প্রাথমিকের গন্ডি পেরুতেই যে গ্রামে মেয়েদের বসিয়ে দেয়া হতো বিয়ের পিঁড়িতে, সে গ্রামের মেয়েরাই আজ মেতেছে ক্রিকেট নেশায়। গ্রামবাসীর উৎসাহে তাদের স্বপ্ন এখন জাতীয় দলে খেলার। তবে তাদের খেলার জন্য নেই কোনো কোচ বা পর্যাপ্ত সামগ্রী। প্রতিকূলতার মাঝেও তাদের স্বপ্ন সালমা-রুমানাদের মতো ক্রিকেটার হওয়ার।
পাবনা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের পথ ডা. ইসমাঈল হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গ্রামের সংস্কার আর বাল্যবিয়ের সাথে যুদ্ধ করে ক’দিন আগেও এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখতেও হিমশিম খেতেন শিক্ষকরা। এখন নিয়মিত অনুশীলন করছেন এই স্কুলেই মেয়েরা।
ছাত্রীরা জানায়, টেলিভিশনে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের খেলা দেখে ক্রিকেট খেলায় আগ্রহী হয়েছেন তারা। তাদের আশা, একদিন তারাও সালমাদের মতো ক্রিকেটার হয়ে জাতীয় দলে খেলবেন। তবে ছাত্রীদের ক্রিকেট খেলার এই আশাব্যঞ্জক খবরে মাঝে রয়েছে সমস্যাও। স্কুলমাঠটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে খেলা সম্ভব হয় না, রয়েছে পর্যাপ্ত উপকরণের অভাবও।
ডা. ইসমাইল হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুহিন হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরাও যে ক্রিকেট খেলতে পারে তার দৃষ্টান্ত এই স্কুলের ছাত্রীরা। সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে তারাও হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের ক্রিকেট তারকা।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, শখের বসে ক্রিকেটে নাম লেখানো মেয়েদের পাশে বিসিবির সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রয়োজন প্রশিক্ষণ আর ভাল কোচ।
পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হোসেন বাদশা বলেন, তৃণমূলের এই কিশোরীদের ক্রিকেটার তৈরিতে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর স্কুলের ছাত্রীদের মতো একদিন পাবনার ডা. ইসমাইল হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীরা দেশের সুনাম বয়ে আনবে এমন প্রত্যাশা সবার।
Reporter Name 
























