ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু আখে কৃষকের নতুন আশা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৮২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী; পাবনার ফিজিওলজি অ্যান্ড সুগার কেমিস্ট্র বিভাগের বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের সহযোগিতায় ১১টি ক্লোনের পাঁচটি নতুন জাতের জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু আখ চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। এর ফলে আখের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত ও সমৃদ্ধ করতে নতুন আশা দেখা দিয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে এ আখের চাষ বাড়াতে হবে। দেশের সব জলাবদ্ধ এলাকায় এর চাষ করতে পারলেই আখ ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য, আর কৃষক হবেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। এমনটাই মনে করছেন ইক্ষু ও কৃষি গবেষকরা।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের আওতায় জলাবদ্ধ থাকে এমন এক বিঘা জমিতে প্লট আকারে আই ১২৭-০৯, আই ১৩০-০৯, আই ৮৫-১০, আই ১০১-১০, আই ১০৩-১০, আই ৭-১১, আই ১১১-১১, আই ১৯৮-১১, আই ২৩০-১১, আই ১১৮-১০, আই ১৩১-১০ ক্লোনের মাধ্যমে ঈশ্বরদী-৩৪, ঈশ্বরদী-৩৭, ঈশ্বরদী-৩৯, ঈশ্বরদী-৪০ এবং বিএসআরআই আখ-৪৩ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় শেরপুরের নকলার এক বিঘা জলাবদ্ধ জমিতে বিভিন্ন জাতের ওই আখ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। ফলন দেখে অনেকেই মনে করছেন, সমতল ও উঁচু জমির অন্য আখের চেয়ে এ জাতের আখের উৎপাদন বেশি।
নকলা কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টের মতে, প্রায় ১৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট নকলা উপজেলার ৩০ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি আবাদি এবং ১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমি নিচু এলাকা রয়েছে। তার মধ্যে ৭০০ হেক্টর জমি বরাবর পতিত থেকে যায়। ওইসব নিচু ও জলাবদ্ধ জমিতে নতুন উদ্ভাবিত আখ চাষ করা সম্ভব।

উপজেলার পাঁঠাকাটা ইউনিয়নের চকপাঁঠাকাটা এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি বাপ-দাদার আমল থেকেই আখ চাষ করে আসছেন। তবে বন্যার পানিতে অনেক সময় আখের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু তার নিচু জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ঈশ্বরদী-৩৪ ও বিএসআরআই আখ-৪৩ জাতের চাষ করতে পেরে তিনি খুব খুশি; এখন আর তার ক্ষেত নষ্ট হবে না। তিনি আরও জানান, আগে বর্ষকালে তার নিচু জমি পতিত পড়ে থাকত, শুকনো মৌসুমে মাঝে মধ্যে কিছু জমিতে ধান চাষ করতে পারতেন। কিন্তু ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি ওইসব জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ইক্ষু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন; এতে কৃষি ক্ষেত্রে লাভবান হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ক্রমবর্ধমান মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনেই দিন দিন আবাদি জমি কমছে। এমতাবস্থায় কোনো জমি অনাবাদি থাকলে তাতে কৃষি অর্থনীতির চাকা সচল না হয়ে উল্টো স্থবির হয়ে পড়তে পারে। তাই নিচু ও জলাবদ্ধ পতিত জমিকে কাজে লাগাতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাতের আখ চাষ বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউল আলম জানান, জলাবদ্ধ জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাতের আখ চাষের গভীর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে একদিকে গতি পাবে কৃষি অর্থনীতি, অন্যদিকে কৃষক হবেন স্বাবলম্বী, আখ ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য। তিনি আরও জানান, তারা একসঙ্গে ৫টি জাতের ওপর গবেষণা করেন, তাতে প্রথম বছর যে জাতের সফলতা পাওয়া যায়; পরের বছর ওই জাতের আরও পাঁচটি প্লট করে গবেষণা চালানো হয়। এভাবে ১০ বছর গবেষণার পরে যে ক্লোনের জাতের আখে অধিক সফলতা পাওয়া যায় সে জাতটি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু আখে কৃষকের নতুন আশা

