ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের হাতে নতুন বিএনপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার

প্রতিষ্ঠার পর ৪৮ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছে তিন প্রজন্মের নেতৃত্ব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দল গড়েছেন, তার মৃত্যুর পর কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেছিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রায় ৪১ বছর বেশি সময় দলের চেয়ারপারসন হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বিদায়ের পর এখন দলের নেতৃত্ব তাদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমানের হাতে। শুরু হয়েছে বিএনপির নতুন যুগের পথচলা। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে নতুন নেতৃত্ব, তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা, সংগঠনকে গতিশীল করা এবং সরকারের বিদ্যমান নানা সংকট মোকাবিলা করে জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বর্তমানে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রেখে তারেক রহমান কতটা নতুন বিএনপি গড়ে তুলতে পারেন, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনায়।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলছেন, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে নানা সংকটে পড়লেও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দলের নেতাকর্মী সবারই সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে এখন। বিশেষ করে ২০০১ সালের পর চতুর্থবারের মতো আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে দলটি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি বিপুল আসনে জয়লাভ করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের ৬ মাস পর এবার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবেন নেতাকর্মীরা। তাই তাদের মধ্যেও বাড়তি উন্মাদনা থাকবে স্বাভাবিক। কিন্তু এ সুসময় যাতে অসময়ে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছেন তারা। তাদের মতে, বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। কারণ সরকারের সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা অন্য যে কোনো জাতীয় দিবসে নেত্রীকে পাশে পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকতেন তারা, তাকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ এবং নানা কর্মসূচি পালন করা—সবকিছুতে তাকে ঘিরেই ছিল আমাদের প্রেরণা ও উদ্দীপনা। এবার সেটি নেই। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক দলের জন্য। তবে তাদেরই উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনিও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মতোই খুব সাধারণ জীবনযাপন করছেন। তার জীবনযাপন ও চলাফেরা একজন সাধারণ মানুষের মতোই। তিনি সেভাবেই তার কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করছেন। এ কারণে জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণরাও বিএনপির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেও অনেক মেধাবী তরুণ বিএনপির রাজনীতিতে এসেছিলেন। আমাদের পরও অনেক তরুণ রাজনীতিতে এসেছেন, এটা এখন দৃশ্যমান। আশা করি, আগামী দিনে এ ধারা আরও বাড়বে। তারেক রহমানের হাত ধরে তরুণ মেধাবীরা রাজনীতিতে যোগদান করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বিশেষ করে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আওয়ামী লীগের আমলে গুম-খুনের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও চব্বিশের গণহত্যার বিচার করাই এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলের সুনাম ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পরপরই সংকট, জিয়ার হত্যাকাণ্ড, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, একাধিকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন হন। প্রায় ৪১ বছরের বেশি সময় তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত মুক্ত হন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে ওই দিনই তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর দলটির স্থায়ী কমিটির সব ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে সভাপতিত্ব করেছেন তারেক রহমান। দলের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তারেক রহমান।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারাগারে তার ওপর চরম অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডনে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি দেশে ফেরেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপি যে রাজনৈতিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা তারেক রহমানের সামনে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালবেলাকে বলেন, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং বিএনপির ৩১ দফার সমন্বয়েই দলের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। তবে বিগত সরকারের ব্যর্থতার কিছু বিষয় এখনো রয়ে গেছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, দ্রব্যমূল্যও সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। নিজের জীবনের সুখ-আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি অটল ছিলেন। তার সেই দৃঢ়তা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাহসী নেতৃত্ব ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমকে সামনে রেখেই বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু স্লোগাননির্ভর রাজনীতি নয়, কাজের মাধ্যমে স্লোগানের বাস্তবায়ন করে জনগণকে দেখাতে হবে।

তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করতে শুধু বিএনপিকে ব্যবহার করছেন না; বরং বিএনপিকে পাশে রেখে সরকারের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই মধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হয়েছে। দলীয় পরিসরের বাইরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তরুণদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করার কাজ এখনো সেভাবে শুরু হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের হাতে নতুন বিএনপি

