ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
হামলা-দখল-চাঁদাবাজি থামবে কিভাবে: রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও অপরাধ মিলেমিশে আইটি ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘লগইন ইনটু ইন্ডাস্ট্রি নেক্সট’ টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অটোরিকশায় রক্তাক্ত মহাসড়ক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের অধিকার সুরক্ষার তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কবর দেওয়ার কত দিন পর একই কবরে দাফন করা যাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই: ডেপুটি স্পিকার ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন সারজিস-আসিফ-মিতু

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং দেশটি তার উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

আজ রোববার রাজধানীতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দ্বিতীয় দিনের সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, এই পটভূমিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের একটি অংশীদার হিসেবে দেখছে। দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দেখতে চায় ইইউ।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এলডিসি মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে দেখতে চায় তারা।

বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াকে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ও অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘মূল বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাবে, আমরা তার সঙ্গে তাল মেলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে বাহ্যিক চাপ, ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সামলে এগিয়ে যেতে পারে, আধুনিক হতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও সংযুক্ত থাকতে পারে—সেই লক্ষ্যেই ইইউর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

মাইকেল মিলার আরও বলেন, আজকের লেনদেনমুখী বিশ্বে নির্ভরযোগ্যতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা ও নীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলা-দখল-চাঁদাবাজি থামবে কিভাবে: রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও অপরাধ মিলেমিশে

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

আপডেট টাইম : ১২:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং দেশটি তার উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

আজ রোববার রাজধানীতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দ্বিতীয় দিনের সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, এই পটভূমিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের একটি অংশীদার হিসেবে দেখছে। দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দেখতে চায় ইইউ।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এলডিসি মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে দেখতে চায় তারা।

বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াকে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ও অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘মূল বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাবে, আমরা তার সঙ্গে তাল মেলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে বাহ্যিক চাপ, ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সামলে এগিয়ে যেতে পারে, আধুনিক হতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও সংযুক্ত থাকতে পারে—সেই লক্ষ্যেই ইইউর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

মাইকেল মিলার আরও বলেন, আজকের লেনদেনমুখী বিশ্বে নির্ভরযোগ্যতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা ও নীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।