ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আছিয়ার শেষ সম্বল পটলাটি মিলবে তো

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৭
  • ৬৪৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বন্যার পানি নেমে গেছে। বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে বানবাসি মানুষ। অন্য অনেকের মতো বৃদ্ধা আছিয়াও বাড়ি ফিরেছেন। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে তার বাড়ি।

সর্বত্র লেগে আছে ধ্বংসের চিহ্ন। গ্রামের লোকেরা রেখে যাওয়া আসবাব গুছাতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। কিন্তু আছিয়া বাড়িতে ফিরেই সোজা চলে গেলেন তার রেখে যাওয়া পটলার সন্ধ্যানে।

ঘরের কোনে, মাচায়, এদিক-সেদিক হাতড়াচ্ছেন হন্য হয়ে। না কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তার রেখে যাওয়া পটলাটি।

প্রায় ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা আছিয়া বেগম। সারা জীবন ধরে আনা আনা করে সে সঞ্চয় করে ছিলেন। যা রক্ষিত ছিল তার ওই হারানো পটলায়। তবে কি পরিমাণ অর্থ ওখানে সঞ্চিত ছিল তার সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেনি আছিয়া।

এখন সে তার জীবনের অর্জিত সেই সঞ্চয় হারিয়ে প্রায় দিশেহারা।

চোখে কেবলই দেখেছেন অন্ধকার। মাথা টুকছেন এখানে ওখানে। তার কেবল একটি প্রশ্ন তার দীর্ঘদিনের জমানো সঞ্চয়ের সেই পটলা ফিরে পাবে তো?

‘আমার কি হইবো বাবা, আমি ক্যামনে ব্যবসা করুম, কি খামু! সব নিয়া গেলো কালনাগিনী বানে ভাসাইয়া! এমন কথায় আছিয়া বিলাপ করতে থাকে। তার সেই বিলাপে ভারি হতে থাকে আশপাশের পরিবেশ।

দিনাজপুর শহরের পশ্চিম উপকন্ঠ বালুয়াডাঙ্গার নতুন পাড়ায় আছিয়া বেগমের বাড়ি। দু’মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা এক মেয়ে আর দু’সন্তান নিয়েই তার সংসার।

আছিয়া জানান, বসত ভিটায় উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। তার আয়ে চলত তার সংসার। গরীবের সংসারে কোন রকম দিন যাপন করতেন। তার থেকে বাঁচিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন আছিয়া। যেসব টাকা সে প্রথমে কাপড়ের ব্যাগ এবং পরে সেই ব্যাগে সংকুলান না হলে পলিথিনে রাখতেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল নেমে আসে এলাকায়। আছিয়া তার সঞ্চিত পলিথিন মোড়ানো পটলাটি তার ঘরের কোনায় চৌকির নিচে এক পাতিলে রেখে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেন। আছিয়া কোন রকমে প্রাণে বাচঁলে ও হারিয়েছেন সর্বস্ব।

শুধু আসিয়া নন, বন্যার পানি নেমে গেলেও দিনাজপুরে বন্যায় বানভাসি প্রায় সাড়ে ৬ লাখ আছিয়া সর্বস্ব হারিয়েছেন।

আছিয়াদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রসাশন জনপ্রতিনিধিরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আছিয়ার শেষ সম্বল পটলাটি মিলবে তো

আপডেট টাইম : ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বন্যার পানি নেমে গেছে। বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে বানবাসি মানুষ। অন্য অনেকের মতো বৃদ্ধা আছিয়াও বাড়ি ফিরেছেন। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে তার বাড়ি।

সর্বত্র লেগে আছে ধ্বংসের চিহ্ন। গ্রামের লোকেরা রেখে যাওয়া আসবাব গুছাতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। কিন্তু আছিয়া বাড়িতে ফিরেই সোজা চলে গেলেন তার রেখে যাওয়া পটলার সন্ধ্যানে।

ঘরের কোনে, মাচায়, এদিক-সেদিক হাতড়াচ্ছেন হন্য হয়ে। না কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তার রেখে যাওয়া পটলাটি।

প্রায় ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা আছিয়া বেগম। সারা জীবন ধরে আনা আনা করে সে সঞ্চয় করে ছিলেন। যা রক্ষিত ছিল তার ওই হারানো পটলায়। তবে কি পরিমাণ অর্থ ওখানে সঞ্চিত ছিল তার সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেনি আছিয়া।

এখন সে তার জীবনের অর্জিত সেই সঞ্চয় হারিয়ে প্রায় দিশেহারা।

চোখে কেবলই দেখেছেন অন্ধকার। মাথা টুকছেন এখানে ওখানে। তার কেবল একটি প্রশ্ন তার দীর্ঘদিনের জমানো সঞ্চয়ের সেই পটলা ফিরে পাবে তো?

‘আমার কি হইবো বাবা, আমি ক্যামনে ব্যবসা করুম, কি খামু! সব নিয়া গেলো কালনাগিনী বানে ভাসাইয়া! এমন কথায় আছিয়া বিলাপ করতে থাকে। তার সেই বিলাপে ভারি হতে থাকে আশপাশের পরিবেশ।

দিনাজপুর শহরের পশ্চিম উপকন্ঠ বালুয়াডাঙ্গার নতুন পাড়ায় আছিয়া বেগমের বাড়ি। দু’মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা এক মেয়ে আর দু’সন্তান নিয়েই তার সংসার।

আছিয়া জানান, বসত ভিটায় উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। তার আয়ে চলত তার সংসার। গরীবের সংসারে কোন রকম দিন যাপন করতেন। তার থেকে বাঁচিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন আছিয়া। যেসব টাকা সে প্রথমে কাপড়ের ব্যাগ এবং পরে সেই ব্যাগে সংকুলান না হলে পলিথিনে রাখতেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল নেমে আসে এলাকায়। আছিয়া তার সঞ্চিত পলিথিন মোড়ানো পটলাটি তার ঘরের কোনায় চৌকির নিচে এক পাতিলে রেখে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেন। আছিয়া কোন রকমে প্রাণে বাচঁলে ও হারিয়েছেন সর্বস্ব।

শুধু আসিয়া নন, বন্যার পানি নেমে গেলেও দিনাজপুরে বন্যায় বানভাসি প্রায় সাড়ে ৬ লাখ আছিয়া সর্বস্ব হারিয়েছেন।

আছিয়াদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রসাশন জনপ্রতিনিধিরা।