ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৩ বার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড-এআরটি) হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিমালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড-এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিমালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ‍সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।’

তিনি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরও চারটি প্রকল্প চলমান। বিদেশে বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড-এআরটি) হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিমালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড-এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিমালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ‍সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।’

তিনি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরও চারটি প্রকল্প চলমান। বিদেশে বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।