ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৫১৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অথচ এক সময় নৌকাবাইচ ছিল নদী পাড়ের মানুষের প্রধান উৎসব। প্রতি বছর ভাদ্রে এ উৎসব পালিত হতো। তবে এখন সেটা আর নেই। আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষাকাল নেই বলেই নৌকাবাইচ আর চলে না। ফলে নৌকাবাইচ এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

একেক অঞ্চলে একেক রকমের নৌকার প্রচলন রয়েছে। তবে নৌকাবাইচের জন্য যে নৌকা ব্যবহার করা হয় সেটা হয় সরু ও লম্বাটে। কারণ, সরু ও লম্বাটে হওয়ায় পানি কেটে দ্রুত চলতে সক্ষম এ নৌকা। নৌকার সামনের গলুইটাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়।

নৌকাবাইচের নৌকাগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। অগ্রদূত, ঝড়ের পাখি, পঙ্খিরাজ, ময়ূরপঙ্খি, সাইমুন, তুফানমেইল, সোনার তরী, দীপরাজ ইত্যাদি।

২০০ বছর আগে থেকে নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীতে  নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই এ উপজেলার ছোট বড় সবার কাছে নৌকাবাইচ সমান গ্রহণযোগ্য একটি উৎসব। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের ১ তারিখ  থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত নৌকাবাইচ হয়ে থাকে ইছামতি নদীর বিভিন্ন স্থানে।

গত সোমবার বিকালে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর-শৈল্যা ইছামতি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট-বড় ১০-১২টি নৌকা অংশ নেয়। সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রতিবছর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাবাইচের আয়োজন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নৌকাবাইচ আয়োজন করতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না।

১৮ শতকের শুরুর দিকে  কোনো এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়ে থাকা ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন। কিন্তু ঘাটে  কোনো নৌকা ছিল না। ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন। যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হলো। নদী ফুলেফেঁপে উঠলো। তখন চারপাশে যত নৌকা ছিল তারা খবর  পেয়ে ছুটে আসে। তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে। এ থেকে নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়।

এছাড়াও অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌবাহিনী থেকেই নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌশক্তি।

এ ব্যাপারে সোনার বাংলা নৌকার মালিক ডা. শাহীন জানান, একটি নৌকাবাইচে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমরা নামমাত্র পুরস্কার পাই। তারপরও প্রতি বছর নৌকাবাইচে আসি আনন্দের জন্য। এ ব্যাপারে নৌকাবাইচ ঐতিহ্যরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ মোল্লা বলেন, নৌকাবাইচকে টিকিয়ে রাখতে হলে নৌকার মালিকদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, নৌকাবাইচ বাঁচাতে হলে আমাদের নদীকে বাঁচাতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

আপডেট টাইম : ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অথচ এক সময় নৌকাবাইচ ছিল নদী পাড়ের মানুষের প্রধান উৎসব। প্রতি বছর ভাদ্রে এ উৎসব পালিত হতো। তবে এখন সেটা আর নেই। আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষাকাল নেই বলেই নৌকাবাইচ আর চলে না। ফলে নৌকাবাইচ এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

একেক অঞ্চলে একেক রকমের নৌকার প্রচলন রয়েছে। তবে নৌকাবাইচের জন্য যে নৌকা ব্যবহার করা হয় সেটা হয় সরু ও লম্বাটে। কারণ, সরু ও লম্বাটে হওয়ায় পানি কেটে দ্রুত চলতে সক্ষম এ নৌকা। নৌকার সামনের গলুইটাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়।

নৌকাবাইচের নৌকাগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। অগ্রদূত, ঝড়ের পাখি, পঙ্খিরাজ, ময়ূরপঙ্খি, সাইমুন, তুফানমেইল, সোনার তরী, দীপরাজ ইত্যাদি।

২০০ বছর আগে থেকে নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীতে  নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই এ উপজেলার ছোট বড় সবার কাছে নৌকাবাইচ সমান গ্রহণযোগ্য একটি উৎসব। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের ১ তারিখ  থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত নৌকাবাইচ হয়ে থাকে ইছামতি নদীর বিভিন্ন স্থানে।

গত সোমবার বিকালে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর-শৈল্যা ইছামতি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট-বড় ১০-১২টি নৌকা অংশ নেয়। সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রতিবছর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাবাইচের আয়োজন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নৌকাবাইচ আয়োজন করতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না।

১৮ শতকের শুরুর দিকে  কোনো এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়ে থাকা ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন। কিন্তু ঘাটে  কোনো নৌকা ছিল না। ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন। যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হলো। নদী ফুলেফেঁপে উঠলো। তখন চারপাশে যত নৌকা ছিল তারা খবর  পেয়ে ছুটে আসে। তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে। এ থেকে নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়।

এছাড়াও অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌবাহিনী থেকেই নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌশক্তি।

এ ব্যাপারে সোনার বাংলা নৌকার মালিক ডা. শাহীন জানান, একটি নৌকাবাইচে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমরা নামমাত্র পুরস্কার পাই। তারপরও প্রতি বছর নৌকাবাইচে আসি আনন্দের জন্য। এ ব্যাপারে নৌকাবাইচ ঐতিহ্যরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ মোল্লা বলেন, নৌকাবাইচকে টিকিয়ে রাখতে হলে নৌকার মালিকদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, নৌকাবাইচ বাঁচাতে হলে আমাদের নদীকে বাঁচাতে হবে।