ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রহস্যে ঘেরা পরিত্যক্ত পাগলা গারদগুলো

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭
  • ৩৬৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  অনেক পরিত্যক্ত পাগলা গারদ আছে, যেগুলো আবার খুবই বিখ্যাত। জনশ্রুতি অনুযায়ী এই স্থানগুলোর ভেতরে যেসব অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চলে আর এই স্থানগুলো নিয়ে যেসব ভয়ঙ্কর গল্পগুলো প্রচলিত আছে, সেগুলো শুনলে যে কারো গা শিউরে উঠবে-

টপেকা স্টেট হসপিটাল, কানসাস (আমেরিকা) এই হাসপাতালটি ১৮২৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মানসিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ছিল। হাসপাতালটির বেশিরভাগ অংশই বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে দালানটির সামনের অচিহ্নিত সমাধিক্ষেত্রে ৭৫ বছর সময় ধরে থাকা রোগীর সমাধি রয়েছে।

কোনো চিহ্ন, সমাধিপ্রস্তর অথবা পথচিহ্ন নেই যে, যা থেকে বোঝা যাবে এটা সমাধিক্ষেত্র। এই হাসপাতালটিতে ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে আমেরিকার অন্যান্য মানসিক হাসপাতালগুলোর মতোই মানসিকভাবে পর্যুদস্ত রোগী দিয়ে জনাকীর্ণ ছিল। সেই সময় কিছু গল্প রটে গিয়েছিল যে, সেখানে রোগীদের যৌন নির্যাতন করা হতো, নপুংসক বানিয়ে দেয়া হতো আর কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শিকল দিয়ে আটকে রাখা হতো।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হলো, এক রোগীকে একবার দীর্ঘ সময়ের জন্য স্ট্র্যাপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেই সময় এমন অবস্থা হয়েছিল যে, সেই বাঁধনের ওপর দিয়ে রোগীর নতুন চামড়া ওঠা শুরু হয়েছিল।

পোভেলিয়া, ইতালি পোভেলিয়া হলো ভেনিসীয় উপহ্রদের দ্বীপগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপহ্রদ। রোমানীয় যুগের সময় প্লেগ রোগে আক্রান্ত জনগণকে সুস্থ জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্যে পোভেলিয়া দ্বীপটিকে ব্যবহার করা হতো। ১৭০০ সালে, যখন ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ এর আবির্ভাব ঘটল, পোভেলিয়া দ্বীপকে আবার সেই একই কারণে ব্যবহার করা হলো। হাজারে হাজারে লাশগুলো সেই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হতো পুড়িয়ে ফেলার জন্য অথবা গণকবর দেয়ার জন্য। পোভেলিয়া হয়ে গেল এক নিঃসঙ্গ দ্বীপ। যদি কারো সন্দেহ হতো যে, এই লোক আক্রান্ত, সে আক্রান্ত না হলেও তাকে ভেনিস থেকে দূরে নিয়ে এসে মেরে ফেলা হতো। পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ সবাই ধীরে ধীরে এই রোগের কারণে মারা যেতে লাগল। এই মৃত্যুযন্ত্রণার সাক্ষী হলো পোভেলিয়া দ্বীপ, যেখানে স্থির শান্ত আঙ্গুর ক্ষেতের নিচে এখনো হাজার হাজার লাশের চিহ্ন মেলে।

১৯৯২ সালে এই দ্বীপটিতে গড়ে ওঠে উন্মাদাগার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি জিনিসটি ছিল, এখনো আছে, সেটা হলো ‘বেল টাওয়ার’। রোগীরা অভিযোগ জানাতে শুরু করল যে তারা প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের ভূত দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু যেহেতু তাদের পাগল মনে করা হতো, তাই তাদের অভিযোগগুলো আমলে নেয়া হয়নি। তখন একজন ডাক্তারকে নিয়ে কিংবদন্তি প্রচলিত হয়েছিল যে, সে ছিল একজন স্যাডিস্ট, যে কিনা তার রোগীদের ওপর পুরনো পদ্ধতিতে অপারেশন করত। সেই অপারেশনে ব্যবহার করত অসূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি যেমন হ্যান্ড ড্রিল, হাতুড়ি। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেই কিংবদন্তিও বিলীন হয়ে যায়। সে পোভেলিয়ার মৃত আত্মাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে পাগল হয়ে যায়, আর দ্বীপের সেই বেল টাওয়ার থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। বর্তমানে পোভেলিয়া বসবাসের অযোগ্য একটি জায়গা।

