্য প্রচার-প্রচারনা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। কারেন্ট পোকা, বিপিএইচ ও বাদামী গাছ ফরিং ধানের জমিতে আক্রমণ করলে এর জন্য প্লেনাম, মিফসিন ও সফসিন। চুঙ্গি পোকা আক্রমণ করলে এর জন্য ভিরতাকো। ব্লাস্ট  ও খোলা পোচা রোগে জমি আক্রান্ত হলে এর জন্য এমিস্টার টপ, ফিলিয়া, নাটিভো ও ট্রুপার ব্যবহার করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তিনি জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের অবস্থা যেমন এতে করে নতুন কোন পোকা কিংবা রোগ বালাই দেখা না দিলে অনেকটা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে কৃষকরা।