ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’

দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব প্রকাশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭
  • ৩৫০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে যেকোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে প্রথম শর্তই হচ্ছে নিজেকে উন্নতশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সেই গন্তব্যের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা কিংবা আওয়ামী লীগের দেশি বিদেশি কট্টর সমালোচকরাও এই সত্যকে স্বীকার করেন। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি সম্ভাবনাময় দেশের মধ্যে অন্যতম। আর তা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বের কারণেই। বিএনপি নেতারাও অভিযোগ করে বলেন, সরকার উন্নয়ন দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রাখতে চায়। এটা যদিও তাদের নিতান্তই রাজনৈতিক অভিযোগ। কারণ, তারা দেশে সবখানেই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। এমনকি অগণতান্ত্রিক এবং অরাজনৈতিক সংস্কৃতি সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশে শত শত জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে।

যাই হোক আগের কোথায় আসি। উন্নয়ন করতে গেলে অন্যতম শর্ত হচ্ছে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। সিঙ্গাপুর লি কুয়ান এবং মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদরা পেরেছেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন বলেই। তখন ওদের দেশের সুশীল সমাজও গণতন্ত্র, দুর্নীতি, লুটপাট অনেক অনেক অভিযোগ করেছে কিন্তু কিছুই ধোপে টেকেনি।

বর্তমান সরকারের সময় সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এটা যেমন কট্টর সমালোচকরা স্বীকার করে। আবার উন্নয়ন করে ভারতীয় উপমহাদেশের এই দেশগুলোতে ভোটের ফলাফল ঘরে তোলা যায় না এটাও তেমনি সত্য। খুব বেশি দূরে না যাই, উন্নয়নে ভোট আসলে বরিশালের প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ কিংবা রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন কখনো পরাজিত হতেন না।

আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি, বঙ্গবন্ধু কন্যার একনিষ্ঠ কর্মী তারা যদি শুধু উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে ভোটের রেজাল্ট পক্ষে আনার চেষ্টা করি এটা হবে মারাত্মক ভুল। মনে রাখা উচিত, আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ২৫-৩০ শতাংশ হবে তরুণ ভোটার। যাদের বয়স হবে ২২/২৩ বছর। এরা কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন দেখেনি। তাদের দেশ লুটপাটের রাজনীতি দেখেনি। ওই সময় তাদের বয়স ছিল ১২/১৩ বছর কিংবা এরও নিচে।

তারা দেখেনি নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে ২০০১ এর পর বাবার কোল থেকে কন্যাকে কেড়ে নিয়ে চোখের সামনে ধর্ষণ করা হয়েছে। অসহায় বাবা বলতে বাধ্য হয়েছেন, আমার মেয়েটা অনেক ছোট আপনারা একজন একজন করে আসেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা এই প্রজন্ম জানে না।

তারা জানে না শুধু ধানের শীষে ভোট না দেয়ার কারণে দেশব্যাপী কীভাবে মহিমা-পূর্ণিমা-ফাহিমারা ধর্ষিত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, ঘর বাড়ি, জমি, পুকুর, এমনকি হালের বলদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিলো অকথ্য নির্যাতন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় লঙ্গর খানা খোলা হয়েছিল নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য।

এই প্রজন্ম জানে না, দেশে কীভাবে বিএনপি জামায়াত সরকারের তত্ত্বাবধানে শায়খ রহমান, বাংলা ভাইদের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল।

কীভাবে আওয়ামী লীগের ২৪ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে ওই প্রজন্ম তো দূরে থাক, আমি নিশ্চিত আওয়ামী লীগের তরুণ অনেক নেতা কর্মীরাও তা জানে না।

সুতরাং আমরা যদি শুধু শেখ হাসিনার উন্নয়নের উপর ভরসা করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাই এটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার দ্বারা এই দেশের উন্নয়ন হবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই দেশের উন্নয়ন করা ছাড়া ওনার সামনে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই। কারণ, বাংলাদেশ যদি কোনোদিন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর জন্য দায়ী করবে কিন্তু আওয়ামী লীগকে, বঙ্গবন্ধুকে। বলবে দেশকে স্বাধীন করেছে ঠিকই কিন্তু গড়তে পারেনি।

সুতরাং এই অপবাদ থেকে জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা কখনই চাইবেন না এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক, নিজের বাবার ইমেজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হোক। একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের জন্যই বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তাঁর আমৃত্য স্বপ্ন ছিল একটি উন্নত দেশ গঠন করা।

সুতরাং এই দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব। এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত, কারণ এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা শুধু লুটপাট করেছেন আর নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি

দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব প্রকাশ

আপডেট টাইম : ১০:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে যেকোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে প্রথম শর্তই হচ্ছে নিজেকে উন্নতশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সেই গন্তব্যের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা কিংবা আওয়ামী লীগের দেশি বিদেশি কট্টর সমালোচকরাও এই সত্যকে স্বীকার করেন। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি সম্ভাবনাময় দেশের মধ্যে অন্যতম। আর তা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বের কারণেই। বিএনপি নেতারাও অভিযোগ করে বলেন, সরকার উন্নয়ন দেখিয়ে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রাখতে চায়। এটা যদিও তাদের নিতান্তই রাজনৈতিক অভিযোগ। কারণ, তারা দেশে সবখানেই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। এমনকি অগণতান্ত্রিক এবং অরাজনৈতিক সংস্কৃতি সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশে শত শত জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে।

যাই হোক আগের কোথায় আসি। উন্নয়ন করতে গেলে অন্যতম শর্ত হচ্ছে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। সিঙ্গাপুর লি কুয়ান এবং মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদরা পেরেছেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন বলেই। তখন ওদের দেশের সুশীল সমাজও গণতন্ত্র, দুর্নীতি, লুটপাট অনেক অনেক অভিযোগ করেছে কিন্তু কিছুই ধোপে টেকেনি।

বর্তমান সরকারের সময় সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এটা যেমন কট্টর সমালোচকরা স্বীকার করে। আবার উন্নয়ন করে ভারতীয় উপমহাদেশের এই দেশগুলোতে ভোটের ফলাফল ঘরে তোলা যায় না এটাও তেমনি সত্য। খুব বেশি দূরে না যাই, উন্নয়নে ভোট আসলে বরিশালের প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ কিংবা রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন কখনো পরাজিত হতেন না।

আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি, বঙ্গবন্ধু কন্যার একনিষ্ঠ কর্মী তারা যদি শুধু উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে ভোটের রেজাল্ট পক্ষে আনার চেষ্টা করি এটা হবে মারাত্মক ভুল। মনে রাখা উচিত, আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ২৫-৩০ শতাংশ হবে তরুণ ভোটার। যাদের বয়স হবে ২২/২৩ বছর। এরা কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন দেখেনি। তাদের দেশ লুটপাটের রাজনীতি দেখেনি। ওই সময় তাদের বয়স ছিল ১২/১৩ বছর কিংবা এরও নিচে।

তারা দেখেনি নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে ২০০১ এর পর বাবার কোল থেকে কন্যাকে কেড়ে নিয়ে চোখের সামনে ধর্ষণ করা হয়েছে। অসহায় বাবা বলতে বাধ্য হয়েছেন, আমার মেয়েটা অনেক ছোট আপনারা একজন একজন করে আসেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা এই প্রজন্ম জানে না।

তারা জানে না শুধু ধানের শীষে ভোট না দেয়ার কারণে দেশব্যাপী কীভাবে মহিমা-পূর্ণিমা-ফাহিমারা ধর্ষিত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, ঘর বাড়ি, জমি, পুকুর, এমনকি হালের বলদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিলো অকথ্য নির্যাতন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় লঙ্গর খানা খোলা হয়েছিল নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য।

এই প্রজন্ম জানে না, দেশে কীভাবে বিএনপি জামায়াত সরকারের তত্ত্বাবধানে শায়খ রহমান, বাংলা ভাইদের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল।

কীভাবে আওয়ামী লীগের ২৪ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে ওই প্রজন্ম তো দূরে থাক, আমি নিশ্চিত আওয়ামী লীগের তরুণ অনেক নেতা কর্মীরাও তা জানে না।

সুতরাং আমরা যদি শুধু শেখ হাসিনার উন্নয়নের উপর ভরসা করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাই এটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার দ্বারা এই দেশের উন্নয়ন হবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই দেশের উন্নয়ন করা ছাড়া ওনার সামনে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই। কারণ, বাংলাদেশ যদি কোনোদিন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর জন্য দায়ী করবে কিন্তু আওয়ামী লীগকে, বঙ্গবন্ধুকে। বলবে দেশকে স্বাধীন করেছে ঠিকই কিন্তু গড়তে পারেনি।

সুতরাং এই অপবাদ থেকে জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা কখনই চাইবেন না এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক, নিজের বাবার ইমেজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হোক। একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের জন্যই বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তাঁর আমৃত্য স্বপ্ন ছিল একটি উন্নত দেশ গঠন করা।

সুতরাং এই দেশের উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব। এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত, কারণ এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা শুধু লুটপাট করেছেন আর নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)