৩। নর্থ ওয়েলস হসপিটাল, ইউকে
নর্থ ওয়েলসের ছোট্ট গ্রাম ডেনবিতে, দুই স্তম্ভবিশিষ্ট বিশাল গেটের পেছনে ১০০ একরেরও বেশি জায়গার ওপর বাগান দিয়ে ঘেরা ডেনবির প্রাচীন মানসিক হাসপাতালটি ভুতুড়ে ছায়ার মতো রাজকীয় বেশে দাঁড়িয়ে আছে।

বজ্রধ্বনিতুল্য নীরবতা হাসপাতালটির কক্ষগুলোকে ঘিরে রয়েছে। আসবাবপত্র, সামগ্রী, চিকিৎসাবিদ্যার যন্ত্রাংশ সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাওয়া মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে, আর দিনের পর দিন এর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে হুইলচেয়ারগুলো, যা এই প্রাচীন উন্মাদাগারের দেয়ালগুলোর মাঝেই ম্লান হয়ে পড়ে থাকে। এই মানসিক হাসপাতালটিতে যা হয়েছিল, তা শুধু কল্পনাতেই চিন্তা করা যায়। লবোটমি আর ইলেক্ট্রিক শক ছিল এখানকার সাধারণ চিকিৎসাপদ্ধতি, মানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার আর কি। চ্যাপেল, মর্গ, নার্স বিল্ডিং আর সাইকিয়াটিক ওয়ার্ডে হাজারো গল্প ঘুমিয়ে আছে। ১৯৯৫ সালে অ্যাসাইলামটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রহস্যে ঘেরা পরিত্যক্ত পাগলা গারদগুলো

আপডেট টাইম : ০৪:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  অনেক পরিত্যক্ত পাগলা গারদ আছে, যেগুলো আবার খুবই বিখ্যাত। জনশ্রুতি অনুযায়ী এই স্থানগুলোর ভেতরে যেসব অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চলে আর এই স্থানগুলো নিয়ে যেসব ভয়ঙ্কর গল্পগুলো প্রচলিত আছে, সেগুলো শুনলে যে কারো গা শিউরে উঠবে-

টপেকা স্টেট হসপিটাল, কানসাস (আমেরিকা) এই হাসপাতালটি ১৮২৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মানসিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ছিল। হাসপাতালটির বেশিরভাগ অংশই বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে দালানটির সামনের অচিহ্নিত সমাধিক্ষেত্রে ৭৫ বছর সময় ধরে থাকা রোগীর সমাধি রয়েছে।

কোনো চিহ্ন, সমাধিপ্রস্তর অথবা পথচিহ্ন নেই যে, যা থেকে বোঝা যাবে এটা সমাধিক্ষেত্র। এই হাসপাতালটিতে ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে আমেরিকার অন্যান্য মানসিক হাসপাতালগুলোর মতোই মানসিকভাবে পর্যুদস্ত রোগী দিয়ে জনাকীর্ণ ছিল। সেই সময় কিছু গল্প রটে গিয়েছিল যে, সেখানে রোগীদের যৌন নির্যাতন করা হতো, নপুংসক বানিয়ে দেয়া হতো আর কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শিকল দিয়ে আটকে রাখা হতো।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হলো, এক রোগীকে একবার দীর্ঘ সময়ের জন্য স্ট্র্যাপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেই সময় এমন অবস্থা হয়েছিল যে, সেই বাঁধনের ওপর দিয়ে রোগীর নতুন চামড়া ওঠা শুরু হয়েছিল।

