ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার শাসনে গুম-ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল : স্পিকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার
শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ওই সময় বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপসহ প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এসব তিনি কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির শিকার হয়নি। ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার আলোকে গুম ও নির্যাতনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন।

‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সংঘটিত গুম ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিন গুম থাকার মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান তার আয়নাঘরে বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। অন্যদিকে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় প্রায় সাত মাস আটকে থাকার সময়ের অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন অমানবিক ও জঘন্য। বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের সঙ্গে তার নিজ দেশ রোমানিয়ার সাবেক শাসক নিকোলায়ে চউশেস্কুর নির্মম দমননীতির মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি এ দেশের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে উপস্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার শাসনে গুম-ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল : স্পিকার

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ওই সময় বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপসহ প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এসব তিনি কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির শিকার হয়নি। ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার আলোকে গুম ও নির্যাতনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন।

‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সংঘটিত গুম ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিন গুম থাকার মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান তার আয়নাঘরে বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। অন্যদিকে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় প্রায় সাত মাস আটকে থাকার সময়ের অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন অমানবিক ও জঘন্য। বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের সঙ্গে তার নিজ দেশ রোমানিয়ার সাবেক শাসক নিকোলায়ে চউশেস্কুর নির্মম দমননীতির মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি এ দেশের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে উপস্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।