আপডেট টাইম : ১২:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী; পাবনার ফিজিওলজি অ্যান্ড সুগার কেমিস্ট্র বিভাগের বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের সহযোগিতায় ১১টি ক্লোনের পাঁচটি নতুন জাতের জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু আখ চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। এর ফলে আখের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত ও সমৃদ্ধ করতে নতুন আশা দেখা দিয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে এ আখের চাষ বাড়াতে হবে। দেশের সব জলাবদ্ধ এলাকায় এর চাষ করতে পারলেই আখ ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য, আর কৃষক হবেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। এমনটাই মনে করছেন ইক্ষু ও কৃষি গবেষকরা।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের আওতায় জলাবদ্ধ থাকে এমন এক বিঘা জমিতে প্লট আকারে আই ১২৭-০৯, আই ১৩০-০৯, আই ৮৫-১০, আই ১০১-১০, আই ১০৩-১০, আই ৭-১১, আই ১১১-১১, আই ১৯৮-১১, আই ২৩০-১১, আই ১১৮-১০, আই ১৩১-১০ ক্লোনের মাধ্যমে ঈশ্বরদী-৩৪, ঈশ্বরদী-৩৭, ঈশ্বরদী-৩৯, ঈশ্বরদী-৪০ এবং বিএসআরআই আখ-৪৩ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় শেরপুরের নকলার এক বিঘা জলাবদ্ধ জমিতে বিভিন্ন জাতের ওই আখ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। ফলন দেখে অনেকেই মনে করছেন, সমতল ও উঁচু জমির অন্য আখের চেয়ে এ জাতের আখের উৎপাদন বেশি।
নকলা কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টের মতে, প্রায় ১৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট নকলা উপজেলার ৩০ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি আবাদি এবং ১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমি নিচু এলাকা রয়েছে। তার মধ্যে ৭০০ হেক্টর জমি বরাবর পতিত থেকে যায়। ওইসব নিচু ও জলাবদ্ধ জমিতে নতুন উদ্ভাবিত আখ চাষ করা সম্ভব।

উপজেলার পাঁঠাকাটা ইউনিয়নের চকপাঁঠাকাটা এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি বাপ-দাদার আমল থেকেই আখ চাষ করে আসছেন। তবে বন্যার পানিতে অনেক সময় আখের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু তার নিচু জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ঈশ্বরদী-৩৪ ও বিএসআরআই আখ-৪৩ জাতের চাষ করতে পেরে তিনি খুব খুশি; এখন আর তার ক্ষেত নষ্ট হবে না। তিনি আরও জানান, আগে বর্ষকালে তার নিচু জমি পতিত পড়ে থাকত, শুকনো মৌসুমে মাঝে মধ্যে কিছু জমিতে ধান চাষ করতে পারতেন। কিন্তু ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি ওইসব জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ইক্ষু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন; এতে কৃষি ক্ষেত্রে লাভবান হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ক্রমবর্ধমান মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনেই দিন দিন আবাদি জমি কমছে। এমতাবস্থায় কোনো জমি অনাবাদি থাকলে তাতে কৃষি অর্থনীতির চাকা সচল না হয়ে উল্টো স্থবির হয়ে পড়তে পারে। তাই নিচু ও জলাবদ্ধ পতিত জমিকে কাজে লাগাতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাতের আখ চাষ বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউল আলম জানান, জলাবদ্ধ জমিতে জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাতের আখ চাষের গভীর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে একদিকে গতি পাবে কৃষি অর্থনীতি, অন্যদিকে কৃষক হবেন স্বাবলম্বী, আখ ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য। তিনি আরও জানান, তারা একসঙ্গে ৫টি জাতের ওপর গবেষণা করেন, তাতে প্রথম বছর যে জাতের সফলতা পাওয়া যায়; পরের বছর ওই জাতের আরও পাঁচটি প্লট করে গবেষণা চালানো হয়। এভাবে ১০ বছর গবেষণার পরে যে ক্লোনের জাতের আখে অধিক সফলতা পাওয়া যায় সে জাতটি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।