ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

নির্দিষ্ট দিনেই হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩ বার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের পর নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে সবাই একমত হন।

বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যুবক, প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় নদীভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিবাদকারীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা সরেজমিনে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নৌকাবাইচের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করার কথা ছিল।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌকা বাইচের সঙ্গে তৌহিদী জনতার বিষয়টি কেউ জড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সুন্দর পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে নৌকা বাইচ আয়োজনে একমত হয়েছি।

তিনি বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে—এমন স্থান থেকে নৌকাবাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে। নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনের পর সুযোগ থাকলে নৌকাবাইচের জায়গা কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাড়াও লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ ১২ সদস্যের কমিটি স্থানটি পরিদর্শন করবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা ও ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।ইউএনও আরো বলেন, বিষয়টি দেখভালের জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচের আয়োজকদের সতর্কতার সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা হবে না।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ও সময়ে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

নির্দিষ্ট দিনেই হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ

আপডেট টাইম : ১১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের পর নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে সবাই একমত হন।

বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যুবক, প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় নদীভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিবাদকারীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা সরেজমিনে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নৌকাবাইচের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করার কথা ছিল।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌকা বাইচের সঙ্গে তৌহিদী জনতার বিষয়টি কেউ জড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সুন্দর পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে নৌকা বাইচ আয়োজনে একমত হয়েছি।

তিনি বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে—এমন স্থান থেকে নৌকাবাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে। নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনের পর সুযোগ থাকলে নৌকাবাইচের জায়গা কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাড়াও লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ ১২ সদস্যের কমিটি স্থানটি পরিদর্শন করবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা ও ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।ইউএনও আরো বলেন, বিষয়টি দেখভালের জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচের আয়োজকদের সতর্কতার সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা হবে না।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ও সময়ে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।