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিষ্ঠার পর ৪৮ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছে তিন প্রজন্মের নেতৃত্ব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দল গড়েছেন, তার মৃত্যুর পর কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেছিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রায় ৪১ বছর বেশি সময় দলের চেয়ারপারসন হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বিদায়ের পর এখন দলের নেতৃত্ব তাদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমানের হাতে। শুরু হয়েছে বিএনপির নতুন যুগের পথচলা। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে নতুন নেতৃত্ব, তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা, সংগঠনকে গতিশীল করা এবং সরকারের বিদ্যমান নানা সংকট মোকাবিলা করে জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বর্তমানে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রেখে তারেক রহমান কতটা নতুন বিএনপি গড়ে তুলতে পারেন, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনায়।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলছেন, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে নানা সংকটে পড়লেও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দলের নেতাকর্মী সবারই সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে এখন। বিশেষ করে ২০০১ সালের পর চতুর্থবারের মতো আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে দলটি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি বিপুল আসনে জয়লাভ করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের ৬ মাস পর এবার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবেন নেতাকর্মীরা। তাই তাদের মধ্যেও বাড়তি উন্মাদনা থাকবে স্বাভাবিক। কিন্তু এ সুসময় যাতে অসময়ে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছেন তারা। তাদের মতে, বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। কারণ সরকারের সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা অন্য যে কোনো জাতীয় দিবসে নেত্রীকে পাশে পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকতেন তারা, তাকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ এবং নানা কর্মসূচি পালন করা—সবকিছুতে তাকে ঘিরেই ছিল আমাদের প্রেরণা ও উদ্দীপনা। এবার সেটি নেই। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক দলের জন্য। তবে তাদেরই উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনিও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মতোই খুব সাধারণ জীবনযাপন করছেন। তার জীবনযাপন ও চলাফেরা একজন সাধারণ মানুষের মতোই। তিনি সেভাবেই তার কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করছেন। এ কারণে জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণরাও বিএনপির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেও অনেক মেধাবী তরুণ বিএনপির রাজনীতিতে এসেছিলেন। আমাদের পরও অনেক তরুণ রাজনীতিতে এসেছেন, এটা এখন দৃশ্যমান। আশা করি, আগামী দিনে এ ধারা আরও বাড়বে। তারেক রহমানের হাত ধরে তরুণ মেধাবীরা রাজনীতিতে যোগদান করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বিশেষ করে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আওয়ামী লীগের আমলে গুম-খুনের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও চব্বিশের গণহত্যার বিচার করাই এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলের সুনাম ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পরপরই সংকট, জিয়ার হত্যাকাণ্ড, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, একাধিকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন হন। প্রায় ৪১ বছরের বেশি সময় তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত মুক্ত হন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে ওই দিনই তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর দলটির স্থায়ী কমিটির সব ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে সভাপতিত্ব করেছেন তারেক রহমান। দলের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তারেক রহমান।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারাগারে তার ওপর চরম অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডনে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি দেশে ফেরেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপি যে রাজনৈতিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা তারেক রহমানের সামনে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালবেলাকে বলেন, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং বিএনপির ৩১ দফার সমন্বয়েই দলের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। তবে বিগত সরকারের ব্যর্থতার কিছু বিষয় এখনো রয়ে গেছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, দ্রব্যমূল্যও সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। নিজের জীবনের সুখ-আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি অটল ছিলেন। তার সেই দৃঢ়তা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাহসী নেতৃত্ব ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমকে সামনে রেখেই বিএনপিকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু স্লোগাননির্ভর রাজনীতি নয়, কাজের মাধ্যমে স্লোগানের বাস্তবায়ন করে জনগণকে দেখাতে হবে।

তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করতে শুধু বিএনপিকে ব্যবহার করছেন না; বরং বিএনপিকে পাশে রেখে সরকারের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই মধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হয়েছে। দলীয় পরিসরের বাইরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তরুণদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করার কাজ এখনো সেভাবে শুরু হয়নি।