পোভেলিয়া, ইতালি পোভেলিয়া হলো ভেনিসীয় উপহ্রদের দ্বীপগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপহ্রদ। রোমানীয় যুগের সময় প্লেগ রোগে আক্রান্ত জনগণকে সুস্থ জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্যে পোভেলিয়া দ্বীপটিকে ব্যবহার করা হতো। ১৭০০ সালে, যখন ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ এর আবির্ভাব ঘটল, পোভেলিয়া দ্বীপকে আবার সেই একই কারণে ব্যবহার করা হলো। হাজারে হাজারে লাশগুলো সেই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হতো পুড়িয়ে ফেলার জন্য অথবা গণকবর দেয়ার জন্য। পোভেলিয়া হয়ে গেল এক নিঃসঙ্গ দ্বীপ। যদি কারো সন্দেহ হতো যে, এই লোক আক্রান্ত, সে আক্রান্ত না হলেও তাকে ভেনিস থেকে দূরে নিয়ে এসে মেরে ফেলা হতো। পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ সবাই ধীরে ধীরে এই রোগের কারণে মারা যেতে লাগল। এই মৃত্যুযন্ত্রণার সাক্ষী হলো পোভেলিয়া দ্বীপ, যেখানে স্থির শান্ত আঙ্গুর ক্ষেতের নিচে এখনো হাজার হাজার লাশের চিহ্ন মেলে।

১৯৯২ সালে এই দ্বীপটিতে গড়ে ওঠে উন্মাদাগার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি জিনিসটি ছিল, এখনো আছে, সেটা হলো ‘বেল টাওয়ার’। রোগীরা অভিযোগ জানাতে শুরু করল যে তারা প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের ভূত দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু যেহেতু তাদের পাগল মনে করা হতো, তাই তাদের অভিযোগগুলো আমলে নেয়া হয়নি। তখন একজন ডাক্তারকে নিয়ে কিংবদন্তি প্রচলিত হয়েছিল যে, সে ছিল একজন স্যাডিস্ট, যে কিনা তার রোগীদের ওপর পুরনো পদ্ধতিতে অপারেশন করত। সেই অপারেশনে ব্যবহার করত অসূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি যেমন হ্যান্ড ড্রিল, হাতুড়ি। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেই কিংবদন্তিও বিলীন হয়ে যায়। সে পোভেলিয়ার মৃত আত্মাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে পাগল হয়ে যায়, আর দ্বীপের সেই বেল টাওয়ার থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। বর্তমানে পোভেলিয়া বসবাসের অযোগ্য একটি জায়গা।

৩। নর্থ ওয়েলস হসপিটাল, ইউকে
নর্থ ওয়েলসের ছোট্ট গ্রাম ডেনবিতে, দুই স্তম্ভবিশিষ্ট বিশাল গেটের পেছনে ১০০ একরেরও বেশি জায়গার ওপর বাগান দিয়ে ঘেরা ডেনবির প্রাচীন মানসিক হাসপাতালটি ভুতুড়ে ছায়ার মতো রাজকীয় বেশে দাঁড়িয়ে আছে।

বজ্রধ্বনিতুল্য নীরবতা হাসপাতালটির কক্ষগুলোকে ঘিরে রয়েছে। আসবাবপত্র, সামগ্রী, চিকিৎসাবিদ্যার যন্ত্রাংশ সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাওয়া মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে, আর দিনের পর দিন এর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে হুইলচেয়ারগুলো, যা এই প্রাচীন উন্মাদাগারের দেয়ালগুলোর মাঝেই ম্লান হয়ে পড়ে থাকে। এই মানসিক হাসপাতালটিতে যা হয়েছিল, তা শুধু কল্পনাতেই চিন্তা করা যায়। লবোটমি আর ইলেক্ট্রিক শক ছিল এখানকার সাধারণ চিকিৎসাপদ্ধতি, মানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার আর কি। চ্যাপেল, মর্গ, নার্স বিল্ডিং আর সাইকিয়াটিক ওয়ার্ডে হাজারো গল্প ঘুমিয়ে আছে। ১৯৯৫ সালে অ্যাসাইলামটি বন্ধ করে দেয়া হয়।