ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের ৭ দিনের রিমান্ড মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত : জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ফোনের র‍্যাম বাড়াতে যা করবেন নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন সচিব পদে বড় রদবদল, পদোন্নতি, সংযুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

কৃষকদেরই দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ বললেন রাষ্ট্রপতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬২ বার

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘এই কৃষকদের সম্মান জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে সমিতির আট সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

রাষ্ট্রপতি এ সময় দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম, নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পান, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অচিরেই কৃষকেরা এর সুফল পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার জন্য সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় কৃষিঋণের সুদ, বিশেষ করে এনজিও থেকে গৃহীত ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তরোর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য

কৃষকদেরই দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ বললেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট টাইম : ১০:০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘এই কৃষকদের সম্মান জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে সমিতির আট সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

রাষ্ট্রপতি এ সময় দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম, নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পান, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অচিরেই কৃষকেরা এর সুফল পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার জন্য সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় কৃষিঋণের সুদ, বিশেষ করে এনজিও থেকে গৃহীত ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তরোর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।