ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিন যে ১০ আমলে মনোযোগী হওয়া জরুরি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এ দিনের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। জুমাকে কেন্দ্র করে মুমিনদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এ দিনে কিছু বিশেষ আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন মুসলমানরা।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. ফজরের নামাজে নির্দিষ্ট দুটি সুরা তিলাওয়াত করা
জুমার দিনের ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) শুক্রবারের ফজরের নামাজে এ দুটি সুরা পড়তেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)
২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া
জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা, তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
৩. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের অন্যতম প্রধান আমল হলো জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুসলিম পুরুষের জন্য জুমার নামাজ ফরজ। বিনা ওজরে এ নামাজ ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের কর্তব্য।
৪. গোসল করে পরিচ্ছন্ন অবস্থায় মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের আগে গোসল করা এবং শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাহসম্মত আমল। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে আসে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)
৫. সুগন্ধি ব্যবহার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা
জুমার নামাজে যাওয়ার আগে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৮০)
৬. আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের জন্য যথাসম্ভব আগে মসজিদে পৌঁছানো ফজিলতপূর্ণ আমল। আগে গিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো যায়। এতে মনোযোগসহকারে ইবাদত করার পাশাপাশি খুতবা শোনার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)
৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও নীরব থাকা
ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। এমনকি অন্য কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ থাকো, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
৯. বেশি বেশি জিকির ও ক্ষমা প্রার্থনা করা
জুমার দিনে আল্লাহর জিকির করা, তওবা করা এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। মহানবী (সা.)-এর হাদিসে রয়েছে, কোনো মুসলিম উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে জুমার নামাজে এসে ইমামের নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকলে, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়—যদি সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৭২৯)
১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে প্রার্থনা করা
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে কোনো মুসলিম কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তা দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)
অনেক আলেমের মতে, দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা যেতে পারে।
জুমার দিনের এসব আমল পালনের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিন যে ১০ আমলে মনোযোগী হওয়া জরুরি

আপডেট টাইম : ০৬:৩৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এ দিনের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। জুমাকে কেন্দ্র করে মুমিনদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এ দিনে কিছু বিশেষ আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন মুসলমানরা।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. ফজরের নামাজে নির্দিষ্ট দুটি সুরা তিলাওয়াত করা
জুমার দিনের ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) শুক্রবারের ফজরের নামাজে এ দুটি সুরা পড়তেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)
২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া
জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা, তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
৩. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের অন্যতম প্রধান আমল হলো জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুসলিম পুরুষের জন্য জুমার নামাজ ফরজ। বিনা ওজরে এ নামাজ ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের কর্তব্য।
৪. গোসল করে পরিচ্ছন্ন অবস্থায় মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের আগে গোসল করা এবং শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাহসম্মত আমল। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে আসে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)
৫. সুগন্ধি ব্যবহার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা
জুমার নামাজে যাওয়ার আগে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৮০)
৬. আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের জন্য যথাসম্ভব আগে মসজিদে পৌঁছানো ফজিলতপূর্ণ আমল। আগে গিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো যায়। এতে মনোযোগসহকারে ইবাদত করার পাশাপাশি খুতবা শোনার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)
৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও নীরব থাকা
ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। এমনকি অন্য কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ থাকো, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
৯. বেশি বেশি জিকির ও ক্ষমা প্রার্থনা করা
জুমার দিনে আল্লাহর জিকির করা, তওবা করা এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। মহানবী (সা.)-এর হাদিসে রয়েছে, কোনো মুসলিম উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে জুমার নামাজে এসে ইমামের নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকলে, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়—যদি সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৭২৯)
১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে প্রার্থনা করা
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে কোনো মুসলিম কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তা দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)
অনেক আলেমের মতে, দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা যেতে পারে।
জুমার দিনের এসব আমল পালনের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।