ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

হাওরে এবার মাইকে বাজে ‘লীলাবালী লীলাবালী ভর যুবতী সই গো কি দিয়া সাজাইমু তোরে বিয়ের বাদ্য শুনা যাচ্ছে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭
  • ৫০২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বোরো ধান গোলায় ওঠানোর পর জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে  হাওরাঞ্চলে বিয়ের ধুম পড়ে যায়। গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া নদীতে সাজানো বজরায় বা ট্রলারে ব্যা-পার্টি কিংবা মাইকে বাজে ‘লীলাবালী লীলাবালী ভর যুবতী সই গো কি দিয়া সাজাইমু তোরে। ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো আজ আমার প্রাণ নাথ আসিতে পারে, দিল চায়, মন চায়, প্রাণ চায় তারে।’ এ ধরনের বিয়ের গান এবার শুনা যাচ্ছে না হাওরাঞ্চলে। হাওরডুবির কারণে দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ে বা ছেলের বিয়ের কোন আলোচনাই এবার করছেন না। কোন কোন পরিবারে মেয়ের বিয়ের কাবিন হবার পর এবার ধান ওঠার পর বর্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়ে তুলে দেবার কথা থাকলেও ফসল ডুবির পর সেই পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলের প্রত্যেকটি গ্রামে এমন কষ্ট আছে।
‘অন্যান্য বছর বাড়ীতে বসা যেতো না, দিনে ৮-১০ টি নৌকা বাজনা বাজিয়ে বা মাইক বাজিয়ে নদী দিয়ে যেতো। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে গিয়ে বিয়ের নৌকা দেখে আসতো। এটি এবার নেই।’
জমিতে এবার ধান কাটার জন্য কাচি নিয়ে যাওয়া হয়নি । মিয়া বললেন,‘২ মেয়ে ও ২ ছেলে’র মধ্যে বড় সন্তান মেয়েটির এক বছর আগে কাবিন করে রেখেছিলাম। ধর্মপাশা সদরের বড়পাড়ায় ছেলের বাড়ী। এবার ধান তোলার পর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠান করে কনে তুলে দেবার কথা ছিল। কিছু ফার্নিচার দেবার কথা ছিল। ৬ মাস আগে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ফার্নিচারের অর্ডার দিয়েছিলাম। ধান ওঠার পর বাকী ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ফার্নিচার আনার কথা ছিল। কিন্তু এক ছটাকও ধানও পাইনি। ধান তুলে বিক্রি করতে পারলে ফার্নিচার আনা হতো, অনুষ্ঠান করে মেয়েকে তুলে দেওয়া হতো। এবার কিভাবে অনুষ্ঠান করবো।’
নারী নেত্রী জেলা উদীচী’র সভাপতি শীলা রায় বলেন,‘আমি এই অঞ্চলে বউ হয়ে আসার পর থেকে দেখেছি, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে হাওরাঞ্চলে বিয়ের ধুম পড়ে। এবার সেটি হচ্ছে না। আর হবে বলেও মনে হচ্ছে না। তবে একটি ভয়ের বিষয় হচ্ছে, ঘটা করে বিয়ে হলে বাল্য বিয়ে হওয়ার আশংকা কম থাকে। এবার চুপি চুপি বিয়ে হতে পারে, তাতে বাল্য বিয়ের আশংকা থেকে যাবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

হাওরে এবার মাইকে বাজে ‘লীলাবালী লীলাবালী ভর যুবতী সই গো কি দিয়া সাজাইমু তোরে বিয়ের বাদ্য শুনা যাচ্ছে না

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বোরো ধান গোলায় ওঠানোর পর জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে  হাওরাঞ্চলে বিয়ের ধুম পড়ে যায়। গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া নদীতে সাজানো বজরায় বা ট্রলারে ব্যা-পার্টি কিংবা মাইকে বাজে ‘লীলাবালী লীলাবালী ভর যুবতী সই গো কি দিয়া সাজাইমু তোরে। ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো আজ আমার প্রাণ নাথ আসিতে পারে, দিল চায়, মন চায়, প্রাণ চায় তারে।’ এ ধরনের বিয়ের গান এবার শুনা যাচ্ছে না হাওরাঞ্চলে। হাওরডুবির কারণে দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ে বা ছেলের বিয়ের কোন আলোচনাই এবার করছেন না। কোন কোন পরিবারে মেয়ের বিয়ের কাবিন হবার পর এবার ধান ওঠার পর বর্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়ে তুলে দেবার কথা থাকলেও ফসল ডুবির পর সেই পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলের প্রত্যেকটি গ্রামে এমন কষ্ট আছে।
‘অন্যান্য বছর বাড়ীতে বসা যেতো না, দিনে ৮-১০ টি নৌকা বাজনা বাজিয়ে বা মাইক বাজিয়ে নদী দিয়ে যেতো। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে গিয়ে বিয়ের নৌকা দেখে আসতো। এটি এবার নেই।’
জমিতে এবার ধান কাটার জন্য কাচি নিয়ে যাওয়া হয়নি । মিয়া বললেন,‘২ মেয়ে ও ২ ছেলে’র মধ্যে বড় সন্তান মেয়েটির এক বছর আগে কাবিন করে রেখেছিলাম। ধর্মপাশা সদরের বড়পাড়ায় ছেলের বাড়ী। এবার ধান তোলার পর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠান করে কনে তুলে দেবার কথা ছিল। কিছু ফার্নিচার দেবার কথা ছিল। ৬ মাস আগে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ফার্নিচারের অর্ডার দিয়েছিলাম। ধান ওঠার পর বাকী ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ফার্নিচার আনার কথা ছিল। কিন্তু এক ছটাকও ধানও পাইনি। ধান তুলে বিক্রি করতে পারলে ফার্নিচার আনা হতো, অনুষ্ঠান করে মেয়েকে তুলে দেওয়া হতো। এবার কিভাবে অনুষ্ঠান করবো।’
নারী নেত্রী জেলা উদীচী’র সভাপতি শীলা রায় বলেন,‘আমি এই অঞ্চলে বউ হয়ে আসার পর থেকে দেখেছি, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে হাওরাঞ্চলে বিয়ের ধুম পড়ে। এবার সেটি হচ্ছে না। আর হবে বলেও মনে হচ্ছে না। তবে একটি ভয়ের বিষয় হচ্ছে, ঘটা করে বিয়ে হলে বাল্য বিয়ে হওয়ার আশংকা কম থাকে। এবার চুপি চুপি বিয়ে হতে পারে, তাতে বাল্য বিয়ের আশংকা থেকে যাবে।’