ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টার্কি খামার করে সফল দুলাল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৭৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টার্কি মুরগির খামার গড়ে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন মাগুরার দেলোয়ার হোসেন দুলাল নামে এক যুবক। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগকৃত পুঁজি ঘরে ওঠার পাশাপাশি তার খামরে এখন রয়েছে আট থেকে ১০ লক্ষ টাকার টার্কি মুরগি।

দুলালের সফলতা দেখে এখন মাগুরাসহ আসপাশের জেলার অনেকে যুবকই গড়ে তুলছেন টার্কি মুরগির খামার।

বর্তমানে তার খামারে আরো সাড়ে তিনশ বড় টার্কি মুরগি রয়েছে। যার দাম আট থেকে ১০ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও তিনি নিয়মিতভাবে ডিম থেকে উৎপাদিত টার্কির বাচ্চা বিক্রি করে আসছেন। শুধু নিজ জেলা মাগুরা নয়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসছেন তার খামার থেকে টার্কির বাচ্চা কিনতে।

মাগুরা শহরের ভায়না এলাকার দোলোয়ার হোসেন দুলাল জানান, দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে তিনি বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মাগুরা সদর উপজেলার অবালপুর গ্রামে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ভারত থেকে দুইশ বাচ্চা এনে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তোলেন।

তিন মাস লালন-পালনের পর যা থেকে দুই লক্ষ টাকায় একশ টার্কি বিক্রি করে মূল পুঁজি ঘরে তোলেন। এর পর তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইনকিউবিটর মেশিন কিনে তার খামারে উৎপাদিত ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শুরু করেন। বিগত কয়েক মাসে প্রতিটি দুই থেকে আড়াই হজার টাকা দরে একশ বড় টার্কি বিক্রির করেছেন।

তার কাছ থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে মাগুরা জেলার ৪-৫ টি ছোট টার্কি খামার গড়ে উঠেছে।

দুলালের মতে, দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি বা বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে স্বল্প পুঁজি দিয়ে টার্কি মুরগির খামার করে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন।

মধুখালী ও ফরিদপুর থেকে দুলালের টার্কির খামারে আসা দুই যুবক মোতালেব হোসেন ও সুজন মোল্লা জানান, তারা ইন্টারনেটে দুলালের টার্কি পালনের সফলার কথা জানতে পেরে এখান থেকে আগে কিছু বাচ্চা নিয়েছেন। আবার এসেছেন টার্কির বাচ্চা কিনতে। আগামীতে তারাও দুলালের মত বড় টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলবেন বলে আশা করছেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কানাই লাল স্বর্ণকার বলেন, টার্কি পালন করে মাগুরার দেলোয়ার হোসেন দুলাল স্বাবলম্বী হয়েছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় তার দেখাদেখি আরো অনেকে ছোট-ছোট খামার গড়ে তুলছেন। এতে করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জেলার মানুষের পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

টার্কি খামার করে সফল দুলাল

আপডেট টাইম : ০৮:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টার্কি মুরগির খামার গড়ে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন মাগুরার দেলোয়ার হোসেন দুলাল নামে এক যুবক। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগকৃত পুঁজি ঘরে ওঠার পাশাপাশি তার খামরে এখন রয়েছে আট থেকে ১০ লক্ষ টাকার টার্কি মুরগি।

দুলালের সফলতা দেখে এখন মাগুরাসহ আসপাশের জেলার অনেকে যুবকই গড়ে তুলছেন টার্কি মুরগির খামার।

বর্তমানে তার খামারে আরো সাড়ে তিনশ বড় টার্কি মুরগি রয়েছে। যার দাম আট থেকে ১০ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও তিনি নিয়মিতভাবে ডিম থেকে উৎপাদিত টার্কির বাচ্চা বিক্রি করে আসছেন। শুধু নিজ জেলা মাগুরা নয়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসছেন তার খামার থেকে টার্কির বাচ্চা কিনতে।

মাগুরা শহরের ভায়না এলাকার দোলোয়ার হোসেন দুলাল জানান, দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে তিনি বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মাগুরা সদর উপজেলার অবালপুর গ্রামে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ভারত থেকে দুইশ বাচ্চা এনে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তোলেন।

তিন মাস লালন-পালনের পর যা থেকে দুই লক্ষ টাকায় একশ টার্কি বিক্রি করে মূল পুঁজি ঘরে তোলেন। এর পর তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইনকিউবিটর মেশিন কিনে তার খামারে উৎপাদিত ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শুরু করেন। বিগত কয়েক মাসে প্রতিটি দুই থেকে আড়াই হজার টাকা দরে একশ বড় টার্কি বিক্রির করেছেন।

তার কাছ থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে মাগুরা জেলার ৪-৫ টি ছোট টার্কি খামার গড়ে উঠেছে।

দুলালের মতে, দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি বা বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে স্বল্প পুঁজি দিয়ে টার্কি মুরগির খামার করে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন।

মধুখালী ও ফরিদপুর থেকে দুলালের টার্কির খামারে আসা দুই যুবক মোতালেব হোসেন ও সুজন মোল্লা জানান, তারা ইন্টারনেটে দুলালের টার্কি পালনের সফলার কথা জানতে পেরে এখান থেকে আগে কিছু বাচ্চা নিয়েছেন। আবার এসেছেন টার্কির বাচ্চা কিনতে। আগামীতে তারাও দুলালের মত বড় টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলবেন বলে আশা করছেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কানাই লাল স্বর্ণকার বলেন, টার্কি পালন করে মাগুরার দেলোয়ার হোসেন দুলাল স্বাবলম্বী হয়েছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় তার দেখাদেখি আরো অনেকে ছোট-ছোট খামার গড়ে তুলছেন। এতে করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জেলার মানুষের পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করছে।